৮ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১০ই মহর্‌রম, ১৪৪৪ হিজরি

আঁটোসাঁটো বোলিং বাংলাদেশের, প্রতিরোধ শ্রীলঙ্কার


| PhotoNewsBD

২৩ এপ্রিল, ২০২১, ৯:২৪ অপরাহ্ণ

উইকেটে সবুজের আচ্ছাদন দেখে ঝলমল হয়ে উঠেছিল শ্রীলঙ্কার পেসারদের চোখ। কিন্তু তাদের ভুল ভেঙে যায় অতিথি দলের ব্যাটিং দৃঢ়তায়। সঙ্গে উইকেট থেকে বাড়তি সুবিধা না হাওয়ার হাহাকার তো ছিলই।ফলাফল বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে রানের পাহাড়।

জবাবে তৃতীয় দিন যেখানে থেকে শেষ করলো স্বাগতিকরা তাতে বলাই যায়, অকল্পনীয় কিছু না হলে ড্রয়ের পথে যাচ্ছে ক্যান্ডি টেস্ট! বাংলাদেশের আঁটোসাঁটো বোলিংয়ে প্রতিরোধ গড়ে শ্রীলঙ্কার রান ৩ উইকেটে ২২৯। এর আগে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ৫৪১ রানে। প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকরা ৩১২ রানে পিছিয়ে।

নতুন বলে পেসাররা চাপে রেখেছিলেন দুই বাঁহাতি ওপেনার করুনারত্নে ও থিরিমান্নেকে। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ব্যাটসম্যানরা ছিলেন এলোমেলো। বাংলাদেশ সাফল্য পেয়ে যেত শুরুতেই। তাসকিন দারুণ এক ডেলিভারিতে থিরিমান্নের প্যাডে আঘাত করেছিলেন। জোরালো আবেদনে সাড়া দিয়েছিলেন কুমার ধর্মাসেনা। কিন্তু রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

বিরতির পর বোলাররা পথ হারায়। ব্যাটসম্যানরা ফিরে পান নিজেদের। লাইন লেন্থে তালগোল পাকিয়ে হরহামেশা বাউন্ডারি বল দিয়েছেন পেসাররা। সেগুলো কাজে লাগিয়েছেন থিরিমান্নে ও করুণারত্নে। পেসারদের বোলিংয়ে এনে সাফল্য না পাওয়ায় মুমিনুল কাজে লাগান দুই স্পিনার মিরাজ ও তাইজুলকেও। কিন্তু ওপেনিং জুটি ভাঙতে বেগ পেতে হচ্ছিল বাংলাদেশকে।

১০৪ বলে জুটির পঞ্চাশ এবং ১৮৫ বলে শতরান চলে আসে। উইকেটের খোঁজে থাকা বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায় চা-বিরতির ঠিক আগে। অফস্পিনার মিরাজ ভাঙেন উদ্বোধনী জুটি। মিরাজের সোজা বল ফরোয়ার্ড ডিফেন্স করতে গিয়ে বল মিস করেন ৮ চারে ৫৮ রান করা থিরিমান্নে। বাংলাদেশের এলবিডব্লিউর আবেদনে আঙুল তোলেন ধর্মাসেনা। এবারও রিভিউ নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলেন তবে এবার ভাগ্য পাশে থাকেনি।

চা-বিরতির পর ১০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ আরও ২ উইকেট তুলে নেয়। নিজের তৃতীয় স্পেলে বোলিংয়ে এসে তাসকিন ফেরান ওশাদা ফার্নান্দোকে। ডানহাতি পেসারের লেগ স্টাম্প দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার বলে খোঁচা মেরে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২০ রান করা ওশাদা। দলে ফেরা ম্যাথুজ দ্রুত রান তুলে এগিয়ে নিচ্ছিলেন স্কোরবোর্ড। বাউন্ডারির বল পাচ্ছিলেন। সেগুলো কাজে লাগাচ্ছিলেন ভালোভাবে। কিন্তু তাইজুলের সোজা বল ভুল শট খেলতে গিয়ে বিপদ ডেকে আনেন তিনি। কাট করতে গিয়ে সোজা বল মিস করে বোল্ড হন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান।

শেষ বিকেলে বাংলাদেশের হতাশা বেড়েছে করুণারত্নের হাফ চান্সগুলো পরিণত না হওয়ায়। তাইজুলের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়েছিলেন। কিন্তু বল ছিল নাগালের বাইরে। আবার তার বলেই এলবিডব্লিউ হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু বলের ইমপ্যাক্ট উইকেটে না থাকায় বেঁচে যান লঙ্কান অধিনায়ক। শেষ পর্যন্ত ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন তিনি। সঙ্গী ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান।

এর আগে তৃতীয় দিনের সকালের সেশনে ১৮ ওভারে ৬৭ রান যোগ করে ৭ উইকেটে ৫৪১ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। অতিথিরা ব্যাটিং করেছে মোট ১৭৩ ওভার। যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় দীর্ঘতম ইনিংস। ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজেদের সর্বোচ্চ ৬৩৮ রান তুলতে ১৯৬ ওভার খেলেছিল বাংলাদেশ।

১৫৬ বলে ৬ চারে ৬৮ রানে অপরাজিত থাকেন মুশফিক। সঙ্গী তাসকিন আহমেদ মাঠ ছাড়েন ৯ বলে ৬ রানে। সকালের সেশনে দ্রুত রান তোলার দিকে মনোযোগ ছিল বাংলাদেশের। লিটন প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেও মুশফিক ছিলেন বিপরীত। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে যান বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল ব্যাটসম্যান। লিটন ৬৬ বলে ক্যারিয়ারের নবম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে পরের বলে আউট হন। আর মুশফিক ৬৮ রানের ইনিংস খেলার পথে তামিম ইকবালকে টপকে আবারও টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের মুকুট দখল করেন। তার রান ৪৬০৫, তামিমের ৪৫৯৮।

মিরাজ ও তাইজুলের ইনিংস বড় হয়নি। মিরাজ ৩ ও তাইজুল ২ রানে ফেরেন ভিশ্ব ফার্নান্দোর বলে। ৪ উইকেট নিয়ে বাঁহাতি পেসার শ্রীলঙ্কার সেরা বোলার।

টেস্টে ফল পেতে হলে বাংলাদেশের বোলিংয়ের ধার আরও বাড়াতে হবে। সুযোগগুলোও কাজে লাগাতে হবে। নয়তো পাল্লেকেলের ২২ গজ যেমন ব্যাটিং স্বর্গ হয়ে আছে সেখানে লঙ্কান ব্যাটসম্যানরাও দাপট দেখাবে।