১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

আইনমন্ত্রী বললেন বাট আই অ্যাম নট হ্যাপি


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৯ নভেম্বর, ২০২১, ১১:১৪ অপরাহ্ণ

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিরুদ্ধে আদাল‌তের রা‌য়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘অন্যায় করলে তার বিচার হবেই, সে যেই হোক। এ রায়ের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে। এটা খুব প্রয়োজন ছিল। বাট আই অ্যাম নট হ্যাপি। কারণ তিনি বিচার বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। উনি প্রধান বিচারপতি ছিলেন, আমি একজন আইনজীবী। আমি বিচার বিভাগের সঙ্গে সারাজীবন সম্পৃক্ত, আমার জন্য এটা সুখকর হতে পারে না।’

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আনিসুল হক ব‌লেন, সাবেক প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায়, আদালত যে রায় দিয়েছেন; তাতে প্রমাণিত হয়েছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।

তি‌নি বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন অপরাধ কোনো বিচারপতি করেননি। সেজন্য এমন বিচার করার প্রয়োজন হয়নি। অন্যায় হলে নিশ্চয়ই বিচার হতো। পৃথিবীতে এমন বিচারের অনেক নজির আছে। যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে দেখুন, সেখানে প্রধান বিচারপতিকে বিলোটিং করা হয়েছে। সেটা এখানে বড় কথা নয় এবং সেটাকে উদাহরণ হিসাবেও আনা উচিত নয়।’

সরকারের কথার বাইরে না গেলে সিনহাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হতো না- বি‌রোধী‌দের এমন প্রশ্নে আনিসুল হক বলেন, ‘কথাটা একেবারেই সত্য নয়। যারা এমন কথা বলছেন, তারা সরকারের শুধুই সমালোচনা করার জন্য এগুলো বলে বেড়াচ্ছেন। এ ধরনের কথাবার্তার কোনো সারমর্ম নেই।’

তি‌নি বলেন, ‘যেকোনো সাংবিধানিক পদ বা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে থাকলেও তার কর্মকাণ্ডের হিসাব দিতে হবে। সেক্ষেত্রে আমার মনে হয় এটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো। ট্রান্সপারেন্সি ও অ্যাকাউন্টিবিলিটি সবসময় মেইনটেইন করা উচিত।’

অন্যায় করলে শাস্তি পেতে হবে। অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে, আদালত বিচার করেছেন। ১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আমরা দেখেছি, এ দেশে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হলেও কোনো মামলা হয়নি। এ সংস্কৃতি থেকে আমরা বেরিয়ে এসেছি। পর্যায়ক্রমে বঙ্গবন্ধু হত্যা, জেলহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসহ অন্যান্য দুর্নীতির মামলার বিচার হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হয়েছে- জানান মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহাকে ১১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এরমধ্যে মানি লন্ডারিংয়ে সাত এবং অর্থ আত্মসাৎ মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।