২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ


| PhotoNewsBD

২৩ জুন, ২০১৯, ১২:০৯ অপরাহ্ণ

২৩ জুন। আজ দেশের প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ৭০ বছর নিছক কোনো সংখ্যা নয়, একটি জাতির, বিশাল জনগোষ্ঠীর নিরন্তর লড়াই-সংগ্রাম, টিকে থাকা, সর্বোপরি এগিয়ে যাওয়ার ইতিহাসও। এই ইতিহাস এক প্রদীপ্ত শিখার। যে শিখার বিচ্ছুরণে উদ্ভাসিত দেশ-বিদেশ। বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আওয়ামী লীগের ইতিহাস। বাঙালি জাতির মুক্তি ও অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে পুরান ঢাকার কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে ১৯৪৯ সালের এই দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। ১৯৫৫ সালে যে দলটি বাঙালি জাতীয়তাবাদী ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে অবলম্বন করে নাম বদলে হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। তৎকালীন স্বাধিকারের প্রশ্নে তুখোড় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জেলে বন্দি থাকা অবস্থায়ই দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। দলটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ ভূখণ্ডের প্রতিটি প্রাপ্তি ও অর্জনের পেছনে ছিল আওয়ামী লীগের কুশলী ও বেগবান নেতৃত্ব।

 

১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২’র আইয়ুবের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৪’র দাঙ্গার পর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, ১৯৬৬’র ছয়দফা আন্দোলন, ১৯৬৯’র গণঅভ্যুত্থানসহ সব আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল আওয়ামী লীগের সুদৃঢ় নেতৃত্ব। ১৯৭০’র নির্বাচনে বাঙালি জাতি নিরঙ্কুশ রায় দেয় আওয়ামী লীগের পক্ষে। ইতিহাসের পথপরিক্রমায় আসে ১৯৭১’র ৭ মার্চ। ঢাকার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণায় বলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেই ১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি পেয়েছে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ। গোটা লড়াইয়ের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

 

আজ রোববার দেশজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাণীতে তিনি বলেন, বাঙালি জাতির প্রতিটি মহৎ, শুভ ও কল্যাণকর অর্জনে আওয়ামী লীগের ভূমিকা রয়েছে। জনগণই আওয়ামী লীগের শক্তি। ভবিষ্যতেও আওয়ামী লীগ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত, সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত ও আধুনিক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করবে।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। শ্রদ্ধায়-ভালোবাসায় স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক সামসুল হকসহ অন্যদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন শেখ হাসিনা।

 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ইতিহাসের কাঁটা ঘুরেছে উল্টোপথে। অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের পর নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশে শুরু হয় গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা। দীর্ঘ ২১ বছর পরে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ। এরপর সাময়িক বিরতি। বর্তমানে টানা তৃতীয় দফায় সরকার গঠন করে দেশ চালাচ্ছে দলটি। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত স্বপ্নপূরণসহ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কাজ করে চলেছেন দলটির নেতৃত্বে থাকা বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা।

 

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। রাজধানী এবং জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এসব কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।