২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

আবারো শ্রীমঙ্গলের মেয়র মহসিন মধু


স্টাফ রিপোর্টার: | PhotoNewsBD

২৮ নভেম্বর, ২০২১, ৮:২৬ অপরাহ্ণ

অষ্টম ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ইভিএম-এর মাধ্যমে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে।

নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী সৈয়দ মনসুরুল হককে ৫৫৯ ভোটে পরাজিত করেছেন বর্তমান মেয়র ও বর্তমান মেয়র মহসিন মিয়া মধু। নারিকেল মার্কা নিয়ে তিনি ভোট পেয়েছেন মোট ৫৯৮৯টি এবং নৌকার প্রার্থী পেয়েছেন ৫৪৩০টি। বেসরকারি ভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে রিটার্নিং অফিসারের কন্ট্রোল রুম।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় এই প্রথমবার ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মেয়র পদে তিনজন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩১ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। মেয়র প্রার্থীরা ছিলেন- বিএনপি নেতা ও বর্তমান মেয়র স্বতন্ত্র প্রার্থী মহসিন মিয়া মধু , আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ মনসুরুল হক ও আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আছাদ উদ্দিন আহমদ।

২০১১ সালে অনুষ্ঠিত হয়েছিল শ্রীমঙ্গল পৌরসভা নির্বাচন। এরপর মেয়াদ শেষ হলেও নানা আইনি জটিলতার কারণে নির্বাচন হয়নি। প্রায় ১১ বছর পর শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যে-কারণে নির্বাচন হয়নি – শ্রীমঙ্গল পৌরসভায় ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়াদপূর্ণ হয়। সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি। বিজয়ীরা একই বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি শপথ নিয়ে এর দুইদিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা হয়। এই নির্বাচনে ভাতিজা মহসিন মিয়া মধু নিকট হেরে যান প্রয়াত চাচা সাবেক এমপি ও পৌর মেয়র মো. আহাদ মিয়া। সেই থেকে দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মহসিন মিয়া মধু মেয়র পদে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ১৯৩৫ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯২৩ সালের আসাম মিউনিসিপ্যাল এ্যাক্ট এর বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠা হয় এই পৌরসভা। দুই দশমিক ৫৮ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভা দেশ স্বাধীনের পর ‘গ’ শ্রেণীতে রূপান্তর হয়। এরপর ১৯৯৪ সালের ১ জুলাই ‘খ’ শ্রেণীতে ২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ‘ক’ শ্রেণীতে উন্নীত হয়। কিন্তু সীমানা বর্ধিত করা হয়নি। ২০১৫ সালে কাজী মো. আব্দুল আজিজ সীমানা বর্ধিতকরণের জন্য উচ্চ আদালতে একটি রিট দায়ের করেন। রিট পিটিশন নং-৮৬৭৫/২০১৫। প্রায় একই সময়ে জাহাঙ্গীর হোসেন নামের আরেকজন একই বিষয়ে আরেকটি রিট করেন। রিট পিটিশন নং-৮৯২৩/২০১৫। এরপর উচ্চ আদালতের নির্দেশে সীমানা বর্ধিতকরণের কার্যক্রম শুরু হয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একটি ডিজিটাল ম্যাপও তৈরি করে। সীমানা বর্ধিতকরণের কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রীমঙ্গল পৌরসভার বয়স প্রায় ৮৬ বছর।