১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

ইতিহাস গড়ে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে বাংলাদেশ


| PhotoNewsBD

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৯:০২ পূর্বাহ্ণ

ইতিহাস গড়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠলো বাংলাদেশ। সেমিতে নিউজিল্যান্ডকে হারিয়েছে ৬ উইকেটে। একইদিন আসরে প্রথম সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন কোনও বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৮ উইকেটে ২১১ রান করে জুনিয়র ব্ল্যাকক্যাপস। ৭৫ রানে অপরাজিত ছিলেন বেকহ্যাম হুইলার গ্রিন্যাল। ৪৪ করেন নিকোলাস লিডস্টোন। শরিফুল ইসলাম ৩ এবং শামীম হোসেন ও হাসান মুরাদ নেন দুইটি করে উইকেট।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩ বল আগে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের। ৪ উইকেটে করে ২১৫ রান। আসরে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন মাহমুদুল হাসান।

এবার ক্রিকেটে নতুন লক্ষ্য যুব বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। যে প্রত্যাশায় ১৬ দল শুরু করেছিল লড়াই। শেষ পর্যন্ত শেষ দুই দলের একটি বাংলাদেশ। প্রথমবার আইসিসি বৈশ্বিক আসরে শিরোপা লড়াইয়ে লাল-সবুজ।

পচেফস্ট্রুমে জয়েই দিন শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের। টস জিতে জুনিয়র কিউইদের ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন অধিনায়ক আকবর আলী। টাইগার বোলারদের দাপটে ৫ রানে ভাঙে নিউজিল্যান্ডের ওপেনিং জুটি। একে একে চতুর্থ উইকেটের যখন পতন হয়, তখন ব্ল্যাকক্যাপদের সংগ্রহ ৭৪ রান। উইকেট হারিয়ে যেমন ভুগেছে নিউজিল্যান্ড, নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ভুগেছে রান তুলতেও।

নিকোলাস লিডস্টোন-হুইলার গ্রিন্যালের ৬৭ রানের জুটিই ইনিংসে আশার আলো কিউইদের। শরিফুলের প্রথম শিকার হয়ে ৪৪ কোরে ফিরতে হয়েছে লিডস্টোনকে। যদিও শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে গেছেন গ্রিন্যাল। অপরাজিত ছিলেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৫ করে।

শরিফুলের তিন এবং শামীম হোসেন ও হাসান মুরাদের দুইটি করে নেয়া উইকেট, প্রতিপক্ষকে অলআউট করার স্বপ্ন দেখালেও শেষ পর্যন্ত অবশ্য তা হয়নি। ৮ উইকেটে ২১১ রানে থামে নিউজিল্যান্ড।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানের মধ্যে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেনের উইকেট হারিয়ে, যে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল, তা মুছে দিয়েছেন মাহমুদুল হাসান-তৌহিদ হৃদয়। খুব সংক্ষেপে বললে- শুধু মাহমুদুল হাসান। আসরে বাংলাদেশের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান তিনি। ম্যাচসেরা ব্যাটসম্যানের ১০০ রানের ইনিংসে ভর করেই ৩৫ বল হাতে রেখে জয় নিশ্চিত হয়েছে টাইগারদের।

মাহমুদুলের সাথে ৬৮ রানের জুটি গড়া হৃদয় অর্ধশতকের কাছে গিয়ে থেমেছেন। আউট হয়েছেন ৪০ করে। শাহাদত হোসেনেও অবদান ৪০। শেষ পর্যন্ত ক্রিজে থেকে যিনি মাঠ ছেড়েছেন বিজয় উল্লাস করে।

শিরোপা লড়াইয়ে উঠেই ক্রিকেটে নিজেদের আগের সব অর্জনকে ছাড়িয়ে গেছেন যুবারা। পচেফস্ট্রুমেই রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) অলএশিয়া ফাইনাল। আসরে এখনও হারেনি যে দুই দল। যুব বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দলটির মুখোমুখি হবে জুনিয়র টাইগাররা। নিষ্পত্তি হবে ভারতের পঞ্চম, না-কি বাংলাদেশের প্রথম শিরোপা?