১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

ঈদযাত্রা!


নিউজ ডেস্ক | PhotoNewsBD

৩১ মে, ২০১৯, ১২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদুল ফিতরের বাকি আছে আর ৫-৬ দিন। এরই মধ্যে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। ঈদের ছুটি এখনো শুরু না হলেও সরকারি অফিসগুলোয় এক ধরনের ছুটির আমেজ শুরু হয়ে গেছে।

 

শুক্রবার এবং শনিবার সাপ্তাহিক সরকারি ছুটি। পরদিন রোববার শবেকদরের সরকারি ছুটি। এরপরে ৩ জুন এক দিন অফিস খোলা। এরপরে ৪ থেকে ৬ জুন ঈদের সরকারি ছুটি আর ৭ ও ৮ জুন শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ৩ জুন সরকারি অফিস খোলা থাকলেও আজ থেকে টানা তিন দিন সরকারি অফিস ছুটি। যারা ৩ জুন অফিস থেকে ছুটি ম্যানেজ করতে পেরেছেন তারা টানা ৯ দিনের ছুটি ভোগ করবেন। তাদের অনেকে বৃহস্পতিবারই গ্রামের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বাস, লঞ্চ ও রেলস্টেশনে। গতকাল এসব স্টেশনগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকেই স্টেশনগুলোয় লোকজনের ভিড় বেড়েছে। গতকাল বিকাল থেকেই সদরঘাটে দক্ষিণাঞ্চলগামী লোকদের ভিড় বাড়ে। যারা আগে থেকেই লঞ্চে কেবিন ঠিক করে রেখেছেন তারা নির্বিঘ্নেই যাচ্ছেন। কিন্তু যারা আগে কেবিন ঠিক করে রাখেননি তারা কেবিন না পেয়ে ডেকে বসেই ঢাকা ছাড়ছেন।

 

এদিকে রাজধানীর গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদ ও গুলিস্তান বাসস্ট্যান্ডে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুপুরের পর থেকেই এসব স্ট্যান্ডে লোকের ভিড় বাড়তে শুরু করে। অনেকে আগে থেকেই বাসের টিকিট কেটে রেখেছেন। আবার যারা টিকিট আগে কেটে রাখতে পারেননি তারা বিভিন্ন কৌশলে টিকিট ম্যানেজ করে বাড়ি ছুটছেন।

 

কিছু যাত্রী জানিয়েছেন, বাসের টিকিট পেতে অনেক ঝক্কি-ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। এবার নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারলেই শান্তি। গাইবান্ধার যাত্রী আসাদ বললেন, বেশি টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হয়েছে। সঙ্গে ভোগান্তি তো ছিলই। বছরে একবার বাড়ি যাই। তাই ভোগান্তির বিষয়গুলো মেনে নেওয়া ছাড়া কি করার আছে।

 

দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, লঞ্চে যাত্রী সংখ্যা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে। তবে এখনো বড় ধরনের চাপ এখনো শুরু হয়নি। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও ঘাটসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঈদে ঘরমুখো মানুষের দৌলতদিয়া ঘাটে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে হবে না। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, এবার ঈদে যাত্রী পারাপারের জন্য ২০টি ফেরি এরই মধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। সেগুলো অলরেডি চলতে শুরু করেছে। তাই আমরা আশা করছি, এবার ঈদে ঘাটে কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না যাত্রীদের। দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. নুরুল আনোয়ার বলেন, ঈদে যাত্রী পারাপারে আমরা ৩৪টি লঞ্চ প্রস্তুত রেখেছি। যদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে কোনো সমস্যা হবে না।

 

এদিকে ঈদ উপলক্ষে আনুষ্ঠানিক ট্রেন সার্ভিস আজ থেকে শুরু হলেও গতকালও কমলাপুরে যাত্রী চাপ বেশ লক্ষ করা গেছে। প্রায় প্রতিটি ট্রেনেই ছিল বেশ ভিড়। যারা আগেভাগে ছুটি পেয়েছেন তাদের আর ডানে-বামে তাকানোর সুযোগ নেই। চোখ বন্ধ করে একদম বাড়ির পথে। আর চাকরি নিয়ে যারা ছুটির বিড়ম্বনায় আছেন তারা পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তি কমাতে একটু আগেই প্রিয়জনদের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন।

 

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ বছর মোট টিকিটের ৫০ ভাগ বরাদ্দ ছিল অনলাইনে। অর্থাৎ রেলওয়ের করা নতুন অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই টিকিট কাটার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বাকি ৫০ ভাগ টিকিট পাওয়া যায় কাউন্টারে। এর মধ্যে ৫ ভাগ ভিআইপি কোটা, আরও পাঁচ ভাগ বরাদ্দ রাখা হয় রেলওয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। তবে ট্রেনের টিকিট বিক্রির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনলাইনে টিকিট না পাওয়ার অভিযোগ করেন যাত্রীরা। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ২২ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত পাঁচ দিন ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়। ঈদ-পরবর্তী ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি ২৯ মে থেকে শুরু হয়ে চলবে ২ জুন পর্যন্ত। ৯৫টি আন্তঃনগর ট্রেনের প্র্রতিদিন বিক্রি হয় প্রায় ৭০ হাজার টিকিট। এবারের ঈদযাত্রায় আট জোড়া স্পেশাল ট্রেন যুক্ত হয়েছে। এ ছাড়া গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলস্টেশন থেকেও অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়।

 

এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ঈদের প্রায় পাঁচ দিন আগে ৩১ মে থেকে রেলওয়েতে ট্রেনের কোনো ডে-অফ থাকবে না। ফলে ৪৮টি বিশেষ ট্রিপ পরিচালিত হবে।