১৩ই আগস্ট, ২০২০ ইং | ২৯শে শ্রাবণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলহজ্জ, ১৪৪১ হিজরী

উপহারের ঝুড়ি


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৮ জুন, ২০২০, ৪:২৪ অপরাহ্ণ

একটি প্লাস্টিকের ঝুড়ি। রাখা হয়েছে মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজ নামের মুদি দোকানের সামনে। তার মধ্যে রয়েছে চাল ডালসহ কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম। ভাবলাম এটি দোকানির পণ্য বিক্রির কৌশল। কিছুক্ষণেই পর ধারণাটি ভুল প্রমানিত হলো। দোকান থেকে একজন ক্রেতা বের হলেন। সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে এক প্যাকেট নুডুলস রাখলেন ঝুড়িতে। অবাক হলাম! এরপর আরেকজন ক্রেতাও একইভাবে রাখলেন চাল। জানতে ইচ্ছা হলো, ঝুড়িটি সম্পর্কে।

কাছে গেলাম। দেখলাম, বড় করে লেখা আছে ‘উপহারের ঝুড়ি’। ‘আমরা করব দান, অভুক্ত থাকবে না আরেকটি প্রাণ’ কথাগুলোও সেখানে লেখা রয়েছে। কৌতুহল নিয়ে ঝুড়ি সম্পর্কে জানতে চাইলাম দোকানির কাছে।

তিনি জানালেন, করোনায় অসহায় ও দুস্থদের সহায়তা করতে স্থানীয় কয়েকজন তরুণ উদ্যোগটি নিয়েছেন।

দৃশ্যটি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়নের মধ্য সাগরদী গ্রামের। শুধু এখানেই নয়, আশপাশের আরো কয়েকটি দোকানের সামনে রয়েছে এমন ঝুড়ি।

ব্যতিক্রমী এ কাজটির উদ্যোক্তা রাসেল পাটোয়ারি বললেন, ‘দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় বেশিরভাগ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। করোনার এ দুর্যোগ মুহূর্তে অনাহারিদের সাহায্যর লক্ষ্যেই কয়েকজন তরুণকে নিয়ে এই উদ্যোগ। উপহারের ঝুড়ির মাধ্যমে খাবার সংগ্রহ করছি। পরবর্তীতে সেগুলো পৌঁছে দিচ্ছি দুস্থদের ঘরে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সহযোগিতা করার ইচ্ছা রয়েছে অনেকের। তবে সামর্থ্য না থাকায় তা করতে পারছে না। কিন্তু এ ঝুড়িতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দানের মাধ্যমে সেটি সম্ভব হচ্ছে। অনেকের দান করা খাদ্য সামগ্রীগুলো একত্রিত করে বিতরণ করা হচ্ছে অভুক্ত পরিবারের মাঝে।’

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ৬টি দোকানের সামনে এই ঝুড়ি স্থাপন করেছেন। আর গত ১৯ দিনে ২০ জনেরও বেশি দুস্থের মাঝে উপহারগুলো পৌঁছে দিতে পেরেছেন। যার মধ্যে বেশিরভাগ পরিবারই পায়নি সরকারি ও ধর্ণাঢ্যদের সহযোগিতা।

মা-বাবার দোয়া এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জামাল হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক দোকানের সামনে উপহারের ঝুড়িটি স্থাপন করেন। এরপর থেকে দোকানে আসা অধিকাংশ ক্রেতা চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যগুলো দান করছে। তিনি নিজেও ঝুড়িতে পণ্য দানে মানুষকে উৎসাহিত করছেন।

স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক মাওলানা দাউদ আলম বললেন, ‘নিঃসন্দেহে এটি ভালো উদ্যোগ। সংকটকালীন এ সময় অনেকে নগদ অর্থ সহযোগিতা করতে পারছেন না। তবে এ উপহারের ঝুড়ির মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করে দান করতে পারছেন।