২৮শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

কিভাবে বিপদ মোকাবেলা করবেন?


আশরাফ আলী: | PhotoNewsBD

২১ মে, ২০২০, ৪:০৪ অপরাহ্ণ

আমাদের সম্মুখে কোন বিপদ আসলে বলি অমুক কাজের জন্য এই বিপদ এসেছে। এই কাজটি না করলে এরকম হতোনা। আমাদের জানা উচিত বিপদ কোন কাজের জন্য আসে না। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। যা আমরা বুঝি না।

বিপদ কেন আসে? কার পক্ষ থেকে আসে? কিভাবে বিপদ মোকাবেলা করবেন? আসুন জেনে নিই এটি সম্পর্কে।

বিপদ-আপদ নিজেই আসে না। আর পৃথিবীতে কারো এমন শক্তিও নেই যে, সে যার ওপরে ইচ্ছা কোন বিপদ চাপিয়ে দেবে। কারো ওপর কোন বিপদ আসতে দেয়া না দেয়া সরাসরি আল্লাহর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করে। আল্লাহর অনুমোদন সর্বাবস্থায় কোন না কোন বৃহত্তর কল্যাণ ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে হয় যা মানুষ জানে না বা বুঝে উঠতে পারে না।

যে জিনিস মানুষকে সঠিক পথে রাখে সেটি হচ্ছে আল্লাহর প্রতি ঈমান। যার ঈমান নেই সে বিপদ-আপদকে আকষ্মিক দূর্ঘটনার ফল মনে করে অথবা এসব বিপদ-আপদ দেয়ার ও দূর করার ব্যাপারে পার্থিব শক্তিসমূহকে কার্যকর বলে বিশ্বাস করে অথবা তারা আল্লাহকে সর্বময় কর্তৃত্বের অধিকারী বলে নিখাদ ও নির্ভেজাল ঈমানের সাথে মানে না। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আল্লাহর অনুমোদন ছাড়া কখনো কোন মুসিবত আসে না। যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ঈমান পোষণ করে আল্লাহ তার দিলকে হিদায়ত দান করেন। আল্লাহ সব কিছু জানেন। (সূরা তাগাবুন: আয়াত-১১)

মুমিন সর্বাবস্থায় আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে। তার ওপর বিপদ-মুসিবত আসলে সে মনে করে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। মুমিন ছাড়া অন্য কারো ভাগ্যে এটি হয়না। হাদীসে রাসূল (স.) বলেন, মুমিনদের ব্যাপারটি বড়ই অদ্ভুত। আল্লাহ তার জন্য যে ফায়সালাই করুন না কেন তা সর্বাবস্থায় তার জন্য কল্যাণকর। বিপদ-আপদে সে ধৈর্য অবলম্বন করে। এটা তার জন্য কল্যাণকর। সুখ-শান্তি ও সচ্ছলতা আসলে সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটাও তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া আর কারো ভাগ্যেই এরুপ হয়না।

আল্লাহ আমাদের স্রষ্টা। এই স্রষ্টা ছাড়া মুসলমান আর কাউকে ইলাহ মানে না। আর প্রকৃতভাবে আল্লাহর প্রতি যারা ঈমান আনে তাদের বিপদে আপদে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা উচিত। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, তিনিই আল্লাহ যিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। ঈমানদাদের আল্লাহর ওপরেই ভরসা করা উচিত। (সূরা তাগাবুন: আয়াত-১৩)

সামনে পিছনে যা আছে সবই আল্লাহ জানেন। কার ওপর কখন বিপদ আসবে এটিও আল্লাহ জানেন। তাই আমাদের উচিত হলো আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। কারণ তিনি সকল শক্তিমানের ওপর মহাশক্তিমান। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, সামনে উপস্থিত ও অনুপস্থিত সবকিছুই তিনি জানেন। তিনি মহাপরাক্রমশালী ও মহাজ্ঞানী। (সূরা তাগাবুন: আয়াত-১৮)

ইমানদারগণ বিপদে-আপদে সর্বাবস্থায় আল্লাহর সাহায্য কামনা করে। যখন তাদের ওপর কোন বিপদ আপতিত হয় তখন সে সবর করে এবং তার প্রভুর কাছে প্রার্থনা করে। প্রার্থনা ও সবরের মাধ্যমে ইমানদার প্রভুর সান্নিধ্য অর্জন করে। তাই আসুন বিপদ মুসিবত যখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে তখন তার কাছে পানাহ চাই। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, হে ইমানদারগণ! সবর ও নামাজের দ্বারা সাহায্য গ্রহণ কর, আল্লাহ সবরকারীদের সাথে আছেন। (সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৩)

পথ চলতে হলে বিপদ আসবেই। এই বিপদকে অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে হবে সামনে। এটিকে মোকাবিলা করতে হবে অত্যান্ত ধীরস্থির ভাবে। এখানে ধৈর্য্য ধরতে না পারলে সামনের পথ হবে কন্টকাকীর্ণ। যারা নিজেদের ইমানদার দাবি করে তাদের বিপদ আসবেই। এটি আল্লাহর ওয়াদা। তাইতো আল্লাহ কুরআনে বলেন, আর নিশ্চয়ই আমি ভীতি, অনাহার, প্রাণ ও সম্পদের ক্ষতির মাধ্যমে এবং উপার্জন ও আমদানি হ্রাস করে তোমাদের পরীক্ষা করব। এ অবস্থায় যারা সবর করে তাদের জন্য সুসংবাদ। (সূরা বাকারা: আয়াত-১৫৫)

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট