২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে পানি সংকট: মাইকিং করে খাবার দেয়া হয়


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৯ এপ্রিল, ২০২০, ৩:৪১ অপরাহ্ণ

করোনার রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডেডিকেটেড হাসপাতালের মধ্যে বাংলাদেশ কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল অন্যতম। কিন্তু সেখানে রয়েছে তীব্র পানির সংকট। পর্যাপ্ত পানি পাচ্ছে না করোনায় আক্রান্ত রোগীরা। তাছাড়া তিনবেলা খাবার দেওয়া হয় মাইকিং করে। মাস্কও বিতরণ করা হয় রোগীদের দিয়ে। এতে একপ্রকার বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক রোগী জানান, গত তিন দিন ধরে এখানে পানির সংকট চলছে। বর্তমানে তিনবেলা খাবারের সঙ্গে যে পানি দেওয়া হয় তা পর্যাপ্ত নয়।

তিনি বলেন, ‘হাফ লিটারের পানি বোতল দেওয়া হয়। খাবার আনার সময় যে ধরনের হুড়োহুড়ি শুরু হয়, তাতে হাফ লিটারের এক বোতলের বেশি পানি আনা যায় না। হয়তো কেউ কেউ বড় জোর ঠেলাঠেলি করে দুই বোতল নিতে পারেন। তাহলেও তাতে এক লিটার হয়। সারা দিনে তিন লিটার। দুইটি স্যালাইন খেলে চলে যায় এক লিটার। আর যিনি এক বোতল নিতে পারেন, তিনি তো সারাদিনে পানি পান দেড় লিটার। দেড় লিটার পানি দিয়ে তো কোনোভাবেই দিন পার করা যায় না। কম করে হলেও অন্তত ৪ লিটার পানির প্রয়োজন। আমরা সবাই খুবই পানির কষ্টে আছি।’

কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, ‘আমরা সকালে ২ লিটার, দুপুরে ২ লিটার, রাতে ২ লিটার করে পানি দেই। এই তো পানি এসে যাবে। পানি যেগুলো কেনা ছিল, ছোট বোতল কেনা ছিল। এখন ২টা করে দিচ্ছি। সমস্যা নেই।’

আরেক রোগী জানান, খাবার দেওয়া হয় মাইকিং করে। মাইকে বলা হয়, ‘আপনাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে- খাবার এসেছে, সবাই এসে খাবার নিয়ে যান।’

অপর এর রোগী বলেন, খাবার আনতে গেলে তখনই বিশৃঙ্খলা শুরু হয়। হুড়োহুড়ি করে খাবার নিতে হয়। এটা আমাদের জন্য এক ধরনের ভোগান্তি।

এক রোগী বলেন, খাবার তো বক্স করে দেওয়া হয়। এমন যদি করা যেতো, প্রতি বেলায় খাবার-পানি রুমের সামনে রেখে, মাইকিং করে যদি বলা হতো- আপনাদের খাবার রুমের সামনে রাখা আছে- বের হয়ে খাবার নিয়ে নেন।

তিনি বলেন, তাহলে এক রোগীর সংস্পর্শে আরেক রোগীকে আসতে হতো না। হুড়োহুড়ি বা বিশৃঙ্খলাও হতো না। যারা দিচ্ছেন তাদেরও রোগীর সংস্পর্শে আসতে হতো না। তাদের জন্যও ঝুঁকি কম হতো।

মাইকিং করে খাবার দেওয়া হয়। জনবল সংকট আছে কিনা জানতে চাইলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলিমুজ্জামান বলেন, ‘পর্যাপ্ত জনবল এখানে কাজ করছে। সমস্যা নেই।’

তাহলে সমস্যাটা কোথায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কথা হচ্ছে যারা ভেতরে খাবার দেয়, পিপিই পরে যেতে হয়, পিপিই পরে নাক মুখ সব একেবারে বন্ধ করে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না। এক ঘণ্টা মধ্যে গা ঘেঁমে একেবারে সর্দি-জ্বর এসে যাবে। এ জন্য মাইকিং করে দিচ্ছে।’

‘যারা রান্না করেন, তারা বেশি ভেতরে ঢুকতে পারেন না। সারাদিন পরিশ্রম করে, রাতদিন ২৪ ঘণ্টা। ঘুম নেই, খাওয়া নেই, কোনো কিছু নেই। সবকিছু্ তো একটু সহনশীল করে নিতে হবে।’

আলিমুজ্জামান বলেন, খাবার আমরা আগের তুলনা দ্বিগুণ উন্নত মানের করেছি।

রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে ২টি পাউরুটি। একটি ডিম ও একটি কলা দেওয়া হয়। দুপুরে ভাত, মাছ অথবা মুরগির মাংস (কখনো ব্রয়লার, কখনো কক) এবং ডাল। রাতেও একই। এক রোগী বলেন, তিনি ৭ দিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এখানে। এর মধ্যে একদিন আলু টমেটো মিক্স সবজি পেয়েছে। তিনি বলেন, খাবার যা দেয়, পর্যাপ্ত তাতে অসুবিধা হয় না।

আরেক রোগীও সাতদিন ধরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এখন তার কোনো লক্ষণ উপসর্গ নেই। চার থেকে ৫ দিন আগে একবার তার স্যাম্পল কালেকশন করেছে। কিন্তু রিপোর্ট কি এসেছে- তিনি এখনো জানতে পারেন নি।

সাত দিনে কি ধরনের ওষুধ দিয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিদিন তিন বেলা তিনটা নাপা, এজিথ্রোমাইথিন ৫০০ এমজি একটি করে সকালে ও রাতে, ওমিপ্রাজল তিন বেলা তিনটা, দুপুরে একটি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ট্যাবলেট। আর খাবার স্যালাইন দেওয়া হয়।