৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

কোলাকুলি-হাত মেলানো যাবে না ঈদ জামাত শেষে


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৩ মে, ২০২১, ৯:৩৩ অপরাহ্ণ

রাত পোহালেই মুসলমানের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর। করোনা সংক্রমণের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে সারা দেশে ঈদ জামাত।

করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে ঈদুল ফিতরের জামাত শেষে মুসল্লিদের কোলাকুলি ও হাত মেলানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। তাছাড়া গত বছরের মতো খোলা জায়গার পরিবর্তে এবারও ঈদুল ফিতরের জামাত মসজিদে প্রয়োজনে একাধিকবার জামাত অনুষ্ঠানসহ ১২টি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ইসলামী শরীয়তে ঈদের জামাত ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হলেও বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে। এছাড়া ঈদগাহে কোলাকুলি, করমর্দন করা থেকে বিরত থাকাসহ নামাজ আদায়ে ১২ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করার ক্ষেত্রে যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা অতি জরুরি।

১) ইসলামী শরিয়তে ঈদগাহ বা খোলা জায়গায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত আদায়ের ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারা বিশ্বসহ আমাদের দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিজনিত কারণে মুসল্লিদের জীবন ঝুঁকি বিবেচনা করে এ বছর ঈদগাহ বা খোলা জায়গার পরিবর্তে ঈদের নামাজের জামাত নিকটস্থ মসজিদে আদায় করার জন্য অনুরোধ করা হলো। প্রয়োজনে একই মসজিদে একাধিক জামাত করা যাবে।

২) ঈদের নামাজের জামাতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। নামাজের আগে সম্পূর্ণ মসজিদ জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। মুসল্লিরা প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসতে পারবেন।

৩) করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে অজুর স্থানে সাবান/হ্যান্ড সানিটাইজার রাখতে হবে।

8) মসজিদের প্রবেশদ্বারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার/হাত ধোয়ার ব্যবস্থাসহ সাবান-পানি রাখতে হবে, প্রত্যেকে নিজ নিজ বাসা থেকে অজু করে মসজিদে আসতে হবে এবং অজু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সময় নিয়ে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৬) ঈদের নামাজের জামাতে আসা মুসল্লিকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৭) ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে।

৮) শিশু, বয়োবৃদ্ধ, যেকোনো অসুস্থ ব্যক্তি এবং অসুস্থদের সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ঈদের নামাজের জামাতে অংশ নিতে পারবেন না।

৯) সর্বসাধারণের সুরক্ষা নিশ্চিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনীর নির্দেশনা অবশ্যই প্রতিপালন করতে হবে।

১০) করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামাত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো পরিহার করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১১) করোনাভাইরাস মহামারি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ শেষে মহান রাব্বুল আল-আমিনের দরবারে দোয়া করার জন্য খতিব ও ইমামদের অনুরোধ করা যাচ্ছে।

১২) খতিব, ইমাম এবং মসজিদ পরিচালনা কমিটি বিষয়গুলো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবে।

উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণরোধে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট মসজিদের পরিচালনা কমিটিকে ওপরের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হলো।