৪ঠা মার্চ, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৯শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ২০শে রজব, ১৪৪২ হিজরি

ক্রেতা সঙ্কট রবির শেয়ারে


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৮ জানুয়ারি, ২০২১, ৫:২৬ অপরাহ্ণ

আগের কার্যদিবসের মতো সোমবারও লেনদেনের শেষদিকে ক্রেতা সঙ্কটে পড়ে শেয়ারবাজারে নতুন তালিকাভুক্ত রবি আজিয়াটা। ক্রেতা সঙ্কট দেখা দেয়ার পাশাপাশি কোম্পানিটির শেয়ার দিনের দাম কমার সর্বোচ্চ সীমাও স্পর্শ করে। এর মাধ্যমে টানা দুই কার্যদিবস কোম্পানিটির শেয়ারের দাম কমলো।

ক্রেতা সঙ্কটে এখন কোম্পানিটির শেয়ার দাম কমলেও চলতি সপ্তাহের আগে টানা ১৫ কার্যদিবস কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ে। এর মধ্যে ১৪ কার্যদিবসেই দিনের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে রবি আজিয়াটা।

তালিকাভুক্তির প্রথম দিন থেকে টানা ১৩ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে শেয়ারবাজারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ডও সৃষ্টি করে কোম্পানিটি। দফায় দফায় দাম বাড়লেও সে সময় রবির শেয়ারের ক্রেতার অভাব ছিল না। বরং বিক্রেতা সঙ্কট ছিল। অথচ এখন দফায় দফায় দাম কমলেও ক্রেতার এক প্রকার অভাব দেখা দিয়েছে। এমনকি বিক্রেতারা দাম কমিয়ে কোম্পানিটির শেয়ার যে দামে বিক্রি করতে চাচ্ছেন, ক্রেতারা তার চেয়েও কম দামে কেনার প্রস্তাব দিচ্ছেন।

সোমবার দিনের লেনদেন শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দাম আগের দিনের তুলনায় ৬ টাকা বা ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ কমে ৫৮ টাকা ৫০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এর চেয়েও কম দামে বা ৫৮ টাকা ১০ পয়সা করে শেয়ার কেনার আগ্রহ দেখান।

দিনের লেনদেন শেষে বড় দরপতন হলেও এ দিন লেনদেনের শুরুতে রবির চিত্র ছিল ভিন্ন। প্রথমদিকে দাম কমার বদলে কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়ে। আগের দিন ৬৪ টাকা ৫০ পয়সায় থিতু হওয়া কোম্পানিটির শেয়ার দাম এক পর্যায়ে ৬৪ টাকা ৮০ পয়সায় ওঠে। তবে লেনদেনের সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রবির শেয়ার বিক্রির চাপ। ফলে দফায় দফায় কমতে থাকে দাম। সবচেয়ে বেশি দাম কমেছে লেনদেনের শেষ ঘণ্টায়। লেনদেনের শেষ দিকে এক পর্যায়ে রবির শেয়ারের ক্রেতার ঘর শূন্য হয়ে পড়ে।

নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং আইপিও খরচের জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে (আইপিও) শেয়ার ছেড়ে ৫২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩৩ হাজার ৩৪০ টাকা সংগ্রহ করা রবির শেয়ার গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়। লেনদেনের প্রথম দিন থেকেই কোম্পানির শেয়ার দাম বাড়ার ক্ষেত্রে দাপট দেখায়।

দফায় দফায় কোম্পানিটির শেয়ারের দাম বাড়ায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ থেকে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করে তথ্যও প্রকাশ করা হয়। ডিএসই জানায়, শেয়ারের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ জানতে কোম্পানিটিকে নোটিশ করা হয়। জবাবে কোম্পানিটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্প্রতি শেয়ারের যে অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে তার পেছনে কোনো অপ্রকাশিত মূল সংবেদশীল তথ্য নেই।

ডিএসই থেকে এ তথ্য প্রকাশ করা হয় গত ৫ জানুয়ারি। কিন্তু এরপরও কোম্পানিটির শেয়ার দাম বাড়তে থাকে। ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া প্রতিটি কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দিনের দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে। এর মাধ্যমে দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে কোনো কোম্পানি লেনদেন শুরুর প্রথম ১৩ কার্যদিবস দাম বাড়ার সর্বোচ্চ সীমা স্পর্শ করে।

অবশ্য ১২ জানুয়ারি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে দুই স্টক এক্সচেঞ্জকে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার দামের অস্বাভাবিক উত্থান-পতন তদন্তের নির্দেশ দিলে রবির দাম বাড়ার প্রবণতায় কিছুটা ছেদ পড়ে।

নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের নির্দেশে ১৩ জানুয়ারি লেনদেন শুরু হতেই রবির শেয়ার বিক্রির হিড়িক পড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের মাত্রাতিরিক্ত বিক্রির চাপে এক পর্যায়ে কোম্পানিটির শেয়ার দাম আগের দিনের তুলনায় কমে যায়। তবে লেনদেনের শেষ দিকে বাজারে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, তদন্তের নির্দেশ স্থগিত করা হচ্ছে। এতে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম আবার বাড়ে। ফলে পতন কাটিয়ে ৪০ পয়সা দাম বেড়ে দিনের লেনদেন শেষ করে রবি।

এরপর বিএসইসি তদন্ত স্থগিত করলে ১৪ জানুয়ারি আবার হু হু করে বাড়তে থাকে কোম্পানিটির শেয়ার দাম এবং দিনের সর্বোচ্চ দামের সীমা স্পর্শ করে। এতে ১৫ কার্যদিবসের লেনদেনেই কোম্পানিটির ১০ টাকা দামের শেয়ার ৬০ টাকা ১০ পয়সা বা ৬০১ শতাংশ বেড়ে ৭১ টাকা ১০ পয়সায় ওঠে যায়।