২৪শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপিকে মাঠে নামার আহ্বান


| PhotoNewsBD

২৯ ডিসেম্বর, ২০২০, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ

দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে আমার বিনীত আহ্বান, আওয়ামী দুঃশাসনকে অপসারণ করার জন্যে রাজপথে নেমে আসুন।’

মঙ্গলবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মুক্তিযোদ্ধা দল ও মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম আয়োজিত ‘বিজয়ের ৪৯ বছর : প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন হাফিজ।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘যারা রাজপথে নেমে এই সরকারকে উৎখাত এবং গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করবে, ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনবে, আমরা তাদের সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজপথে দৃঢ় পদক্ষেপ রাখবো। আর সারারণ মানুষের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। এই সরকারকে প্রতিহত করাই হোক আমাদের আজকের দিনের অঙ্গীকার।’

বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘৪৯ বছর আগে আমরা যে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার ফলাফলটা কী? আমাদের স্বাধীনতা কতটুকু অর্জিত হয়েছে, কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে, এই প্রশ্ন আমাদের সবাইকে আলোড়িত করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ বাঙালি জাতির জন্য একটি স্মরণীয় অধ্যায়। ইতিহাসের এক স্বর্ণালী উপাখ্যান। প্রশ্ন উঠতেই পারে যে, স্বাধীনতার এই ৪৯ বছরে কী পেলাম আমরা? আমরা সবাই স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। আমরা যে স্বপ্ন ধারণ করে ৪৯ বছর আগে রণাঙ্গনে জীবন পণ করে লড়াই করেছি তার কতটুকু বাস্তবায়িত হয়েছে।’

হাফিজ বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই, আজকে আমাদের দেশে গণতন্ত্র এবং সুশাসন নির্বাসনে। মানবিক মর্যাদা ভুলণ্ঠিত। স্বাধীনতার এই সময়ে এসে আমরা পেয়েছি শুধু দুঃশাসন। আমরা সবাই একটি বৃহৎ কারাগারে বসবাস করছি। সরকার থেকে বলা হয়, আমরা নাকি বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল। কিন্তু উন্নয়নের সূচকে আমরা ভুটানেরও নিচে। তথাকথিত উন্নয়েনর রোল মডেল এটি একটি ফাঁকা বুলি। আমারা ক্রমশ দরিদ্র হয়ে যাচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘রাজনীতির হয়েছে ব্যাপক দুর্বৃত্তায়ন। যার যেখানে থাকার কথা নয়, সে সেখানে পৌঁছে গিয়েছে। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম, সেই গণতন্ত্রই আমাদের দেশ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা খুবই তরুণ বয়সে যুদ্ধে নেমেছিলাম দেশকে মুক্ত করার জন্য। কিন্তু এখন যখন রাস্তায় নামি তাদের খুঁজি, কই সেসব তরুণেরা। কোথায় হারিয়ে গেল? কোথায় সেই যুবকেরা, যারা গণতন্ত্রের জন্য লড়েছিল। মা-বোনের ইজ্জতের জন্য লড়েছিল। আজ প্রতিদিন ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। কোথায় সেই তরুণেরা? যারা ধর্ষণের প্রতিবাদ করবে। দেশে গণতন্ত্র নেই তার প্রতিবাদ কোথায়?’

বিএনপির এই সিনিয়র নেতা বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই এই বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধারাই এখন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। দেশে যতো রাজনৈতিক দল আছে তারা কিভাবে ক্ষমতায় যাবে, তারা সেই ছক কষছে। গণতন্ত্রের জন্য তাদেরকে তো রাজপথে নামতে দেখি না। কিন্তু ইতোমধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা রাজপথে নেমে তাদের সাহসের প্রমাণ দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের বাংলাদেশ দেখলে দুঃখ লাগে। সব পর্যায়ে দুর্বৃত্তায়ন। কোথায় গেল সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায় বিচারের লক্ষে করা মুক্তিযুদ্ধ। আজকে সবার কাছে আমার প্রত্যাশা হলো, আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরবর্তী প্রজন্মের মাধ্যমে দেশব্যাপি ছড়িয়ে দিন।’

মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাতের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ।