২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

চাপিয়ে দেওয়া কমিটি নিয়ে ক্ষুব্ধ জুড়ী আওয়ামীলীগ


বেলাল হোসাইন, জুড়ী থেকে | PhotoNewsBD

১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ৩:০১ অপরাহ্ণ

দীর্ঘ ১৫ বছর পর প্রথম সম্মেলন কে ঘিরে ব্যাপক প্রাণ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও শেষ পর্যন্ত ভোট ছাড়াই চাপিয়ে দেওয়া নেতৃত্বে কমিটি হলো জুড়ী উপজেলা আওয়ামীলীগের।এ নিয়ে তৃণমূল থেকে প্রার্থী পর্যন্ত আওয়ামীলীগ পরিবার ক্ষোভে ফুসছে।

 

২০০৪ সালে জুড়ী উপজেলাকে প্রশাসনিক উপজেলা ঘোষণা করার পর সেই বছরের ২৮ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধের সংগঠক আব্দুল খালিক চৌধুরীকে আহবায়ক করে ৩ মাস মেয়াদী ৫১ সদস্য বিশিষ্ট আওয়ামীলীগের কমিটি গঠন করা হয়। আহবায়কের মৃত্যুর পর জেষ্ঠ্য যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আজির উদ্দিন ভারপ্রাপ্ত আহবায়কের দায়িত্ব পান।এরপর উনার মুত্যুর পর আরেক যুগ্ম আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন কে আহবায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়ায় নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়েন।বার বার সম্মেলনের তারিখ পেছানোর পর গত ১২ অক্টোবর তারিখে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এতে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এমপি ।প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন।এ ছাড়া কেন্দ্রীয় এবং জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্হিত ছিলেন।

 

সম্মেলন শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনে কাউন্সিলারদের ভোটে সভাপতি সাধারন সম্পাদক নির্বাচন করার কথা থাকলে ও জেলা সভাপতি /সম্পাদক এবং সহ সভাপতি স্হানীয় এমপি বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আলহাজ্ব শাহাব উদ্দিনের উপস্হিতিতে সভাপতি /সাধারন সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়।সভাপতি পদে বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল হোসেন একক প্রার্থী থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় নির্বাচিত হলে ও সাধারন সম্পাদক পদে প্রার্থী ছিলেন ৭ জন।তারা হলেন সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাসুক আহমদ চেয়ারম্যান, সাবেক কমিটির সদস্য নজমুল ইসলাম মাষ্টার, মাসুক আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আব্দুল খালিক সোনা, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুবুল ইসলাম কাজল।

 

উপস্হিত সকল প্রার্থী ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন এবং ভোটের মাধ্যমেই নেতা নির্বাচন করতে জোর দাবি জানান।

ভোটার বৃন্দ তাদের কার্ড হাতে নিয়ে ভোট দিয়ে নেতা নির্বাচন করার জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু জেলা নেতৃবৃন্দ তাদেরকে ভোট না দিয়ে সমবোঝার প্রস্তাব দিলে অনেক প্রার্থী সমবোঝায় রাজি না হয়ে ভোট দিতে জেলা নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ জানান।কিন্তু জেলার নেতৃবৃন্দ সকল কাউন্সিলার দের মতামত না দিয়ে শুধু মাত্র স্হানীয় ইউনিয়নের সভাপতি , সাধারন সম্পাদকদের বক্তব্য নেন।এরপর জেলা সভাপতি নেছার আহমদ এমপি প্যাড, সিল ছাড়াই সাদা কাগজে সভাপতি পদে বদরুল হোসেন এবং সাধারন সম্পাদক পদে মাসুক আহমদ চেয়ারম্যান এর নাম ঘোষণা করেই সম্মেলন স্হল থেকে চলে যান।এ নিয়ে আওয়ামীলীগের কর্মী থেকর নিয়ে সকল পর্যায়ের নেতারা মন:ক্ষুণ হন।১৫ বছর পর ভোট দিতে না পারায় তারা হতাশ হয়ে ফিরতে থাকেন।

 

ভোট দিতে আসা তৃনমূল কর্মী আব্দুল লতিফ, ডা:কন্দর্প নারায়ন দে জানান, আমাদের ভোট যদি নাই নিতেন তাহলে এত আয়োজনের কি দরকার। জেলা থেকেই কমিটি দিতে পারতেন।নেত্রী যেখানে বলেছেন ভোটের মাধ্যমে কমিটি করতে সেখানে তারা নেত্রীর সিদ্ধান্ত মানলেন না। এতদিন পর তারা ভোট না দিয়ে আমাদের অধিকার হরণ করেছেন।

 

এ বিষয়ে সাধারন সম্পাদক প্রার্থী নজমুল ইসলাম মাষ্টার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,৬২ সাল থেকে ছাত্র আন্দোলন করে এখন পর্যন্ত আওয়ামীলীগে আছি।অথচ তারা আমাকে মূল্যায়ন করেননি। অন্তত মানুষের ভোটটা নিতে পারতেন।

 

আরেক প্রার্থী কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক নেতা এডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বলেন, নেত্রীর নির্দেশ যেখানে সারাদেশে ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করতে অথচ তারা ভোট না দিয়ে নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে এর চেয়ে লজ্জাজনক কিছু হতে পারে না।কেন্দ্রীয় নেতা হানিফ সাহেব,আহমদ হোসেন সাহেব বলে গেছেন ভোট দিতে কিন্তু জেলা নেতৃবৃন্দ ভোট না দিয়ে তাদেরকে ধোকা দিয়েছেন।সারা দেশে যখন শুদ্ধি অভিযান চলছে টিক এই মুহুর্তে জুড়ী আওয়ামীলিগে নীল নকশা বাস্তবায়ন কেন করা হলো আমার জানা নেই।

 

অপর প্রার্থী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন,তৃণমূল আওয়ামীলীগ যখন আমাকে প্রার্থী করলো সেই মুর্হুতে আমাকে মাইনাস করার জন্য ভোট দেওয়া হয়নি অারেক প্রার্থী মাহবুবুল ইসলাম কাজল বলেন, ভোট হলে আমার বিজয় নিশ্চিত ছিলে।কিন্তু তারা ভোট না দিয়ে তৃণমূলের মতামত না নিয়ে নিজেদের পছন্দ মত নেতা বানিয়েছেন।কাউন্সিলার বৃন্দকে তাদের আবেগ,মতামত টা পর্যন্ত প্রকাশ করতে দেওয়া হয়নি।

 

জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক মো কামাল হোসেন জানান, এ সম্মেলনে মাননীয় মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন সাহেব, বদরুল হোসেন এবং মাসুক আহমদের মুখে হাসি ফুটেছে। আওয়ামীলীগের মুখে হাসি ফোটেনি।

 

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন,তারা আমাদের উপর সমবোঝার দায়িত্ব দেওয়ায় আমরা কমিটি করেছি। আপনারা সাংবাদিক বাহিরে ছিলেন তাই হয়তো এ বিষয়ে জানেন না।