১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

চালের বিক্রি বেড়েছে পাঁচ গুণ


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২০ মার্চ, ২০২০, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ

গত এক সপ্তাহে নওগাঁর মোকামগুলোতে প্রতি কেজিতে চালের দাম বেড়েছে ৫ থেকে ৭ টাকা। অন্য সময়ের তুলনায় এই সময়ে চালের বিক্রি বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মোটা চালের দাম, কেজিতে বেড়েছে ৭ টাকা।

চাল ব্যবসায়ীদের দাবি, করোনা ভাইরাসের আতঙ্কে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য মজুতের প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে বাজারে চালের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কয়েক দিনের ব্যবধানে দামও অস্বাভাবিক বেড়েছে। মোকামে চালের চাহিদা বাড়ায় বাজারে ধান কেনার প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে। প্রকারভেদে প্রতি মণ ধানের দাম বেড়েছে ১৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত।

নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি নিরোধ বরণ সাহা জানান, ‌‌অন্য বছরগুলোতে এই সময়ে মোকামগুলো থেকে খুব বেশি হলে ১০০ গাড়ি (ট্রাক) চাল ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় যেত। কিন্তু গত ছয়-সাত দিন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ গাড়ি চাল দেশের বড় বড় বাজারগুলোতে যাচ্ছে। অর্থাৎ মোকামে চালের বিক্রি বেড়েছে পাঁচগুণ।

নওগাঁ পৌর চাল বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সরকার বলেন, ‘সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। তবে দেশে বড় ধরনের কোনও দুর্যোগ না হলে চালের সংকটের কোনও সম্ভাবনা নেই। করোনাভাইরাস আতঙ্কের কারণে মানুষের মাঝে খাদ্যপণ্য কেনার যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে এটা সাময়িক। চলতি বোরো মৌসুমে কোনও প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে অন্তত চালের কোনও সংকট হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

নওগাঁয় মোটা জাতের স্বর্ণা চালের দাম প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ৪০০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি বস্তা স্বর্ণা চাল ১ হাজার ৫৫০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৯০০ টাকা। কেজিতে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৭ টাকা। চিকন জাতের জিরা চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ২ হাজার ১০০ টাকায় প্রতি বস্তা জিরা চাল বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়। এছাড়া কাটারিভোগ ও নাজিরশাইল চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা।

মের্সাস ফারিহা অটো মিলের মালিক সরদার ফরিদ উদ্দিন বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেও আমার মিল থেকে খুব বেশি হলে তিন গাড়ি চাল বিক্রি হতো। কিন্তু গত এক সপ্তাহ ধরে ছয় থেকে আট গাড়ি চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতিদিন। চাহিদা অনুযায়ী চালের জোগান দিতে পারছি না।’

নওগাঁ জেলা চাউল কল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘চালের বাজার ৫-৭ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরের এই সময়ে বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকায় চালের দাম একটু বাড়ার প্রবণতা থাকে। কিন্তু করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চাল কেনার হিড়িক পড়েছে। ফলে চালের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।’