২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

জলাবদ্ধতা নিয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি মেয়র সাঈদ খোকন


নিউজ ডেস্ক | PhotoNewsBD

২৭ এপ্রিল, ২০১৯, ৩:০৮ অপরাহ্ণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন বলেছেন, অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতা হবে না এটা পুরোপুরি সম্ভব নয়। অতিবর্ষণে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি কিছুটা আমাদের মেনে নিতেই হবে, কারণ একেবারে জলাবদ্ধতা নিরসন করা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। পৃথিবীর অন্যান্য শহরগুলোতেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সৃষ্ট সমস্যায় আমাদের কোনো হাত থাকে না। সেগুলো আসলে আমাদের পক্ষে পুরোপুরি নিরসন করা সম্ভব নয়।

শনিবার (২৭ এপ্রিল) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির তৃতীয় তলায় স্বাধীনতা হলে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আসন্ন বর্ষায় ‘জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবেলায় জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব, নাগরিকদের করণীয়’ শীর্ষক মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা)।

মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা শহরে যদি এক ঘণ্টার একটি অতিমাত্রায় বৃষ্টি হয়ে যায় তাহলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে, পানি জমে যাবে। তবে সেই পানি নেমে যাবে কিন্তু সে পানিগুলো নামতে তিন চার ঘণ্টার মত সময় লাগবে। এখান থেকে বের হয়ে আসা খুব একটা সহজ ব্যাপার নয়। যে খালগুলো দিয়ে পানি নেমে যাবে সেই খালগুলোর চারিদিকের খাল দখল হয়ে গেছে। সেগুলো বালু দিয়ে ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে একটা বাধা সৃষ্টি হয়েছে যার ফলে পানি নামা খুব কঠিন হয়ে পড়েছে। তারপরও সরকারের পক্ষ থেকে, ওয়াসা বা আমাদের পক্ষ থেকে সিটি কর্পোরেশন এই জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে ফেলেছি।

তিনি বলেন, আমরা যখন ড্রেনগুলো পরিষ্কার করি তখন লাখ লাখ বোতল, পলিথিন পাওয়া যায় এইগুলো ড্রেন ব্লক করে দেয় ফলে ঠিকমত পানি নামতে পারে না। সাধারণ মানুষ যদি একটু সচেতন হয় তাহলে এগুলো যদি যেখানে সেখানে না ফেলে তাহলে আমাদের জন্য জলাবদ্ধতা নিরসন করা সহজ হবে। জলাবদ্ধতা নিরসনের বা পানি নিষ্কাশন এর মূল দায়িত্ব হচ্ছে ঢাকা ওয়াসার। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় যদি মনে করে এই দায়িত্ব জনগণের কাছে যাদের জবাবদিহিতা আছে, জনগণের কাছে যারা দায়বদ্ধ তাদের এই দায়িত্ব দেবেন। তাহলে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে এই দায়িত্ব আমারা নিতে প্রস্তুত আছি।

মেয়র সাঈদ খোকন আরও বলেন, আমরা বসে নেই। রাজধানীবাসীকে যেন জলবদ্ধতার ভোগান্তি পোহাতে না হয় সেজন্য আমরাও কাজ করছি। শান্তিনগর, নাজিমুদ্দিন রোডের মতো জায়গায় ৪০ বছর বা তার চেয়েও বেশি সময় ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতো। এসব এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করেছি। এখন আর আগের মতো এসব এলাকায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয় না। একটি উদাহরণ টেনে বলতে চাই যেসব খালগুলো দিয়ে পানি নিষ্কাশন হবে সেই খালগুলোর দায়িত্বে রয়েছে জেলা প্রশাসক। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে আছে ঢাকা ওয়াসা। আর এই খালগুলোতে মানুষের ফেলানো ময়লা আবর্জনা যেন না যায় সেই বিষয়ে মানুষকে বোঝানো, সচেতন করার দায়িত্ব হচ্ছে সিটি কর্পোরেশনের। এসব বিষয় এত কমপ্লিকেটেড না হয়ে যদি একটি সংস্থার আন্ডারে নিয়ে আসা যায় তাহলে সেবা প্রদান করা বা কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হবে।

ডুরার সভাপতি সাংবাদিক মশিউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন রুবেল। এছাড়াও অনুষ্ঠানে সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।