২১শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৮ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

জামদানিকে বলা হয় মসলিনের পঞ্চম কন্যা


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২ মার্চ, ২০২০, ৯:১৭ অপরাহ্ণ

জামদানিকে মসলিনের পঞ্চম কন্যা হিসেবে উল্লেখ করে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ এ শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা অব‌্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন।

সোমবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

লোক ও কারুশিল্প অনুরাগী এবং গবেষক মালেকা খান রচিত ‘জামদানি: বাংলাদেশের বিশ্বনন্দিত ঐতিহ্য’ শীর্ষক সচিত্র গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসব উপল‌ক্ষে এ অনুষ্ঠানের আ‌য়োজন করা হয়।

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব‌লেন, ‘জামদানি বয়নশিল্পের কথা বলতে গেলে সবার আগে উল্লেখ করতে হবে বিশ্বনন্দিত হাতেবোনা তাঁতে তৈরি ঢাকার মসলিনের কথা। সূক্ষ্ম, শুভ্র, মসৃণ বস্ত্র মসলিন ছিল মূলত পাঁচ ধরনের। গোটা জমিনে তাঁতে বিশেষ কৌশলে বা পদ্ধতিতে বুননের মাধ্যমে তৈরি হতো ফুলতোলা মসলিন, যার পোশাকি নাম জামদানি। তাই জামদানিকে বলা হয় মসলিনের পঞ্চম কন্যা। বিভিন্ন কারণে মসলিন ধ্বংস হয়ে গেলেও জামদানিকে (ফিগার্ড মসলিন) বাঁচিয়ে রেখেছে শীতলক্ষ্যা নদীর পানি আর সোনারগাঁওয়ের আবহাওয়ায় লালিত সৃজনশীল, মেধাবী, সুরুচিশীল, ধীমান বয়নশিল্পীগণ।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, লোক ও কারুশিল্প অনুরাগী মালেকা খান সুদীর্ঘকাল, প্রায় ৬০ বছর ধরে জামদানি নিয়ে গবেষণা করে যাচ্ছেন। জামদানি বিষয়ে গবেষণার আলোকে তিনি গ্রন্থটি রচনা করেছেন। গ্রন্থটিতে জামদানি শিল্পের আদি ইতিহাস, ঐতিহ্য, বুনন পদ্ধতি, বর্তমান অবস্থা প্রভৃতির সন্নিবেশ ঘটেছে। জামদানি শিল্পের ওপর রচিত এ পর্যন্ত সর্বাপেক্ষা তথ্যবহুল ও পূর্ণাঙ্গ একটি বই এটি। এর আগে নকশিকাঁথার ওপর তাঁর রচিত গ্রন্থটি ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় ও পাঠক সমাদৃত হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সবসময় জামদানি শিল্পের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও পৃষ্ঠপোষকতা করতে বদ্ধপরিকর।

মালেকা খানের বইটি জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের মাধ্যমে সংগ্রহ এবং বিদেশের বাংলাদেশ মিশনসমূহে পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন প্রতিমন্ত্রী।

দৈনিক ইত্তেফাক ও অনন্যার সম্পাদক তাসমিমা হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও প্রফেসর ড. রওনক জাহান।