২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

জাল টাকা তৈরীর হোতা গ্রেফতার


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৭:৪১ অপরাহ্ণ

১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে হোটেল বয়, পরে ভ্যানে ফেরি করে গার্মেন্টস পণ্য বিক্রয়ের কাজ করেছে ছগির হোসেন। ইদ্রিস নামে এক জাল টাকা কারবারির সঙ্গে সখ্যতার পর জাল টাকা তৈরির কারবারে হাতেখড়ি ছগিরের। ২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগির গ্রেপ্তার হয়। এক বছর জেল খেটে পুনরায় সে জাল টাকা তৈরির কারবারে জড়ায়।

সোমবার (৩ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর মিরপুর এলাকার পল্লবীর একটি বাসা থেকে ছগিরসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার প্রধান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, শীতকালীন বিভিন্ন মেলা, জন-সমাগম অনুষ্ঠান, বিশেষ করে পূর্বাচলে আয়োজিত বাণিজ্য মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা তারা তৈরির পরিকল্পনা করেছিল।

খন্দকার আল মঈন বলেন, সোমবার (৩ জানুয়ারি) রাতে র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা এবং র‌্যাব-৪ মিরপুর ও পল্লবী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছগির, মোছা. সেলিনা আক্তার পাখি ও মো. রুহুল আমিনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা মূল্যমানের জাল নোট, ৫টি মোবাইল ফোন, ২টি ল্যাপটপ, ১টি সিপিইউ, ১টি মনিটর, ৩টি প্রিন্টার, ১টি হ্যান্ড এয়ারড্রয়ারসহ জাল নোট তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এর আগে ২৮ নভেম্বর র‌্যাব-৪ মিরপুর মডেল থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ২৮,৫৩,০০০ টাকা মূল্য মানের জাল নোটসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির মূলহোতা ও অন্যান্য সহযোগীদের সম্পর্কে জানা যায়। গ্রেপ্তারকৃতরা পরস্পর যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা ও বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট তৈরি করে বিভিন্ন লোকদের কাছে বিক্রি করে আসছে।

র‌্যাবের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ চক্রটির মূল হোতা ছগির হোসেন এবং অন্যান্যরা তার সহযোগী। তারা বরিশাল ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাল নোটের ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। এই চক্রের সাথে ১৫-২০ জন সদস্য জড়িত রয়েছে। ছগির ১৯৮৭ সালে বরগুনা থেকে ঢাকায় এসে প্রথমে একটি হোটেল বয়ের কাজ নেয়। পরবর্তীতে ভ্যানে ফেরি করে গার্মেন্টস পণ্য বিক্রয় করত। গার্মেন্টস পণ্য বিক্রির সময় ছগিরের সাথে ইদ্রিস নামে একজনের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সুবাদে তাদের মধ্যে সু-সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইদ্রিসের মাধ্যমে তার জাল নোট তৈরির হাতেখড়ি হয়। প্রথমে সে জাল নোট বিক্রি ও পরবর্তীতে সে জাল নোট তৈরির বিষয় রপ্ত করে। ২০১৭ সালে জাল নোটসহ ইদ্রিস ও ছগির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়। ১ বছর জেল খেটে পুনরায় সে ২০১৮ সাল থেকে জাল নোট তৈরি শুরু করে।

র‌্যাব জানায়, তৈরিকৃত জাল নোটগুলো তার চক্রে থাকা অন্যান্য সহযোগী রুহুল আমিন, সেলিনা ও অন্যান্য ৭/৮ জনের মাধ্যমে বিক্রয় করে। ছগির নিজেই স্থানীয় বাজার থেকে জাল নোট তৈরির প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন টিস্যু পেপার, প্রিন্টার, ল্যাপটপ ও প্রিন্টারের কালি ক্রয় করে তার ভাড়া বাসায় গোপনে বিশেষ কৌশলে এ-৪ সাইজের ২টি টিস্যু পেপার একসাথে আঠা দিয়ে লাগিয়ে রঙিন প্রিন্টারে ডিজাইনকৃত টাকা তৈরি করে। সে স্থানীয় বাজার থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দোকান থেকে এসব জাল নোট তৈরির সরঞ্জাম ক্রয় করে। সে নিজেই প্রিন্টিং ও কাটিং করতো। প্রিন্টিং এর কাজে অন্যান্যদের সম্পৃক্ত করা হতো না। জাল নোট তৈরির পর সে তার অন্যান্য সহযোগীদের মোবাইলে কল করে তার কাছ থেকে জাল নোট নিয়ে যেতে বলত। প্রতি ১ লাখ জাল নোট ১০-১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করত। তার সহযোগীরা মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ও বিক্রি করত। টার্গেট বা চাহিদা অনুযায়ী ছগির প্রতি মাসে তার সহযোগীদের বোনাসও দিত।

র‌্যাব বলছে, জিজ্ঞাসাবাদে ছগির জানায় করোনাকালীন মাঝে মাঝে নিজেও এ জাল নোট স্থানীয় বাজারে ব্যবহার করতো। কয়েকবার সে সাধারণ জনগণের হাতে ধরাও পড়েছিল বলে জানায়। মেলায়, ঈদে পশুর হাটে ও অধিক জন-সমাগম অনুষ্ঠানে তারা জাল নোট বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে ব্যবহার করতো। বর্তমানে বাণিজ্য মেলা ও শীতকালীন প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিভিন্ন উৎসব ও মেলাকে কেন্দ্র করে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা তারা তৈরির পরিকল্পনা করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে ছগির জাল নোট প্রিন্টিংয়ের সময় কাগজের অব্যবহৃত ও নষ্ট অংশগুলো পুড়িয়ে ফেলত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাতে তাকে ধরতে না পারে সেজন্য ছগির ঘন ঘন বাসা পরিবর্তন করত। আর সেলিনা আক্তারের স্বামীও জাল নোট তৈরি চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য। বর্তমানে সে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়ে জেলে আছে।

সেলিনা ঢাকা জেলার কামরাঙ্গীর চরে একটি বিউটি পার্লারে বিউটিশিয়ান হিসেবে কাজ করতো। স্বামীর মাধ্যমে এ চক্রের হোতা ছগিরের সাথে তার পরিচয় হয়। সে নিজেও এ চক্রে জড়িয়ে জাল নোট ব্যবসা শুরু করে।