১৯শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৬ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

জুড়ি উপজেলার জনপ্রতিনিধিদের কাছে খোলা চিঠি


এমদাদুল হক, সম্পাদক | PhotoNewsBD

১৮ এপ্রিল, ২০১৯, ৪:২৯ অপরাহ্ণ

এম এ মুমিত আসুক ছিলেন দলমত, ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে আপামর জনসাধারণের প্রিয় জনপ্রতিনিধি। তিনি একান্ত নিজের বিবেক, রাজনৈতিক বিচক্ষণতা, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী কল্যাণমুখী চিন্তায় কাজ করতেন। কোনো নোংরা রাজনীতিকে প্রশ্রয় দেননি। রাজনৈতিক ছেলা-চামুন্ডার দ্বারাও পরিচালিত হননি। প্রয়োজনবোধে পরামর্শ নিতেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতেন নিজেই।
এম এ মুমিত আসুক ছিলেন উন্নয়নশীল জুড়ি উপজেলার একজন ডায়নামিক ও ক্যারিশমেটিক জননেতা। রাজনৈতিক যেকোনো একটি দলের নেতা হওয়া সহজ, কিন্তু জননেতা হওয়া কঠিন। সেই কঠিন চ্যালেঞ্জকে জয় করেছিলেন তিনি। জননেতা হতে কিছু এক্সট্রা অর্ডিনারি যোগ্যতা লাগে। সেটা তার কথায়, কাজে ও ব্যবহারিক জীবনে ফুটে উঠেছিল।
তার আদর্শকে ধারণ করে যারা রাজনীতি করছেন তারাই সফল হচ্ছেন এবং হবেন। আসুকপ্রেমী জুড়ির জনগণ তাই বারবার তাদের মূল নেতৃত্ব নির্বাচনে ভুল করেনা। চেয়ারম্যানের আসনটি আসুক পরিবারকেই উপহার দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় জুড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছেন এম এ মোঈদ ফারুক।
নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে আপনার কাছে অবহেলিত জুড়ি উপজেলার জনগণের চাওয়া পাওয়া অনেক। আপনি জীবনের উল্লেখযোগ্য সময়ে উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। আর বাংলাদেশের সন্তান হিসেবে দেশীয় অভিজ্ঞতা জন্মলগ্ন থেকেই আছে আপনার। উভয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে অতীতের সকল জনপ্রতিনিধির চেয়ে আপনি এগিয়ে আছেন এটা বিশ্বাস করি।
নির্বাচনের আগে থেকেই আপনি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছেন অবিরত। উন্নয়নকামী জুড়ির জনগণ কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা মতের বিবেচনা করেনা। তারা উন্নয়ন চায়। যাকে দিয়ে উন্নয়ন হবে মনে করে তাকেই ভালোবেসে ভোট দেয়। বিনিময়ে সুখী, সমৃদ্ধ ও আধুনিক জুড়ি উপজেলা চায়।
আপনি জানেন যে- হাওর, নদী, চা বাগান, কমলা বাগান, আগর বাগান, পাহাড়ি সম্পদ আর প্রাকৃতিকভাবে সমৃদ্ধ সবুজে ঘেরা এই জুড়িতে পর্যটক আকর্ষণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের উল্লেখযোগ্য কোনো উদ্যোগ নেই। জুড়িতে পর্যটন শিল্পের বিকাশে মেগা প্ল্যান নিয়ে আপনি বাস্তবায়ন করবেন, এটাই প্রত্যাশা।
আপনি আপনার কাজে সহযোগীতার জন্য ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে পেয়েছেন একজন আদর্শ শিক্ষক। এই উপজেলার শিক্ষার উন্নয়ন এখন না হলে আর কখন? এখনইতো সুযোগ, যদি কাজে লাগাতে পারেন। কারণ জুড়ির শিক্ষার উন্নয়নে একজন শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে রিংকু রঞ্জন দাশ স্যারের কাছ থেকে আপনি যেভাবে বাস্তবিক সহযোগিতা পাবেন তা অন্য কারও কাছ থেকে পাবেননা।
চা বাগান, খাসিয়া পুঞ্জি, মনিপুরী পাড়ার নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী আমাদের জুড়ি উপজেলাকে করেছে নান্দনিক ও বৈচিত্র্যময়। এই নৃগোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে অভিজ্ঞ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রনজিতা শর্মাকে সবসময় কাছেই পাবেন। কারণ অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে আধুনিক জুড়ি কল্পনা করা অসম্ভব।
উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়, একদিকে আপনি আসুক ভাইয়ের রক্তের বাঁধনে আবদ্ধ আছেন। অপরদিকে দেশ-বিদেশের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে আপনি নিজেই একজন অগ্রসর নাগরিক। এরমধ্যে আবার দুজন অভিজ্ঞ, শিক্ষিত ও স্মার্ট ভাইস চেয়ারম্যান পেয়েছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতির জুড়িকে এগিয়ে নেওয়ার এখনই সময়।
আধুনিক ও মডেল জুড়ি উপজেলা গঠনের জন্য সিনিয়র সাংবাদিকদের সাথে সমন্বয় করে সকল কার্যক্রম পরিচালনা করলে যেকোনো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবেন। কারণ জুড়ি উপজেলার সংবাদকর্মীরা এই জুড়িকে জনগণের প্রত্যাশিত জুড়ি গঠনের লক্ষ্যে জনমত গঠন করে আপনাকে সহযোগিতা করবে। আপনি সংবাদকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করবেন আসুক ভাইয়ের মতো, এটাও প্রত্যাশা।
জুড়িকে পৌরসভায় রূপান্তরিত করে যেতে পারলে ইতিহাসের পাতায় আপনার নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে। একটা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণ করলে জুড়িবাসী আপনাকে আজীবন স্বরণে রাখবে। একটা মহিলা কলেজ ও গার্লস হাই স্কুল জুড়িতে খুবই প্রয়োজন, উদ্যোগ নিতে পারেন। গোটা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ স্পটগুলো সিসি ক্যামেরার আওতায় আনলেই অপরাধ মুক্ত জুড়ি গঠন সহজ হবে। আপনিও প্রশংসিত হবেন।
আপনারা যারা উপজেলা পরষদ নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছেন, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী ও পরাজিত প্রার্থীদেরকেও মূল্যায়ন করুন। কারণ তারাও কমবেশি জনগণের ভোট পেয়েছিল। অনেক সাধারণ মানুষ তাদের সাথে সম্পৃক্ত। পরাজিত কিছু প্রার্থী তরুণ, শিক্ষিত ও রুচিশীল। জুড়ির তরুণ সমাজের আশা আকাঙ্খার কথাগুলো ঐ পরাজিত প্রার্থীরাই বেশি বলতে পারবেন। তাই তাদেরকে সাথে নিয়ে চলুন।
জুড়ির যোগাযোগ ব্যবস্তার উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা প্রদান, শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার মানোন্নয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, রেলের জায়গা দখলমুক্ত করণ, পাহাড়ের  সম্পদের সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ, নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন সহ সমৃদ্ধ ও মডেল জুড়ি আপনারা যেন উপহার দিতে পারেন।
জনস্বার্থে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে জনগণকে পাশে পাবেন। সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা পাবেন। আপনাদের উন্নয়ন ও অগ্রগতির কর্মকান্ডের চিত্রই যেন এই উপজেলার সাধারণ নাগরিক ও সংবাদকর্মী হিসেবে আগামীতে তুলে ধরতে পারি।
এমদাদুল হক
সম্পাদক ও প্রকাশক
ফটোনিউজবিডি
amdadpress@gmail.com