১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

টাইগারদের অস্তিত্ব নিয়েই টানাটানি


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২২ নভেম্বর, ২০২১, ৮:৫০ অপরাহ্ণ

১ বলে প্রয়োজন ২ রান। মাহমুদউল্লাহর বল ডেলিভারি হয়ে গেলেও স্ট্রাইকপ্রান্তে থাকা মোহাম্মদ নাওয়াজ হাত উঁচু করে বল ছেড়ে দেন। আম্পায়ার বাতিল বলে দেন বলটিকে। শ্বাসরুদ্ধকর, রোমাঞ্চকর শেষ ওভারে দেখা যায় নাটকীয়তা। আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বোলিংয়ে যান শেষ পর্যন্ত। নাওয়াজ ১ কিংবা ২ কিছুই নেননি। এক্সট্রা কাভারে চার মেরে ৫ উইকেটে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।

শুধু শেষ ওভারের ১ বল নয়, এই ওভারটিই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। ৬ বলে প্রয়োজন ছিল ৮। তাসকিন আহমেদ ইনজুরিতে পড়ে উঠে যাওয়াতে মাহমুদউল্লাহ বোলিং করতে আসেন। প্রথম বল ডট দেন, পরপর দুই বলে সরফরাজ আহমেদ ও হায়দার আলীকে ফিরিয়ে প্রাণ এনে দেন। চতুর্থ বলে নতুন ব্যাটসম্যান ইফতেখার আলী ৬ মেরে পরের বলে আউট হন। আর শেষ বলে চার মেরে নাটকীয়তার সমাপ্তি এনে দেন নাওয়াজ। মাহমুদউল্লাহ শেষ ওভারে ১০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। তবে এমন পরিস্থিতির জন্য কৃতিত্ব শুধু মাহমুদউল্লাহ পাবেন না, ১৯তম ওভার করা শহীদুল ইসলামও পাবেন। তিনি যে মাত্র ৭ রান দিয়েছিলেন গুরুত্বপূর্ণ এই ওভারে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ আগেই হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সোমবার (২২ নভেম্বর) মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তৃতীয় ম্যাচটি ছিল ধবলধোলাই এড়ানোর। বাংলাদেশ তা এড়াতে পারেনি। তবে গত দুই ম্যাচের চেয়ে আজ ছিল ভিন্নতা। প্রেসবক্স থেকে শুরু করে শের-ই বাংলার গ্যালারি; সবজায়গাতেই উত্তেজনার পারদ বারবার ওঠানামা করছিল। জয়ের খুব কাছে গিয়েও ধরা যায়নি, সেই আক্ষেপ আর দুঃখ নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

টস জিতে ব্যাটিং নেয় বাংলাদেশ। সিরিজের তিনটি ম্যাচেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ টস ভাগ্যে জিতেছেন। কিন্তু লড়াইয়ে নেমে মাঠ ছেড়েছেন বেদনা নিয়ে। এবার নাঈমের টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৪ রান সংগ্রহ করে। পাকিস্তান টার্গেটে খেলতে নেমে শেষ বলে ৫ উইকেটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে। ১ বলে ৪ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন নাওয়াজ। আরেক ব্যাটসম্যান খুশদিল শাহ কোনো বলের মুখোমুখি হননি।

পাওয়ার প্লে’র পরেই বাবর আজমকে ১৯ রানে সাজঘরে ফিরিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম। পাওয়ার ওভারে থেকে সফরকারীদের সংগ্রহ ছিল ১ উইকেট হারিয়ে ২৭ রান। এরপর ম্যাচের দায়িত্ব নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও হায়দার আলী। দুজনের ৪৯ বলে ৫১ রানের জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রিজওয়ান ৪৩ বলে ৪০ রান করে আউট হলে সরফরাজকে নিয়ে এগোতে থাকেন হায়দার। এই জুটি থেকে আসে ৩৪ রান। ১২ বলে ৬ রান করে সরফরাজ আউট হলেই ধস নামে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তারা হাসিমুখেই মাঠ ছেড়েছেন। মাহমুদউল্লাহর ৩ উইকেট ছাড়া ১টি করে উইকেট নিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম।

আজও হয়তো মাহমুদউল্লাহরা আক্ষেপ করবেন আরও কিছু রানের। মোহাম্মদ নাঈমের টেস্ট মেজাজে ব্যাটিংয়ে যা সম্ভবই হয়নি। ২টি করে চার-ছয়ের মারে ৫০ বলে সর্বোচ্চ ৪৭ রান করেছিলেন নাঈম। ওপেনিংয়ে নেমে এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন ১৯তম ওভারে। ক্রিজে সেট হয়েও দলের জন্য বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেননি। ৫০ বলে ৪৭ টি-টোয়েন্টিতে বড্ড বেমানান। আউটও হয়েছেন দৃষ্টিকটুভাবে। মোহাম্মদ ওয়াসিমের ফুল টস বলে স্কয়ার লেগে ফ্লিক করতে গিয়ে ধরা পড়েন তার হাতেই! তিন নম্বরে উঠে আসা শামীম হোসেন ২২ রান করলেও তা টি-টোয়েন্টি সুলভ ছিল না। ২৩ বলে তিনি এই রান করেন। এ ছাড়া আফিফ হোসেন প্রতিনিয়ত সেট হয়ে আউট হয়ে ফিরছেন সাজঘরে। ইনিংস লম্বা করতে পারছেন না। এই ম্যাচে তার ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে ২০ রান।

‘হ্যাঁ এটা অবশ্যই বিশ্বকাপের পর আমাদের বড় একটা চ্যালেঞ্জ এই সিরিজে ভালো ক্রিকেট খেলা এবং সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার জন্য ভালো একটা সুযোগ’-পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরুর আগে ঠিক এভাবেই বলেছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সামর্থ্যের প্রমাণতো দিতেই পারেননি, উল্টো ঘরের মাঠে নাস্তানাবুদ হয়ে এখন টাইগারদের অস্তিত্ব নিয়েই টানাটানি।

অথচ বিশ্বকাপের আগে পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। ঠিক এখানেই অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন দিনের সম্ভাবনা দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। র‌্যাঙ্কিংয়ে আসে অভাবনীয় উন্নতি। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে পড়ে আসল খোলস। বিশ্বকাপে ভরাডুবির অতীত ভুলে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাহমুদউল্লাহরা চেয়েছিলেন সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে। পারেননি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয়বারের মতো ধবলধোলাই হলো বাংলাদেশ। আর ঘরের মাঠে সবশেষ ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ধবলধোলাইয়ের লজ্জা পেতে হয়েছিল টি-টোয়েন্টিতে। চলতি বছর বাংলাদেশ ৫টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলে। এর মধ্যে তিনটিতে জয় আর দুটিতে হার। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতে ধবলধোলাই হয়ে বছর শুরু। মাঝে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় তাদের মাটিতে। এরপর অস্ট্রেলিয়া-নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। আর বিশ্বকাপের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে ধবলধোলাই।