৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

টি-টোয়েন্টিতে জয় দিয়ে শুরু বাংলাদেশের


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২২ জুলাই, ২০২১, ১১:৩০ অপরাহ্ণ

জিম্বাবুয়েতে এখনও উড়ছে বাংলাদেশের বিজয় নিশান। ১৫৫ রানে প্রথমবার জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়। তারপর ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ করে পুরো ৩০ পয়েন্ট সংগ্রহ এবং তাদের বিপক্ষে ৫০তম জয়! অর্জনের তালিকা আরেকটু লম্বা হলো বৃহস্পতিবার। হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ৮ উইকেটে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টিতেও শুভ সূচনা হলো বাংলাদেশের। আর কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে এটি ছিল তাদের শততম ম্যাচ। এই মাইলফলকের ম্যাচে রঙ ছড়ালেন বোলার ও ব্যাটসম্যানরা।

টেস্টের পর টি-টোয়েন্টিতেও শততম ম্যাচে জয় উদযাপন করলো বাংলাদেশ। ২০১৭ সালের মার্চে পি সারা ওভালে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে চার উইকেটে হারিয়ে শততম টেস্টে জয়ের হাসি হাসে তারা। চার বছর পর সংক্ষিপ্ততম ফরম্যাটেও একশ নম্বর ম্যাচটি জিতলো টাইগাররা। এই ম্যাচে ছিলেন না অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবাল। তার অভাব বোধ করতে দেননি সৌম্য সরকার ও নাঈম শেখ। ১৩.১ ওভারে ১০২ রানের জুটি গড়েন তারা। দৌড়ে প্রথম রান নিয়ে ফিফটিতে পৌঁছে ডাবলস নিতে গিয়ে রান আউট হন সৌম্য। ৪৫ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে টি-টোয়েন্টিতে চতুর্থ হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করতে করতে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে ফিরে যান সৌম্য। তারপর মাহমুদউল্লাহ জুটি বাঁধেন নাঈমের সঙ্গে। তবে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেননি অধিনায়ক। ১৭তম ওভারে নন স্ট্রাইক থেকে রান নিতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগ থেকে মুজারাবানির সরাসরি থ্রোতে কিপারস এন্ডে রান আউট হন মাহমুদউল্লাহ। ২১ রানের জুটিতে তার অবদান ১৫ রান, বল খেলেন ১২টি। ৭ বল বাকি থাকতে জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারেন নাঈম ও নুরুল হাসান সোহান। অপরাজিত ৩০ রানের জুটি গড়েন তারা। নাঈম ৪০ বলে পাঁচ চারে দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৫১ বলে ৬৩ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। ১৬ রানে খেলছিলেন সোহান। ২ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানের লক্ষ্য ছোঁয় সফরকারীরা।

এর আগে মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে বড় স্কোর গড়তে দেয়নি বাংলাদেশ। যদিও মোস্তাফিজের ওভারে ১০ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর রেগিস চাকাবা ও ওয়েসলি মাধেভেরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন। সৌম্যের দুর্দান্ত ক্যাচে ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি আউটের পর পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে বড় স্কোরের আভাস দেন তারা। কিন্তু সাকিব আল হাসান তার তৃতীয় ওভারে ৬৪ রানের এই শক্ত জুটি ভেঙে দেন। মাধেভেরের (২৩) ফিরতি ক্যাচ ধরেন বাঁহাতি স্পিনার।

এরপর ইনিংসের ১১তম ওভারে বড়সড় ধাক্কা লাগে জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনে। সোহানের বুদ্ধিদ্বীপ্ত কৌশলে চাকাবাকে ৭ রানের আক্ষেপে পোড়ায় বাংলাদেশ। ৪৩ রান করে আউট হন শেষ ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরি করা এই ব্যাটসম্যান। শরিফুলের ওই ওভারেই সিকান্দার রাজার বিদায়। ৩ বল খেলে রানের খাতা না খুলে পেছনে সোহানের গ্লাভসে ধরা পড়েন অধিনায়ক।

সৌম্য দ্বিতীয় ওভারে তারিসাই মুসাকান্দাকে (৬) এলবিডাব্লিউ করেন। ডিয়ন মায়ার্স আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন। ২২ বলে ৩৫ রান করেন তিনি, তার অফস্টাম্প উপড়ে ফেলেন শরিফুল। আর দাঁড়াতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ১৮ ও ১৯তম ওভারে জোড়া আঘাতে গুটিয়ে যায় তারা। লুক জংউইকে (১৮) চমৎকার ইয়র্কারে বোল্ড করেন সাইফউদ্দিন। একই ওভারে তার শিকার রায়ান বার্ল (৪)। লং অনে বদলি ফিল্ডার শামীম হোসেন চমৎকার ক্যাচ ধরেন।

পরের ওভারে রিচার্ড এনগারাভাকে (০) দারুণ ইয়র্কারে পরাস্ত করেন মোস্তাফিজ। শেষ ব্যাটসম্যান ব্লেসিং মুজারাবানি মাঠে নেমে প্রথম বল ঠেকান, পরের দুটি বল বাউন্ডারি হাঁকিয়ে স্লো বলে বোল্ড হন। এক ওভার আগেই ১৫২ রানে অলআউট জিম্বাবুয়ে।

মোস্তাফিজ সর্বোচ্চ তিন উইকেট নেন। দুটি করে পান শরিফুল ও সাইফউদ্দিন।