১৮ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৫ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে হবে: মির্জা ফখরুল


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৯ মে, ২০২০, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল এবং বয়স্ক ও মহিলা বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারনসের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘বিএনপি সুস্পষ্ট ভাষায় সরকারকে জানাতে চায়, বর্তমান ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কেবল সরকারকে জনরোষের আগুন থেকে রক্ষার জন্যই অপব্যবহার চলছে। এই মুহুর্তেই রাষ্ট্রের এই অন্যায় বন্ধ করতে হবে।  এই গণবিরোধী আইন বাতিল করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা চলমান বৈশ্বিক করোনা মহামারির সময়ে সারাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বিভিন্ন আইনের অপপ্রয়োগ করে গ্রেপ্তার ও হয়রানির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। শুধু বিএনপি নয়, সব রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সংবাদপত্র সম্পাদকদের সম্মিলিত সংগঠনও ওই গণবিরোধী আইন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে বার। ইতিমধ্যে ৭জন রাষ্ট্রদূত তারাও টুইটারের মাধ্যমে এই গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধ করতে বলেছেন সরকারকে।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তারকৃত সকল ‘বিবেকের বন্দি’ বা ‘প্রিজনার্স অফ কনসায়েনস’সহ সব রাজবন্দি, আদালত পুরোপুরি স্বাভাবিকভাবে না খোলা পর্যন্ত হত্যা-ধর্ষণসহ জঘন্য অপরাধ ছাড়া সকল প্রকার গ্রেপ্তার বন্ধ রাখা অথবা বিকল্প হিসেবে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালত খোলার পর আত্মসমর্পণের শর্তে মুজলেকায় মুক্তি, কারাবন্দি লঘু অপরাধে ও রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তারসহ বয়স্ক ও মহিলা বন্দি, দলের সিনিয়র নেতা আবদুস সালাম পিন্টু ও লুৎফুজ্জামান বাবর, ছাত্র নেতা ইসহাক সরকার, শেরপুর জেলা নেতা হয়রত আলীসহ দীর্ঘদিন কারাবন্দি থাকা নেতাদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে সকল কারা কর্মকর্তা ও কারারক্ষীদের নমুনা সংগ্রহ করে করোনা পরীক্ষার আওতায় আনা এবং সংক্রিমতদের যথাযথ চিকিৎসার দাবিও জানান তিনি।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখির কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে নতুন করে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, লেখক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন মানুষজন গ্রেপ্তারের ঘটনা তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ধরনের আইন করে, এই ধরনের পরিপত্র জারি করে শুধুমাত্র দুর্নীতিকেই প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। এই সত্য গোপন করার ফলে ইনফর্ম না হওয়ায় সেই কাজগুলো করতে পারবে না।  এমনিতে তো বিচ্ছিন্ন সবাই।  তার পরে যদি সোশ্যাল মিডিয়ার খবরগুলো যদি না পায় তাহলে খবর জানবে কোত্থেকে।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন নসু, চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান ও শামসুদ্দিন দিদার উপস্থিত ছিলেন।