২২শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৯ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

ডেঙ্গু; মূর্তিমান আতঙ্ক!


ডেস্ক রিপোর্ট | PhotoNewsBD

২৮ জুলাই, ২০১৯, ১২:১৮ অপরাহ্ণ

ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করায় আতঙ্ক বিরাজ করছে রাজধানীর সর্বত্র। আর যারা ইতোমধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের মধ্যে বিরাজ করছে মৃত্যুভীতি। প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কেউ না কেউ আক্রান্ত হচ্ছেন ডেঙ্গু জ্বরে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৬৮৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

শুধু রোগী নয় ডাক্তারদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ছে শঙ্কা। কেননা রোগীদের পাশে থেকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিতে হচ্ছে তাদের। ফলে এ শঙ্কায় তাদের প্রতিমুহূর্তই তাড়া করছে- আক্রান্তদের কামড়ানো ডেঙ্গু মশা যদি তাদের কামড় দেয় তাহলে তারাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন। যে পরিবারে একজন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সেই পরিবারের অন্যরা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে অনেকটাই ক্লান্ত।

আবার যে পরিবারে একাধিক লোক ডেঙ্গুতে আক্রান্ত তাদের শঙ্কা আর দুর্ভোগ এখন চরমে। তাছাড়া স্বজনরা রোগীর কাছে সেবা দিতে গিয়ে তারাও ডেঙ্গু আক্রান্তের ঝুঁকিতে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু হয়ে উঠেছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম।

এদিকে ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার রোগীর চিকিৎসার অর্থ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছে। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ২২ ঘণ্টা চিকিৎসা নেওয়া একজন ডেঙ্গু রোগীর বিল উঠেছে ১ লাখ ৮৬ হাজার টাকা। ঢামেকে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগী। চিকিৎসকরা সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা) ২৩৩ জন রোগী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) ভর্তি হয়েছেন। তাছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ৬৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।

গতকাল পর্যন্ত এ বছর ঢাকার বাইরে ৩৭৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকার বাইরে হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু কর্নার চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম ও সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, চলতি বছর জুন মাস থেকেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়তে থাকে। জুন মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৮২৯ জন। আর জুলাই মাসে তা ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করে। জুলাই মাসের প্রথম ২৭ দিনে সরকারি হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ৩৮৪ জন। কিন্তু বাস্তবে আরও অনেক বেশি। সরকারি হিসেবে জুলাই মাসে মারা গেছেন ৪ জন। কিন্তু বাস্তবে এসংখ্যা ৩০ ছাড়িয়েছে।

এরমধ্যে গত দুই দিনে অন্তত ৪ জন মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্র এবং দুইজন ডাক্তার রয়েছেন। সরকারি হিসেবে চলতি মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ৩৮৪ জন বলা হলেও বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।

গত কয়েক বছরে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত সব রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে নেই। চিকিৎসা নিতে আসা মাত্র ২ শতাংশ রোগী সরকারি নজরদারির মধ্যে পড়ে। ৯৮ শতাংশের কোনো তথ্য থাকে না। আবার আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫ শতাংশই চিকিৎসা নেয় না। এই অনুমিত হিসাব তৈরিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে সহায়তা করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সরকারি সংকলন হিসেবে গত বছর ১০ হাজার ১৪৮ জন আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমিত হিসাবে গত বছর ৫ লাখ ৭ হাজার ৪০০ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। আর এবছর এখন পর্যন্ত সরকরি হিসেবে ১০ হাজার ৩৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। সে হিসেবে এ বছর এখন পর্যন্ত ৫ লাখের ২৫ হাজারের বেশি মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। আর চলতি মাসে ৮ হাজার ৩৮৪ জন আক্রান্ত হয়েছে। সে হিসাবে চলতি মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে ৪ লাখ মানুষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩৫ জন মারা গেছেন। কিন্তু সরকারি হিসাবে মারা গেছেন ৮ জন। গত দুই দিনে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফিরোজ কবির ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাত ৯টার দিকে মারা যান। ফিরোজ কবির ঢাবির ফিন্যান্স বিভাগের ২০১৩-১৪ সেশনের শিক্ষার্থী ছিলেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষেও ছাত্রী ইউ খাইন নু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার মারা গেছেন। এই ছাত্রীর আত্মীয় মং ল টিন জানান, ইউ খাইন নু ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শনিবার বিকালে নিজ জেলা কক্সবাজারে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি ফার্মেসি বিভাগের প্রথম বর্ষের (৪৮ব্যাচ) ও প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।

এছাড়া গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মুক্তিযোদ্ধা ডা. উইলিয়াম ম্রং। তিনি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছিলেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিনি মারা যান ডা. তানিয়া সুলতানা।

দেশের প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ডীন অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বলেন- জ্বর হলে ঘরে বসে চিকিৎসা না নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরামর্শ নিন।

 

২৪ ঘণ্টায় ৬৮৩ জন হাসপাতালে ভর্তি:
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৬৮৩ জন। এরমধ্যে মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ২৩৩ জন, শিশু হাসপাতালে ৯, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৬, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ২২, বারডেম হাসপাতালে ১২, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগে ২৪, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৯ ও বিজিবি সদর হাসপাতালে ১৩ জন ভর্তি হয়েছেন। বেসরকারি হাসপাতালে ২০৫ জন, ঢাকা বিভাগে (রাজধানী ব্যতীত) ৮ ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৭১ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭ হাজার ৮৪৯ জন। এবছর সরকারি হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ১০ হাজার ৫২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

 

ঈদে বাড়ি না যাওয়ার পরামর্শ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজির:
জ্বর নিয়ে ঈদে বাড়ি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, ডেঙ্গুবাহী এডিস মশার কামড় খেয়ে জ্বর নিয়ে কেউ গ্রামে গেলে এবং ওই আক্রান্ত ব্যক্তিকে গ্রামের মশা কামড়ালে সেই মশার মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমিত হয়ে অন্যরাও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবে। সে কারণে জ্বর নিয়ে গ্রামে ঈদ করতে যাওয়া মানে অন্যকেউও বিপদে ফেলা।

 

ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন জাবি ছাত্রী
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার মৃত্যুবরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফিরোজ। সেই শোকের রেশ না কাটতেই এক দিন পর শনিবার ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) ফার্মেসি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের (প্রথম বর্ষ) শিক্ষার্থী উ খেং নু রাখাইন।

গতকাল বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি মারা যান। উ খেং নু রাখাইন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রীতিলতা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাবা মংবা অং মংবা কক্সবাজার জেলা পরিষদের কর্মকর্তা। উ খেং নু ছিলেন বাবার একমাত্র কন্যা।

কয়েক দিন আগে উ খেং নু রাখাইন ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তিনি কয়েক দিন এনাম মেডিকেলে ভর্তি ছিলেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে বাড়িতে আসেন। সপ্তাহ খানেক ভোগার পর জ্বর না সারলে গতকাল তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকাল ৫টার দিকে কক্সবাজারের নিজ বাড়ি থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে যাওয়ার পথে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর খবরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার বাইরে ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু জ্বর। হাসপাতালগুলোতেও মিলছে না সিট। ঢাকা থেকে বিভিন্ন জেলায় যাওয়া খবর পাওয়া যাচ্ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের। ডেঙ্গু নিয়ে গ্রামমুখী হওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার অন্যরাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন কি না- আলোচিত হচ্ছে এমন প্রসঙ্গও।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (শনিবারের হিসাব) দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭০০ রোগী ভর্তি হয়েছেন। এরই মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু ঢাকা শহর নয়, ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা থেকেও ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বিবিসি বাংলাকে বলেন, রাজধানীর বাইরে এর আগে কিছু কিছু জেলা থেকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার রিপোর্ট পাওয়া গেছে। ঢাকার বাইরে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা খুব কম। কিছু রোগী আছে যারা ঢাকা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকার বাইরে গেছেন।

ঢাকার বাইরে যেসব জেলা থেকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে সেগুলো হচ্ছে- গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, চাঁদপুর, বরিশাল, সিলেট, যশোর, রাজশাহী, বগুড়া, ফরিদপুর, ফেনী।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উপ-পরিচালক সাইফুল ফেরদৌস বলেন, সেখানে ৩৮ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছিল। এদের মধ্যে ১১ জন সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরত গেছেন। বাকি ২৭ জন এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান এ চিকিৎসক। আক্রান্ত রোগীদের সবাই ঢাকা থেকে এসেছে বলে তিনি জানান। আক্রান্ত ব্যক্তিদের সবার বাড়ি রাজশাহী জেলায়। তাদের কেউ রাজশাহীতে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হননি বলে জানান তিনি।

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নুসাইবা হিয়া জানান, একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জুলাইয়ের ১৩ তারিখে তিনি ঢাকায় এসেছিলেন। সপ্তাহ-খানেক ঢাকায় থাকার পর তিনি রাজশাহীতে ফিরে যান। এরপরই জ্বরে ভুগতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।

অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলের আরেকটি জেলা বগুড়ায় শজিমেক হাসপাতালে ২৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে। এদের মধ্যে তিনজনকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ২৫ জন এখনো সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. গওসুল আজিম চৌধুরী। তিনি বলেন, আক্রান্তদের অধিকাংশই ছাত্র। তারা ঢাকায় ছিল কিংবা ঢাকা থেকে আসার হিস্ট্রি পাওয়া গেছে। ঢাকা থেকে জ্বর নিয়ে আসার পর এখানে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ডায়াগনোসিস হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম ইনচার্জ ডা. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, চলতি বছর ১০৫২৮ জন ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এখন দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২৬৭১ জন।

 

রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত তরুণীর মৃত্যু
ডেঙ্গু আক্রান্ত রুমানা (২৫) নামে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউতে মারা যান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে রুমানাকে গত ১০ জুলাই স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। রুমানা বেনাপোলের বিশিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী মেহেরুল্লাহর মেয়ে এবং বেনাপোল সমিতির উপদেষ্টা জামসেদ আলীর স্ত্রী। বেনাপোল সমিতির সভাপতি শফি কদর রুমানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।