১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ : সম্মেলনের প্রস্তুতি


অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার | PhotoNewsBD

১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১:১৫ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টাও রোল মডেল দেশ গড়ার সফল রাষ্ট্র নায়ক জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সামনে আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে দলের পরীক্ষিত দুর্দিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মাধ্যমে দলকে সাঁজানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।সেই হিসেবে সম্মেলনের আগে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা,নগর,ওয়ার্ড, ইউনিয়নসহ সব ইউনিট কমিটি পুর্নগঠনের লক্ষ্যে দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই হিসেবে আমাদের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ,থানাও সকল ওয়ার্ড,ইউনিট কমিটি গঠন করার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি । দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা মোতাবেক সাথে সাথে আমরা কাজ শুরু করে যথাযথ ভাবে দল গঠনের কাজ করতে সক্ষম হবো।প্রতিটি ইউনিট কমিটিকে ঢেলে সাজানো হবে এতে বিতর্কিত বা অনুপ্রবেশকারী যাতে আসতে না পারে সেই বিষয়টি কঠোরভাবে নজর দারিতে রাখা হয়েছে। দল পূর্ণগঠনে আসবেন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা।এতে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে জানান ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত বেপারী ।

 

তিনি বলেন‘ঝিমিয়ে পড়া’ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগ দুইটি শাখায় বিভক্ত-ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।এ দুই শাখার সম্মেলন নভেম্বরের মধ্যে করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ নির্দেশনার পর প্রস্তুতিও শুরু করেছেন নগরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।বসে নেই পদপ্রত্যাশীরাও।‘উপর মহলের’ নজর কাড়তে তারা সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন।

 

 

আবুল হাসনাত বলেছেন- সম্মেলনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব তুলে আনা হবে।ত্যাগী ও যোগ্যরা হাল ধরবেন নগরের শীর্ষ পদে।বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কমিটিতে জায়গা না পায়, সে বিষয়ে কেন্দ্র থেকে কঠোর দৃষ্টি দেওয়া হয়েছে।

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি আবুল হাসনাত বলেন,নভেম্বরের শেষের দিকে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে।সম্মেলনের আগের কাজগুলো করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।তিনি বলেন,আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সবসময় নবীনও প্রবীণের সমন্বয় থাকে। আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মধ্য থেকে যোগ্যদের মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নিয়ে আসা হবে। অন্য দল থেকে আসা বা যারা বিতর্কিত এবং যাদের নামে অভিযোগ আছে,তাদের নগর আওয়ামী লীগে জায়গা হবে না।

 

 

২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন হয়।এর তিন বছর পর ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগকে দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়।২০১৬ সালের ১০ এপ্রিল মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণ,৪৫টি থানা এবং ১০০টি ওয়ার্ডও ইউনিয়নের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের নাম ঘোষণা করেন আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এরপরই ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু থানা,ওয়ার্ড ও ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে চলে দীর্ঘসূত্রতা।

 

 

ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর-দক্ষিণের একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,তিন বছরে দিবস ভিত্তিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল দলীয় কার্যক্রম। প্রতিপক্ষের আন্দোলন-সংগ্রাম না থাকায় অনেকটা ঝিমিয়ে কেটে গেছে মেয়াদকাল। তারা বলেন,তিন বছরে কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সভা হয়নি।

 

 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু করেছেন নগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা।কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে তারা আলোচনা করেছেন।ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের দুই অংশের সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম দুই সদস্য ড.আবদুর রাজ্জাকও লে কর্নেল(অব.)মুহাম্মদ ফারুক খানের সঙ্গে সম্মেলনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন নগরের নেতারা।সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বর্ধিত সভাও ডেকেছে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ।

 

 

দল পুর্নগঠনও সম্মেলনের বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাত বেপারী বলেন, আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে পরবর্তী কার্যক্রম চূড়ান্ত করব।

 

 

গতকাল ১৫ অক্টোবর মঙ্গলবার রাত ১০ টায় নগর দক্ষিণ ৩৩ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতিও বংশাল থানা প্রস্তাবিত সভাপতি ইলিয়াস রশীদের নেতৃত্বাধীন উক্ত ওয়ার্ড ও ইউনিটের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দক্ষিণ সভাপতি আবুল হাসনাত বেপারী’র অফিসে মতবিনিময়, সৌজন্যে সাক্ষাৎও পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে নগর দক্ষিণ সভাপতি আবুল হাসনাত বেপারীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দলের দুর্দিনের কান্ডারিও তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রাণের স্পন্দন, ক্লিন ইমেজের অধিকারী ৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং বংশাল থানা প্রস্তাবিত সভাপতি ইলিয়াস রশীদ তার বক্তব্য বলেন,বিরোধী দলে থাকার সময় আন্দোলনে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বিভিন্ন থানাও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা রাজপথে থেকেছেন।দলের সহযোগী সংগঠনের মহানগরের ক্ষেত্রেও তাই।বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলন,মানুষ হত্যা,জ্বালাও-পোড়াওসহ নানা অপরাজনীতির জবাব ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগও সহযোগী সংগঠনের থানাও ওয়ার্ড নেতারা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ায় নেতারা ঝিমিয়ে পড়েছেন।খুব শিঘ্রই ঝিমিয়ে পড়া সকল নেতাকর্মীরা আবারও জেগে উঠবে।

 

 

ইলিয়াস রশীদ বলেন-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক আমরা সবাই বদ্ধপরিকর।শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমিসহ আমার ওয়ার্ডের সকল নেতাকর্মীরা অঙ্গীকারবদ্ধ।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে সন্রাস,জঙ্গিবাদ,দূর্নীতিও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন তা অত্যন্ত রুপ মডেল হিসেবে প্রশংসনীয় এবং দেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসমাপ্ত কাজগুলো সমাপ্ত করে যাচ্ছেন।

 

 

ইলিয়াস রশীদ আরও বলেন সন্রাস,জঙ্গিবাদ মাদকও দূর্নীতি সমাজের এক একটি ক্ষত। কারণ সন্রাস ও জঙ্গিবাদের কারণেই কত নিরীহ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছ।

 

 

 

জায়গা হবে না বিতর্কিতদের আসবেন ক্লিন ইমেজের ব্যক্তিরা ——- আবুল হাসনাত বেপারী
দূর্নীতি সস্রাসী ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন ——— ইলিয়াস রশীদ

 

 

উক্ত আলোচনা মতবিনিময় ও পরিচিতি সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।
৩৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বংশাল থানা প্রস্তাবিত সভাপতি ইলিয়াস রশীদ, মোঃ সাকের আহমেদ, মোঃ রাজু আহমেদ, মোঃ ফারহান আলী, মোঃ৷ আবু বক্কর ছিদ্দিক, মোঃ দুলাল মিয়া, মোঃ সায়েম আহমেদ, মোঃ শাকিল রহমান, জুয়েল আহমেদ, মোঃ ইমরান আলী, জহির উদ্দীন, আরমান হোসাইন ও ইউসুফ আলম প্রমুখ ।

 

 

সম্প্রতি আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে ক্যাসিনোসহ মাদক, সন্ত্রাস, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাও নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা বলছেন- এবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত দলকে ঢেলে সাজানো হবে। অনুপ্রবেশকারী ও বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ক্লিন ইমেজের যোগ্য নেতাদের নেতৃত্বে আনা হবে।

 

 

এ বিষয়ে ইলিয়াস রশীদ তাঁহার বক্তব্যে আরও বলেন,- আবারও দুর্যোগ আসতে পারে। আবারও অমানিশা আসতে পারে। সে সময় হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও এ সুবিধাবাদী অপকর্মকারীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না। তিনি বলেন, আমরা সারা দেশে ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই। খারাপ ইমেজের লোক, যাদের ভাবমূর্তি নেই, তাদের দলে টেনে পাল্লা ভারি করে কোনো লাভ নেই। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভালো।

 

 

এদিকে সম্মেলনের প্রস্তুতির সঙ্গে পদ-পদবি অর্জনে সক্রিয়ভাবে মাঠে নেমেছেন ঢাকা মহানগরের নেতারা। কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের নজর কাড়তে তারা দলের বিভিন্ন সভা-সেমিনারে উপস্থিতি বাড়িয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে অনেকে তৃণমূলে আরও বেশি সম্পর্ক বাড়াতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন। তুলে ধরছেন আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা।