২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

তানিম হত্যা মামলার আসামীর বাবার উপর হামলা।। বোনের বাঁচার আকুতি


বিয়ানীবাজার সংবাদদাতাঃ | PhotoNewsBD

২৯ নভেম্বর, ২০২১, ৪:০৭ অপরাহ্ণ

সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগ কর্মী তানিম হত্যা মামলার পলাতক আসামী সুলতান আহমদ লিটনের বাবার উপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল (২৮ নভেম্বর) দুপুরে বিয়ানীবাজার উপজেলার চান্দলা গ্রামে স্থানীয় সরকার দলীয় কর্মীদের দ্বারা এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় পলাতক লিটনের বাবা রহিম উদ্দিন গুরুতর আহত এবং তার ছোট বোন ছাবিয়া আক্তার সুমিকে লাঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়,২৮ নভেম্বর ছাত্রলীগ কর্মী হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী সুলতান আহমদ লিটনকে খোঁজে বের করতে তার গ্রামের বাড়িতে হানা দেন স্থানীয় আওয়ামীলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা। লিটনের বাবা রহিম উদ্দিন এবং তার ছোট বোন ছাবিয়া আক্তার সুমি এসময় বাড়িতে ছিলেন। ছাত্রলীগ কর্মীরা এসময় লিটনের সন্ধান দিতে তার বাবা রহিম উদ্দিনকে চাপ দেন। তিনি ছেলের ব্যাপারে মুখ খুলতে রাজি না হওয়ায় ছাত্রলীগ কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে বেদড়ক পেটাতে থাকে। বাবাকে বাঁচাতে সুমি এগিয়ে এলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকেও শারিরীক লাঞ্চনার পাশাপাশি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বাবা ও মেয়ের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে গুরুতর আহত রহিম উদ্দিন ও তার মেয়েকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী,আহত রহিম উদ্দিন সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এদিকে,নিজ বাড়িতে ঢুকে বাবার উপর সরকার দলীয় কর্মীদের হামলাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা’ অভিযোগ করেছেন আহত রহিম উদ্দিনের কলেজ পড়ুয়া মেয়ে ছাবিয়া আক্তার সুমি। আহত পিতাকে নিয়ে হাসপাতালে থাকা ছাবিয়া আক্তার সুমি গণমাধ্যমকে বলেন,আমার ভাই ছাত্রলীগ কর্মী তানিম হত্যায় জড়িত নয়। তার পরও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাঁকে এ মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামী করা হয়েছে। তিনি মিথ্যা মামলা থেকে বাঁচতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমার বাবা রহিম উদ্দিন নির্দোষ,তিনি কোনো মামলার আসামী নন। আমরা বাবাকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছি। ২৮ নভেম্বর ছাত্রলীগ ক্যাডাররা আমার বাবাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাড়িতে এসে হামলা চালিয়েছে। বাবাকে বাঁচানোর জন্য আমি এগিয়ে গিয়েছিলাম,হামলাকারীরা আমাকেও লাঞ্চিত করেছে। তারা আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছে। এখন আমরা প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে আছি। মনে হয় তারা আমাদেরকে বাঁচতে দেবে না

সুমি প্রাণ ভিক্ষার আকুতি জানিয়ে সাংবাদিকদের বলেন,আপনারা সত্যটা জাতিকে জানান। ছেলের জন্য বাবাকে রক্তাক্ত করা হয়েছে,বোনকে লাঞ্চিত করা হচ্ছে। আমরা কোনো অপরাধ করিনি। আমাদের ভাইকে না পেয়ে আমাদের কাছ থেকে এখন প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীনরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা আইন-আদালত কোনো কিছুরই তোয়াক্ষা করছে না। তারা আমাদের বাঁচার অধিকারটা পর্যন্ত কেড়ে নিতে চাচ্ছে। তাদের বিরোদ্ধে কোথায়ও অভিযোগ করে প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশ প্রশাসন তাদের হয়ে কাজ করছে।

সুমি এসময় তাঁদেরকে ক্ষমতাসীনদের হামলা-মামলা থেকে বাঁচাতে দেশের মানবাধিকার ও নারী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলোকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য,২০১৮ সালের ৭ জানুয়ারী সিলেটের টিলাগড়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগ কর্মী তানিম খানকে। এ ঘটনায় ১০ জানুয়ারী শাহপরান থানায় ২৯ জনকে আসামী করে মামলা করেন নিহত তানিমের বন্ধু দেলওয়ার হোসেন রাহি। ২০১৯ সালের ২০ জুন ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আলোচিত এ হত্যাকান্ডের চার্জশীট দাখিল করে পুলিশ। অভিযুক্ত ৭ জনের মধ্যে ১ জনের নাম সুলতান আহমদ লিটন।তার গ্রামের বাড়ি বিয়ানীবাজারের চান্দলায়।লিটন সহ এ মামলার ৩ আসানী পলাতক। ৪ জন বর্তমানে কারাগারে।