২৭শে জুলাই, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

দেশে করোনায় আরও ১৫ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ২৬৬


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৭ এপ্রিল, ২০২০, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ

করোনায় আক্রান্ত হয়ে দেশে আরও ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে কোভিড-১৯ রোগে মৃতের সংখ্যা  ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ১ হাজার ৫৭২ জন আক্রান্ত ছিলেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৮৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে মহাখালী থেকে নিয়মিত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যামন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ১৯০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে আরও ২৬৬ জনের শরীরে করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। আর আক্রান্তদের মধ্যে আরও নয়জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন, ফলে মোট ৫৮ জন রোগী করোনামুক্ত হলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে পিপিই’র কোনো সংকট নেই। পিপিই তৈরি করতে লেইট হয়েছে কারণ প্রস্তুতকারক ও কাঁচামাল ছিল না। এখন আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এখন প্রতিদিন ১ লাখ পিপিই তৈরি করা হচ্ছে। ২০টি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে করোনা শনাক্তকরণে। মানুষ পরীক্ষা করাতে চান না, তথ্য গোপন করছেন। ফলে চিকিৎসকরা আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই সবাইকে বেশি বেশি পরীক্ষা করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘লকডাউন অনেকে মানছেন না। বাজার ও রাস্তায় অবাদে চলাফেরা করছেন। আমাদের লকডাউন মানতে হবে। ইতালি ও স্পেন লকডাউন কঠোরভাবে পালন করে আজ এর সংক্রমণ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এনেছে।’

করোনায় ৪০টি এলাকার লোক বেশি আক্রন্ত হয়েছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে ওই সব এলাকায় লোক গিয়েছেন। আমরা যদি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ঘরে থাকি তাহলে জয়ী হব।’

আইইডিসিআর’র এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের বয়সের পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায় ২১-৫০ বছরের মানুষ সব থেকে বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যা মোট আক্রান্তের ২১ শতাংশ। এরপর ৩১ থেকে ৪০ এর মধ্যে ১৯ শতাংশ। তারপর ৪১ থেকে ৫০ এর মধ্য ১৫ শতাংশ।’

এলাকা ভিত্তিক হিসাবে আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা শহরে ৪৬ শতাংশ, নারায়ণগঞ্জ ২০ শতাংশ ও এরপর যথাক্রমে গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও মুন্সিগঞ্জসহ অন্যান্য জেলা রয়েছে।

মীরজাদী সেব্রিনা বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টায় যারা মারা গেছেন তাদের মধ্যে ছয়জন ঢাকার, পাঁচজন নারায়ণগঞ্জ ও অন্যান্য জেলার চারজন। এখন পর্যন্ত যে ৭৫ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে সব থেকে বেশি সংখ্যক রোগী ছিলেন ৬০ বছরের বেশি। মারা যাওয়াদের ৭৫ ভাগ পুরুষ আর ২৫ ভাগ নারী। যাদের অর্ধেক ঢাকা শহরের আর বাকি অর্ধেক নারায়ণঞ্জের ও বাকিরা দেশের অন্যান্য জেলার। আট মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ পুরুষ, ৩২ শতাংশ নারী।’

এদিকে পুরো দেশকে করোনাভাইরাস সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।