১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৫ই রমজান, ১৪৪২ হিজরি

পদোন্নতি হবেনা জামালপুরের সাবেক ডিসির


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৪ মার্চ, ২০২১, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ

নারী অফিস সহকারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও প্রকাশের ঘটনায় আলোচিত সমালোচিত জামালপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

গুরুদণ্ড হিসাবে তিন বছরের জন্য নিম্ন বেতন গ্রেডে তাকে অবনমিতকরণ করা হয়েছে। শাস্তি হিসেবে তিনি এখন থেকে প্রায় অর্ধেক বেতন পাবেন।  একই সঙ্গে তিনি আর চাকরি জীবনে কোনো পদোন্নতি পাবেন না। বর্তমান পদ (উপ-সচিব) থেকেই তাকে অবসরে যেতে হবে।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন সাংবাদিকদের বলেন, অপকর্ম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।  অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব‌্যবস্থা নেওয়া হবে।  তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে উপ-সচিব আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শাস্তিমূলক ব‌্যবস্থা হিসেবে তার বেতন অবনমন করা হয়েছে।  এছাড়া তিনি চাকরি জীবনে আর পদোন্নতি পাবেন না।

বিভাগীয় তদন্তে আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে শাস্তি দিয়ে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮-এর বিধি ৪(৩)(ক) মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসাবে তিন বছরের জন্য নিম্নবেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ করা হলো।

আহমেদ কবীর উপ-সচিব হিসাবে বর্তমানে ৫ম গ্রেডে বেতন পান। শাস্তির কারণে এখন থেকে তিনি ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী ৬ষ্ঠ গ্রেডের সর্বনিম্ন ধাপের বেতন পাবেন।  পঞ্চম গ্রেডে তার মূল বেতন প্রায় ৭০ হাজার টাকা।  এখন তিনি মূল বেতন পাবেন ৩৫ হাজার টাকা।  সঙ্গে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা পাবেন।

২০১৯ সালের বছরের আগস্ট মাসের শেষের দিকে জামালপুরের ডিসির একটি আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওটিতে ডিসি আহমেদ কবীরের সঙ্গে তার অফিসের এক নারীকর্মীকে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়।  ওই ঘটনায় জামালপুরসহ সারা দেশের মানুষের মাঝে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে তাকে প্রত‌্যাহার করে নেওয়া হয়।  তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সর্বশেষ কমিটির তদন্তে তার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে সরকার উপ-সচিব আহমেদ কবীরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক নেয়।