২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

প্রতিকূলতাকে জয়ের বাজেট: কাদের


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১২ জুন, ২০২০, ২:৫৪ অপরাহ্ণ

করোনাভাইরাসের মহামারির পরও বাজেটের আকার কমেনি জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রতিকূলতাকে জয়ে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার  ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে ভিডিও কনফারেন্সে সংবাদ সম্মেলনে যুক্ত হয়ে এ কথা বলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, অর্থমন্ত্রী ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন।  বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে কয়েক মাস ধরে বিপর্যয়ের পরও বাজেটের আকার কমেনি বরং বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১১ বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির ধারাবাহিক অগ্রগতির সুফল এই বাজেট।  করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা নিশ্চিত করা, মানুষ যেন কষ্ট না পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সব প্রতিকূলতাকে জয় করে আগামী অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করা হয়।

কাদের বলেন, করোনাভাইরাসে সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করে; সংকটকালীন ও সংকট পরবর্তী সম্ভাব্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার গতিপথ নির্ণয়ের লক্ষ্যকে সামনে রেখেই প্রণিত হয়েছে এবারের বাজেট।  যা জীবন-জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে শেখ হাসিনা সরকারের সময়োচিত সাহসী চিন্তার ফসল।

এবারের বাজেট প্রণয়নে অনিশ্চয়তা ছিল জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এই বাজেট প্রণয়নে দুটি অনিশ্চয়তা ছিল, যা জয় করা ছিল দুরূহ। অনিশ্চয়তা দুটি হচ্ছে- বাংলাদেশে করোনা মহামারি চূড়ান্ত পর্যায়ে কী হবে, সে সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনও  ধারনা না থাকা এবং করোনা-উত্তর বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতি কী হবে, তা সুনির্দিষ্ট করে এখনই বলতে না পারা। এই অনিশ্চয়তা জয় করে দুর্যোগপ্রবণ বাংলাদেশে দুর্যোগ মোকাবিলার একমাত্র ত্রাণকর্তা সাহসী নেতৃত্ব জননেত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত সফলভাবে বাজেট প্রণয়নের কাজ সম্পন্ন করেছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এবারের বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।  তবে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণ ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে কৃষিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।  অধিক খাদ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ ও বীজে প্রণোদনা, কৃষি পুনর্বাসনে জোর দেওয়া, সারের ওপর ভর্তুকি প্রদান অব্যাহত রাখাসহ বিভিন্ন কর্মদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

‘সবদিক বিবেচনায় নিয়ে করোনার কবল থেকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের এক ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট হচ্ছে এবারের বাজেট।  এটি একটি জনবান্ধব ও জীবনঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক পরিকল্পনা।  যার মাধ্যমে দেশের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উৎসাহ পাবে।  কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রচার সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান।