১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

প্রতিহিংসার কবলে মৌলভীবাজারের কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান


এমদাদুল হক, সম্পাদক | PhotoNewsBD

৩১ মে, ২০১৯, ৮:৪৮ অপরাহ্ণ

প্রকৃতি মুখরিত এবং প্রবাসী অধ্যুসিত মৌলভীবাজারের অর্থনীতির চাকা সবসময়ই সচল। আর এই চাকা সচল রাখতে সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখছেন ব্যবসায়িরা। মৌলভীবাজারের মানুষের চাহিদামত দীর্ঘদিন ধরে সেবা দিচ্ছে বেশকিছু স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

 

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, যাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানগুলো সেবা দিচ্ছে তাদের অনেকেই সুযোগ পেলে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলেন, লিখেন এবং ফেসবুকে ছড়িয়ে দেন। এ যেন হাতি গর্তে পড়লেই চামচিকারা লাথি মারা শুরু করে।

 

আচ্ছা,
দোষ-ত্রুটি হয় না কার?
শুধু হাতে গোনা দু’একটা প্রতিষ্ঠানের দোষত্রুটি খুঁজে বের করতে হবে কেন বারবার?
বিশেষ কিছু সময়ে এসব করা হয় কেন?
এর পেছনে রহস্য কী?
সর্বপ্রথম নিউজ করে ভাইরাল করে কারা?
কোন স্বার্থে?
কেন?

 

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কঠিন। তবে একজন সচেতন মানুষ হিসেবে সম্পূর্ণ নিউট্রাল পজিশন থেকে নিজের বিবেককে প্রশ্ন করলে হয়তো অনেক উত্তর পাবেন।

 

ফটোনিউজবিডি ডটকমের সম্মানিত পাঠকবৃন্দ, আপনারা যারা মৌলভীবাজার থেকে এই লেখাটি পড়ছেন তারা ৫ মিনিট সময় নিয়ে আমার লেখাটি সম্পূর্ণ পড়ুন।

 

গতকাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর শহরের বিলাসে গিয়ে অভিযান করলে পরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হয়। ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, কিছু অতিউৎসাহী মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মৌলভীবাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয়ের সহকারী-পরিচালক মো: আল আমিনকে অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে তাকে ধাওয়া করে এবং অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং জেলা প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তোলে নেন ব্যবসায়ীরা।

 

ভিডিওতে অধিকাংশ মানুষের চেহারা পরিষ্কার। ভিডিও দেখেই ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের পরিচয় উদঘাটন সহজ হবে। এছাড়া ঘটনাস্থলের দোকানগুলোর সিসিটিভি ফুটেজতো আছেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে কর্তৃপক্ষ, এটাই আমরা বিশ্বাস করি।

 

আমি ঘটনা পরবর্তী কিছু অতিউৎসাহী মানুষ এবং অপেশাদার কিছু সংবাদকর্মীর কর্মকান্ড বিশ্লেষণ করতে চাই। যারা ফেসবুক ও বিভিন্ন ভুঁইফোড় অনলাইনে বিষয়টা নিয়ে অতিরঞ্জিত করেছেন এবং পাঠক মহলে বিভ্রান্তি তৈরি করেছেন। যা নিয়ে সচেতন মহল ও দায়িত্বশীল মহল বিব্রত।

 

ঘটনার সাথেসাথে ঐ কর্মকর্তার পদবী সহ বেশকিছু বিষয় ভুলভাবে উপস্থাপন করে কিছু লোক। তারপর কপি-পেস্ট নির্ভর মিডিয়াগুলোও সেটা কোনও রকম যাচাই-বাছাই ছাড়া পাবলিশ করে। কিছু মানুষও সেগুলো কপি-পেস্ট করে ফেসবুকে পোস্ট করে। কেউকেউ বিলাস ও এমবি’র বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মনগড়া মন্তব্য করে এবং নিজের মতো করে শাস্তি দাবি করে। কেউবা ঐসব প্রতিষ্ঠানকে বয়কট করার আহবান জানায়।তাছাড়া কিছু মানুষ ফেসবুকে পোস্ট হওয়া বিভিন্ন লিংকে গিয়ে অতিউৎসাহী কমেন্ট করে।

 

কমেন্ট করা বা মতপ্রকাশ করার অধিকার সবারই আছে। তাইবলে যখন যা ইচ্ছা তা বলবেন? দীর্ঘদিনে অর্জিত একটা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে?

 

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রেক্ষিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু কিছু অতিউৎসাহী মানুষ এবং সংবাদকর্মী এটা নিয়ে এতো পাগলপ্রায় কেন?

 

অতিউৎসাহীরা শুধু বিলাস কিংবা এমবি’র ক্ষেত্রে নয়, বরং শহরের বড়বড় কোনও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নেতিবাচক তথ্য পেলেই তা পাবলিশ করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায়। দ্রুত পাবলিশ করতে গিয়ে অনেক তথ্য যাচাই-বাছাই করেনা এবং ভুলভাবে পাবলিশ করে। মৌলভীবাজার শহরে ডিপার্টমেন্টাল ব্যবসায় সবচেয়ে বেশি ভুমিকা রাখছে এমবি ও বিলাস।

 

ইদানীং প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান প্রশংসনীয়। এতে সাধারণ মানুষই উপকৃত হচ্ছেন বেশি।

 

কিন্তু নিয়মিত অভিযানের ঐ নিউজগুলো ভাইরাল হয়না। শুধুমাত্র বিলাস, এমবি, পানসী ও স্বাদের মতো বড়বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যখন অভিযান হয় তখনই সেই নিউজগুলো ভাইরাল করার জন্য উঠে পড়ে লেগে যায় কিছু অতিউৎসাহী মানুষ ও সংবাদকর্মী।

 

দুদিন ধরে যারা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে  এই অতিউৎসাহী কাজ করছেন তাদের অনেকেই বিভিন্ন সময়ে, উৎসবে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ও উপঢৌকন নিয়ে চলেন। যারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে অতিরঞ্জিত সংবাদ করেছেন সেইসব দুদিনের অপেশাদার সংবাদকর্মীদের সহপাঠিরা অনলাইন পত্রিকা করার জন্য এবং বিজ্ঞাপনের জন্য ঐসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ধরনাও দেন।

 

এসব নিয়ে লিখতে গেলে অনেক লম্বা হয়ে যাবে। আমি শুধু একটি বিষয় টানতে চাচ্ছি, সেটা হচ্ছে ভুল সবারই হয়। একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে এবং সেটার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে সমাধানও হবে আশাকরি। কিন্তু এটা নিয়ে যারা বিভিন্নভাবে অনলাইন অফলাইনে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তারা মূলত এই জেলা শহরের স্বনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করছেন।

 

এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাথে ফটোনিউজবিডি ডটকমের কোনও স্বার্থ জড়িত নেই। কারণ ঐ প্রতিষ্ঠানগুলো মিডিয়াবান্ধব নয়। তাছাড়া ঐ প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিকপক্ষও আমার ঘনিষ্ঠ কেউ না। তাই ফটোনিউজবিডি ডটকম বিজ্ঞাপনও আশা করেনা এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে। শুধুমাত্র বৃহত্তর স্বার্থের জন্য ফটোনিউজবিডি ডটকম আজ এই লেখাটি পাবলিশ করছে।

 

প্রিয় পাঠক, এমনিতেই মৌলভীবাজারের অনেকে দেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহ হারিয়ে লন্ডন আমেরিকায় চলে যাচ্ছেন। ভালো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি না থাকে তখন আমাদেরকেই ভোগান্তিতে পড়তে হবে বেশি। মানসম্মত পণ্য কেনার জন্য তখন যেতে হবে বিভাগীয় শহর কিংবা রাজধানীতে।

 

তাই আসুন আমরা দু’একটা নেতিবাচক বিষয়কে অনলাইন অফলাইনে বেশি প্রচার না করে ইতিবাচক বিষয়গুলো প্রচার করি। এতে যারা ভালো কিছু করছে তারা উৎসাহিত হবে।