১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

প্রিয়া সাহার গডফাদারদের পরিচয় জাতি জানতে চায়- অলিদ সিদ্দিকী


এমদাদুল হক, সম্পাদক | PhotoNewsBD

২৪ জুলাই, ২০১৯, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ

জাতীয় জনতা- ফোরামের আহবায়ক, ডিইউজে সদস্য- ও মানবাধিকার সংগঠক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার বলেছেন যারা প্রিয়া সাহাকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে, জাতি সেই গডফাদারদের পরিচয় জানতে চায়,

গতকাল নিজের ফেসবুক পেজেও অলিদ তালুকদার তিনি এই মন্তব্য করেন, গত ১৯ তারিখে দুদকের সহকারি পরিচালকের স্ত্রী প্রিয়া সাহা যুক্তরাষ্টের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের কাছে নালিশ করে যে বাংলাদেশে ৩ কোটি হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কে গুম ও ঘর বাড়ি ছাড়া করা হয়েছে ,এই অভিযোগের ভিত্তিতে সারাদেশে ব্যাপি শুরু হয় প্রতিবাদ ও সমালোচনা ঝড়-।

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে ‘বৃহত্তর কর্মসূচী’ ঘোষণা করবে দেশের তৌহিদী জনতা-।

অনতিবিলম্বে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করে আইনের আওতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে জনতা- ফোরামের আহবায়ক মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার ।

অন্যথায়, দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার স্বার্থে এধরণের দেশদ্রোহীদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম এ দেশের সর্বস্তরের তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচী ঘোষণা করতে বাধ্য হবে বলে হুশিয়ারি দেন ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

২৩ জুলাই (মঙ্লবার ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ফোরামের আহবায়ক ও ডিইউজে সদস্য- মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে যে তথ্য প্রকাশ করেছেন তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও গভীর ষড়যন্ত্রমূলক।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের একজন নাগরিক এবং সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী সংখ্যালঘু নেত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের মুসলমানদের মৌলবাদী নাম দিয়ে যে কুৎসিত মন্তব্য ও তথ্য দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

“তার মতে বাংলাদেশ থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ৩ কোটি ৭০ লক্ষ লোক (ডিসঅ্যাপিয়ারড) গুম হয়েছে যার কোন সত্যতা ও প্রমাণ তার কাছে নেই। শুধু তাই নয়, প্রিয়া সাহার এই মন্তব্যটি বাংলাদেশের সর্বোস্তরের তৌহিদী জনতার হৃদয়ে আঘাত করেছে এবং এতে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। রাষ্ট্রের পদে আসিন হয়েও কিভাবে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন তথ্য ভিন্ন রাষ্ট্রের কাছে তুলে ধরতে পারে তা বোধগম্য নয় ” যোগ করেন অলিদ তালুকদার।

অলিদ তালুকদার আরও বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির সাথে সকল ধর্মের লোকেরা একসাথে বসবাস করে আসছে এবং বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এবং তারা এদেশে নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার পরিপূর্ণভাবে ভোগ করে আসছে। বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরাম, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদেরকে ফান্ডামেন্টালিস্ট বা মৌলবাদী আখ্যা দেয়ার মাধ্যমে তাদের প্রতি এদেশের মুসলমানদের যে অবদান, সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহার ইত্যাদি অস্বীকার করে ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণ দেখিয়েছে, যাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতার চরমপর্যায় বলে মনে হয়।

জাতীয় জনতা-ফোরামের আহবায়ক অলিদ সিদ্দীকী তালুকদার বলেন– বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা গত ১৮ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাত করে “বাংলাদেশে মুসলিম মৌলবাদীরা হিন্দুদের জায়গা-জমি দখল ও ঘর-বাড়ী পুড়িয়ে দিয়েছে” মর্মে যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন তার তীব্র নিন্দা জানান ফোরামের নেতৃবৃন্দ।

অলিদ তালুকদার বলেন- ‘হিন্দু-বৌদ্ধ, খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহা ‘বাংলাদেশে মুসলিম মৌলবাদীরা হিন্দুদের জায়গা-জমি দখল ও বাড়ী-ঘর পুড়িয়ে দিয়েছেন’ মর্মে যে মিথ্যা বক্তব্য দিয়েছেন আমি তার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। তার এ বক্তব্য সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত।

দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশের বিরুদ্ধে এ ধরনের দায়-দায়িত্বহীন বক্তব্য দিয়ে তিনি দেশেরই ক্ষতি করেছেন। তার এ ধরনের তৎপরতা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।
তিনি মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছেন।

বাংলাদেশ সম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ। এ দেশে সকল সংখ্যালঘুই সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতি বিনষ্টের হীন উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। তিনি মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে বাংলাদেশকে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।

ইতোমধ্যেই বিভিন্ন মহল তার ঐ মিথ্যা বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এ মিথ্যা বক্তব্য দিয়ে নিজের ব্যক্তি স্বার্থে দেশের ক্ষতি করেছেন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেছেন যে, ‘বাংলাদেশে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানকে গুম করা হয়েছে।’ এত অধিক সংখ্যক সংখ্যালঘু তো বাংলাদেশে ছিলই না।

অলিদ তালুকদার বলেন তাহলে এত অধিক সংখ্যক সংখ্যালঘু গুম হলো কীভাবে? এতেই স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, তার এ বক্তব্যটি নির্জলা মিথ্যাচার ছাড়া আর কিছুই নয়। তার এই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহীর শামিল। সুতরাং সরকারকে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাচ্ছি।”