১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ২রা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

বাংলাদেশ ও বহির্বিশ্বে ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম’


নিউজ ডেস্ক | PhotoNewsBD

৫ মে, ২০১৯, ৮:০৯ অপরাহ্ণ

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে জনসচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে সামাজিক জনসচেতনতা তৈরির প্রত্যয়ী সংগঠন ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’ এর উদ্যোগে ক্যাম্পেইন করা হয়েছে।

 

এবারের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়েছে ইথিওপিয়ায়। ১ মে থেকে ৩ মে পর্যন্ত এবারের দিবসটি পালন করা হয়। দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয় ‘নির্বাচন ও গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’।

 

 

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস ২০১৯ উপলক্ষে দিনব্যাপী বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ায় ক্যাম্পেইন করেন ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’ এর সদস্যবৃন্দ। শুক্রবার (০৩ মে ২০১৯) দিনব্যাপী বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও নিউমার্কেট এলাকায় প্লেকার্ড হাতে নিয়ে (সিএমএফ)’ এর সদস্যদেরকে ক্যাম্পেইন করতে দেখা যায়। এসময় ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি, ফটোনিউজবিডি ডটকমের সম্পাদক সাংবাদিক এমদাদুল হকও প্লেকার্ড হাতে নিয়ে ক্যাম্পেইন করেন।

 

 

এদিকে মালয়েশিয়ার একটি জনবহুল এলাকায় দিনব্যাপী প্লেকার্ড হাতে নিয়ে ক্যাম্পেইন করেন ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম আরিফ। তিনি বলেন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণ করে এমন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের জরিপ এবং মূল্যায়নে দেখা যাচ্ছে সারা বিশ্বেই গণমাধ্যমের ঝুঁকি বেড়ে চলেছে। আর যেসব দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে, তার মধ্যে মালয়েশিয়াও রয়েছে।

 

 

দিবসটি উপলক্ষে গত বুধবার (০১ মে) ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডস-এ লর্ডসভার সদস্য রবার্ট ইমিস ওমের সভাপ‌তি‌ত্বে ডি‌জিটাল গনমাধ্য‌মের চ্যা‌লেঞ্জ ও সম্ভাবনা নি‌য়ে গোল‌টে‌বিল বৈঠকে অংশ নিয়ে বক্তব্য রাখেন ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’ এর উপদেষ্ঠা লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক মুনজের আহমদ চৌধুরী। সরকারের কমনও‌য়েলথ ও ইউনাইটেড নেশনস বিষয়ক মন্ত্রীসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা এতে অংশ নেন। সভায় বক্তারা ভুয়া খবর, সাইবার হামলা, সেন্সরশিপ আর সহিংসতার মতো ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয় বিষয়ে আলোচনা করেন। দেশে দেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের সমালোচনা করেন তারা।

 

 

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে ইউনেস্কোর ২৬তম সাধারণ অধিবেশনের সুপারিশ অনুযায়ী ১৯৯৩ সালে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় ৩ মে তারিখটি ‘ওয়ার্ল্ড প্রেস ফ্রিডম ডে’ অথবা ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস’র স্বীকৃতি পায়। সেই থেকে প্রতি বছর গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সংক্রান্ত মৌলিক নীতিমালা অনুসরণ, বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মূল্যায়ন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্ষতিগ্রস্ত ও জীবন হারানো সাংবাদিকদের স্মরণ ও তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

 

প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে দিবসটি পালন করছে আন্তর্জাতিক এই সামাজিক জনসচেতনতা তৈরির প্রত্যয়ী সংগঠন ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’। সিএমএফ এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি এমদাদুল হক বলেন, সারা বিশ্বে যখন মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হচ্ছে, তখন বিভিন্ন দেশে গণমাধ্যমের ওপর চাপ ও ভয়ভীতি আমাদের যারপরনাই উদ্বিগ্ন করে।

 

এমদাদুল হক আরও বলেন, বাংলাদেশ থেকে আমরা ‘ক্যাম্পেইন ফর মিডিয়া ফ্রিডম (সিএমএফ)’ এর কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। পর্যায়ক্রমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্নভাবে আমাদের এই ক্যাম্পেইন কার্যক্রম চলছে। গণমাধ্যম ও গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য আমাদের এই আন্দোলন বিশ্বব্যাপী দিন দিন সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে।