১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বিএনপির প্রচারে বাধা দিচ্ছে পুলিশ


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২৮ জানুয়ারি, ২০২০, ৮:১৭ অপরাহ্ণ

ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর স্বরূপ উন্মোচিত হতে শুরু করেছে দাবি করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ অভিযোগ করেছেন, সিটি নির্বাচনে বিএনপির প্রচারে বাধা দিচ্ছে পুলিশ।মঙ্গলবার বিকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী আহমেদ বলেন, বিগত জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে যে অবস্থা বিরাজমান ছিল অর্থাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নেতা-কর্মীদের হয়রানি, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের, বিএনপি নেতা-কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের ঘুম কেড়ে নেয়ার নীতি এবারও তারা তা অব্যাহত রেখেছে।

তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী আওয়ামী লীগকে জেতাতে ততটাই মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ঢাকা শহরে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বরাবর নির্বাচনের পূর্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং বৈধ অস্ত্র জমা নেয়া হয়। এবারে ঢাকা সিটি নির্বাচনে সেই উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সুতরাং সন্ত্রাসের বাতাবরণে একদলীয় ভোট অনুষ্ঠিত করার জন্য বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারের প্রধান ও তার  প্রীতিধন্য সিইসি প্রতিদিনই নানা প্রকাশের আক্ষেপে নব নব রূপে স্ফুরিত হচ্ছেন।

রিজভী জানান, একটু আগে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেন তাকে  ফোন করে জানিয়েছেন, ধানমন্ডিতে বিএনপির পূর্ব নির্ধারিত প্রচারণা কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। সেখানকার ওসি ও ডিসি দাঁড়িয়ে থেকে বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রচার-প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, গত পরশু গোপীবাগে ধানের শীষের প্রার্থী ইশরাক হোসেনের প্রচারণায় আওয়ামী সশস্ত্র হামলার ঘটনার পর উল্টো বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বানোয়াট মামলা দায়ের করার পর এপর্যন্ত ১০-১২ জনকে গ্রেফতার করে এখন রিমান্ডের নামে চলছে অকথ্য নির্যাতন। ৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামীসহ শতাধিক অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এই অজ্ঞাতনামা আসামী করার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে গণগ্রেফতার চালিয়ে এলাকাকে বিএনপি নেতাকর্মী ও ভোটারশুন্য করা।

৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী রোকন উদ্দিনের ক্যাম্প থেকে হামলা করা হয়, দোতলা থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ১২ জনের মতো বিএনপি নেতাকর্মীকে আহত করা হয়। আহতদের মধ্যে তিনজন সাংবাদিকও রয়েছেন। অথচ এ ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে থানায় মামলা করতে গেলেও মামলা নেয়নি ওয়ারী থানার ওসি আজিজুর রহমান।

তিনি বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার যে ওয়ার্ডে বাস করেন সেখানে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে, সেখানে বিএনপির নির্বাচনী ক্যাম্প পোড়ানো এবং টিভি ক্যামেরাম্যানকে চাপাতির কোপ দিয়ে আহত করা হয়েছে। ওয়ারী থানা বিএনপির সভাপতি হাজী লিয়াকত আলীর ওপর সরাসরি হামলা চালানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সিইসির নেতৃত্বে কতিপয় কমিশনার ও ইসির কর্মকর্তারা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের বিজয়ী করতে মাস্টারপ্ল্যান তৈরী করে রেখেছে। আর সেজন্যই সিটি নির্বাচন নিয়ে কোন আলোচনা কমিশনসভায় স্থান পায় না। আজ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে যতো অভিযোগ কমিশনে করা হয়েছে সবগুলোই অপ্রয়োজনীয় কাগজের ঝুড়িতে নিক্ষেপ করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে জনমনে গভীর সংশয় থাকলেও দেশের ক্ষুব্ধ জনগণ এখন আর বসে থাকবে না। তারা ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে দু:শাসনের জবাব দিবে।