১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

বিদ্যুৎতের ক্ষতি সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মোকাবিলা


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২৪ মে, ২০২০, ১২:১২ অপরাহ্ণ

দেশের উপকূলীয় এলাকায় ভয়াবহ আঘাত হেনে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে বিদ্যুৎ বিভাগের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মোকাবিলা করা হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আম্ফানের পূর্বাভাস আসার পর থেকে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং বিতরণের দায়িত্ব নিয়োজিত সংস্থাগুলোকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। প্রতিমন্ত্রী নিজেও কাজের তদারকি করেন। ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেন তিনি।

জানা গেছে, বিতরণ কোম্পানিকে ক্ষতির হিসাব দেওয়ার জন্য একটি গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। গাইডলাইন অনুসারে সামগ্রিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের পর সিদ্ধান্ত নেবে বিদ্যুৎ বিভাগ। এছাড়া যেসব স্থানে ট্রান্সফরমান জরুরি ভিত্তিতে সারানো যাচ্ছিল না, সেসব স্থানে বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয় মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে।

বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ শফিকউল্লাহ বলেন, কুষ্টিয়া, ফরিদপুরসহ বিভিন্ন স্থানে বড় আকারের ট্রান্সফরমার সংক্রান্ত সমস্যা হয়েছে। কিছুস্থানে ঢাকা থেকে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুরো বিষয় তদারকি করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের আলোকে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

জানা গেছে, ১১০০ কোটি টাকা বেশি ক্ষতি করে যাওয়া এ ঘূর্ণিঝড়ের ফলে বিদ্যুৎ বিভাগের মোট ক্ষতি এখনো নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রাথমিক তথ্যে এ ক্ষতির পরিমাণ ৭০ কোটির বেশি বলে ধরা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর দেড় কোটির বেশি মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহের দায়িত্ব নিয়োজিত পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রায় ৩৫ হাজার পয়েন্টে বিদ্যুৎ লাইন ছিঁড়ে গেছে, প্রায় ২০ হাজার মিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, দুই হাজার ৭০০ বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙেছে, আঘাত ও পুড়ে ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে ৮শ। শুধুমাত্র এ বিতরণ সংস্থারই ক্ষতি হয়েছে ৩০ কোটির বেশি টাকার সরঞ্জাম।

ওয়েস্ট জোন পাওয়া ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) ১২ লাখ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। কোম্পানিটির ৪৯০ কিলোমিটার লাইনের ক্যাবল ছিড়ে পড়েছে। ৭৮১টি পোল ভেঙেছে, হেলে পড়েছে এক হাজার ৭১৬টি। ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে গেছে ১১৪টি। তাদের ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার মতো। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বিদ্যুৎ বিতরণ করা নর্দান ইলেক্টিক সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১০ কোটি টাকার মতো। কুষ্টিয়ায় পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) একটি সাবস্টেশন পুড়ে গেছে। এ সাবস্টেশনের জন্য নতুন ট্রান্সফরমারের দাম ২০ কোটি টাকার মতো।