৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

বড় আশা দেখাচ্ছেন তাসকিন


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২৬ এপ্রিল, ২০২১, ১০:৪১ অপরাহ্ণ

বিরুদ্ধ সময় কাটিয়ে উঠার তৃপ্তি পাওয়া যায় তখনই যখন সাফল্য দুই হাত ভরিয়ে দেয়। তাসকিন আহমেদের জন্য সাফল্য দুই হাত ভরে না আসলেও যেভাবে নিজেকে মেলে ধরছেন তাতে তৃপ্তি পাচ্ছেন নিশ্চয়ই।

পাল্লেকেলেতে ডানহাতি পেসারের বোলিং অধিনায়ক মুমিনুল হককেও তৃপ্তি দিয়েছে, ‘বোলিংয়ে তাসকিন আউটস্ট্যান্ডিং চেষ্টা চালিয়েছে। ও অনেক চেষ্টা করেছে।’

পায়ের গোড়ালির এক ইনজুরিতে দেড় বছর ক্যারিয়ার থেকে উধাও। তারও আগে জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়া। সব মিলিয়ে ক্যারিয়ারটা পিছিয়ে যায় পাক্কা তিন বছর। তাসকিন ফিরলেন। আবার নিজেকে মেলে ধরলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে ফেরেন ৪ বছর পর।

এরপর নিউ জিল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা দলে তাকে নিয়ে সফর করে বাংলাদেশ। নিউ জিল্যান্ডের কন্ডিশনে ভালো বোলিংয়ের পুরস্কার পাননি বাজে ফিল্ডিংয়ে। তবে শ্রীলঙ্কায় টেস্টে মরা উইকেটে ৩০ ওভার বোলিং করে ৩ উইকেট নিয়ে আশার আলো দেখিয়েছেন। বিশেষ করে নতুন বলে তার গতিময় বোলিং, বৈচিত্র্য এবং ছন্দ পেস আক্রমণে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

পুনর্বাসনের সময়ে তাসকিন নিজেকে গড়েছেন নতুন করে। গত বছর করোনার কারণে সব যখন থমকে গিয়েছিল তখন ব্যক্তিগত ট্রেনার নিয়োগ দিলেন। তাকে নিয়ে রাতদিন চলে কার্যক্রম। জিমে ওয়েটলিফটিং, আউটডোরে তপ্ত বালির ওপর দৌড়ানো। আবার নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাইন্ড ট্রেনিংও করেছেন। সেই কাজের অংশ হিসেবে আগুণের ওপর হেঁটেছেন, আধাঘণ্টা-এক ঘণ্টার ধ্যানেও বসেছেন।

সেই সঙ্গে স্কিলে কাজ করেছেন পেস বোলিং কোচ মাহবুব আলীর সঙ্গে। সব কিছুর যোগফলে করোনা প্রাদুর্ভাবের পর ক্রিকেট মাঠে গড়ালে বিসিবি প্রেসিডেন্ট কাপে ২৬.২৮ গড়ে ৭ উইকেট নিয়ে তাসকিন পান ‘কামব্যাক ফ্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’-এর পুরস্কার।

তাসকিনের সেসব পরিশ্রম, চেষ্টা চোখে পড়েছিল মুমিনুল হকের। পাল্লেকেলে টেস্ট শেষে সেসব গণমাধ্যমে জানাতে দ্বিধা করেননি টেস্ট অধিনায়ক, ‘আপনারা হয়ত জানেন না, ও গত এক দেড় বছর থেকে অনেক চেষ্টা করছে, অনেক কষ্ট করছে। আমার মনে হয় এটা কষ্টের ফল। সত্যি কথা বলতে ও অনেক এফোর্ট দিয়েছে। যখন দলের দরকার তখন বোলিংয়ে এসেছে। এই কন্ডিশনে এত লম্বা সময় বল করাও কঠিন। আমি খুবই খুশি ওর পারফরম্যান্সে।’

সঙ্গে মুমিনুলের বিস্ময়, ‘আমি তাসকিনের বোলিং খুবই উপভোগ করেছি। ওর বোলিং দেখে মনে হচ্ছে না যে মাত্র ৬টা টেস্ট খেলেছে। কোনোভাবেই তা মনে হয়নি।’

তাসকিনের বোলিংয়ে মুগ্ধ শ্রীলঙ্কা সফরে বাংলাদেশ দলের লিডার খালেদ মাহমুদ সুজন। ‘আমি খুব খুশি তাসকিন যেভাবে বল করেছে, আমি মনে করি জোরে বল করেছে, এফোর্ট দিয়েছে। এই গরমে এত সহজ ছিল না। তাসকিনতো প্রায় ৩০ ওভার বল করেছে। গ্রেট এফোর্ট। সবসময় যেটা হয় ৩০ ওভার বল করলে বোলিংয়ের মত বোলিং হয়না, কিন্তু তাসকিন পুরো এফোর্ট দিয়েছে, আমি খুব খুশি।’

ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ১৫০ কি.মি. গতিতে বোলিং করার কথা জানিয়েছেন। ফিটনেসে উন্নতি করায় এবার পাল্লেকেলে গতিও বেড়েছে তাসকিনের। নিজেকে ছাপিয়ে তাসকিন লক্ষ্যে পৌছতে পারলে নিশ্চিত পেস আক্রমণে বাড়তি কিছু পাবে বাংলাদেশেও।