১৬ই মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ২রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ | ১৫ই শাওয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

ভাত কম খেতে বলিনি: কৃষিমন্ত্রী


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২৯ অক্টোবর, ২০২১, ৯:২৩ অপরাহ্ণ

‘মানুষ ভাত বেশি খায় এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে’ গণমাধ্যমে এমন কোন কথা বলেননি বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। ‌

তি‌নি বলেন, ‘এ ধরনের কথা আমি কোনো দিনই বলি না। আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি। পুষ্টি জাতীয় খাবার খাওয়ার কথা বলেছিলাম।’

শুক্রবার (২৯ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটির এক সেমিনারে তিনি এমন কথা বলেন।

সেমিনারের বিষয় ছিল ‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ২০২১ : বাংলাদেশের প্রত্যাশা।’

চালের সংকট কমাতে কৃষিমন্ত্রী দেশের মানুষকে ভাত কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন জানিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। এরপর মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) রাতে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে উদ্ধৃত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে কৃষিমন্ত্রী দাবি করেন, ভাত কম খেতে বলেননি তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘ধানের জাত এবং চাষাবাদ কী হওয়া উচিত, তা নিয়ে আমাদের বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা একটি বিষয় ছিলো। আমরা চাল জাতীয় খাবারে অনেকটা আত্ন নির্ভারশীল। যদি ভাল আবহাওয়া থাকে, আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। আমরা খাদ্যে উদ্বৃত্ত থাকি। কিন্তু এখন আমাদের লক্ষ্য হলো পুষ্টি জাতীয় খাবার। এটি আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি, আমরা পুষ্টি জাতীয় খাবার এবং সি ফুড মানুষকে দেব। এটাই এখন আমাদের চ্যালেঞ্জ। এটা করার জন্য কৃষিকে আধুনিকীকারণ করতে হবে। আমরা যান্ত্রিকরণ করছি। আমরা কৃষিপণ্যকে যান্ত্রিকারণ করবো প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে। আমাদের কৃষকদের আয় বাড়াতে হবে, তাদের জীবনযাত্রার মান বাড়াতে হবে।’

কৃ‌ষিমন্ত্রী ব‌লেন, ‘এ কথা আমি আর একদিন বলেছি, আমাদের এক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ফোরামে। ৭৭টি মিডিয়া আমার বক্তব্য কাভার করেছে। একটি ভূইফোঁড় পত্রিকা তারা নিউজ করেছে আমি নাকি বলেছি, মানুষ ভাত বেশি খায় এ জন্য চালের দাম বেড়ে গেছে। এ ধরনের কথা আমি কোনো দিনই বলি না। আমি এ প্রসঙ্গই আনিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের লক্ষ্য হলো আগামী প্রজন্মকে সৃজনশীল ও মেধাবী করার মানুষকে পুষ্টি জাতীয় খাবার দিতে হবে। জাপান চার বেলা ভাত খায়, কিন্তু তাদের কনযানশন ২ গ্রামেরও কম। সেখানে আমরা আগে ৪৩০ গ্রাম খেলাম এখন এটা কমে ৩৭০ গ্রামে আসছে। আস্তে আস্তে কমছে। মানুষের যেহেতু আয় বাড়ছে মানুষ এখন শাক সবজি, ফলমূল, ডিম, মাছ মাংস সে দিকেই বেশি যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিজ্ঞানীরা বিআর-৬৭ নামে একটা জাত আবিস্কার করেছে। ইনশাল্লাহ এটা কোস্টাল এরিয়াতে হবে। আমরা গমের জাত আবিস্কার করছি যা উষ্ণ অবস্থার মধ্যে, অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তন হোক আর না হোক আমরা প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবেলা করার জন্য প্রস্ততি নিচ্ছি। কারণ বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনে কৃষিই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ কমিটির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপ কমিটির সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন।

বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য় অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, বাংলাদেশে সেন্ট্রার ফর অ‌্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, সিনিয়র সাংবাদিক কাওসার রহমান। সঞ্চালনা করেন ব্যারিস্টার ফারজানা মাহমুদ।