১৭ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা আষাঢ়, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৭ই জিলকদ, ১৪৪২ হিজরি

মা’থা ন্যাড়া করলেই কি করো’নাভাই’রাস থেকে মুক্ত থাকা যাবে?


| PhotoNewsBD

১৮ এপ্রিল, ২০২০, ১২:০৮ অপরাহ্ণ

করো’নাভাই’রাসের কারণে ঘর বন্দী হয়ে পড়েছেন দেশের মানুষ। চলছে লকডাউন। লকডাউনে অনেকে অনেকভাবে সময় পার করছেন। তবে ব্যতিক্রম দেশের তরুণরা। লকডাউনে তাদের মা’থা ন্যাড়া করার উৎসব চলছে। হঠাৎ করে তরুণরা কেন মা’থা ন্যাড়া করছে? তবে তরুণরা বলছেন ন্যাড়া মা’থায় ঠাণ্ডা লাগে। আরাম অনুভূত হয়।

যেহেতু সেলুন বন্ধ রয়েছে, মা’থার চুল কা’টা যাচ্ছেনা। সেলুনে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা সম্ভব না। আর লকডাউনে ঘরে থাকতে হচ্ছে তাই অনেক তরুণ মা’থা ন্যাড়া করছে। অনেকে মা’থা ন্যাড়া করা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দিয়ে বলছে হোম কোয়ারেন্টাইন। আবার দেশে গুজবও উড়েছে মা’থা ন্যাড়া করলে করো’নাভাই’রাস থেকে মুক্ত থাকা যাবে।

করো’নাভাই’রাসের সাথে মা’থা ন্যাড়া করার গুজবের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা’থা ন্যাড়া করার সাথে ভাই’রাসে সুস্থ থাকা, অ’সুস্থ হওয়ার সাথে বৈজ্ঞানিক কোন স’ম্পর্ক নেই। তারা বলছেন, বর্তমানে দেশে লকডাউন চলছে। করো’নাভাই’রাসের জন্য ঘরে বসে থাকতে হয় এজন্য অনেক তরুণ মা’থা ন্যাড়া করছে। কারো কারো মা’থায় চুল কম, কারো মা’থায় খুশকি বা কেউ চিন্তা করছে মা’থার চুল ফেলে দিলে লজ্জায় ঘর থেকে বের হবে না। অনেকে আবার এরকম ছবি ফেসবুকে দিচ্ছে। ঘরে বসে থাকতে হয় এজন্য অনেক তরুণ মা’থা ন্যাড়া করছে। মা’থা ন্যাড়া করার সাথে করো’নাভাই’রাসের কোন স’ম্পর্ক নেই।

চুলের মধ্যে ভাই’রাসের সংক্রমণ থাকে। আবার চুলে ময়লাও থাকে। এজন্য পিপিই ব্যবহার করা হয়। যারা ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা’সেবায় নিয়োজিত থাকে বা তাদের সংস্প’র্শে আসে তাদেরকে বলা হচ্ছে বাসায় গেলে সাথে সাথেই গোসল করতে। যাতে চুল থেকে করো’নার সংক্রমণ এড়ানো যায়। অনেকে এই চিন্তা থেকে চুল কাঠতে পারে। তবে চুল না থাকলে যে ভাই’রাসে আ’ক্রান্ত হবেনা এটার ভিত্তি নেই।

মা’থা ন্যাড়া করা, মা’থার চুল লম্বা করা, খাটো করা, মা’থা টাক থাকা, চুলে ডিজাইন ধ’রানো, কলপ দেয়া এসবের উপকার বা সমস্যা কি? এব্যাপারে বিশেজ্ঞরা কি বলেন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মা’থায় চুল থাকা দরকার। প্রয়োজন না হলে সবার মা’থায় চুল থাকত না। রেগুলার চুল না থাকলে সমস্যা। চুল কাটলে মা’থা ঠাণ্ডা থাকবে এটার কোন ভিত্তি নেই। তবে মা’থায় ক্যামিক্যাল ব্যবহার না করাই ভালো। কোন কারণ ছাড়াই মা’থার চুল না কা’টা ভালো। চুলের প্রয়োজন আছে বলে আল্লাহ তায়ালা দিয়েছেন। চুল থাকলে কি হবে? চুল না থাকলে কি হবে? এটার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এটা নিয়ে কোন গবেষণা হয়নি। অনেকের মা’থাতো টাক আছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, যেসব প্রা’ণী বরফের মধ্যে থাকে তাদের শরীরে লোম বেশী থাকে। যেখানের আবহাওয়া উষ্ণ সেখানকার প্রা’ণীর লোম কম থাকে। মা’থার চুল লম্বা বা খাটো রাখা এটা কোন সমস্যা না। এটা আমাদের ঐতিহ্য।

শ্যাম্পুর ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। চুলের ময়লা পরিষ্কার করার জন্য শ্যাম্পু ব্যবহার করা যাবে। এটি সপ্তাহে একদিন বা দু’দিন। তবে শ্যাম্পু ভালো মানের হতে হবে। ভেজাল শ্যাম্পু হলে সমস্যায় পড়তে হবে। ভালো দোকান দেখে শ্যাম্পু কিনতে হবে। মান বজায় রেখে চলা শ্যাম্পু ব্যবহার করা ভালো। দেশের আবহাওয়া ভালো না থাকার কারণে ধূলাবালি মা’থায় জমে। এতে করে মা’থায় খুশকি হতে পারে।
তেলের ব্যবহার নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলেন, তেলের ব্যবহার করতেই হবে এটার কোন ভিত্তি নেই। আমাদের এই সাবকন্টিনেন্টে এটা ব্যবহার করা হয়। পৃথিবীর অনেক দেশে তেলের ব্যবহার নেই। বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া ও পা’কিস্তানে তেলের ব্যবহার। এটা আমাদের ঐতিহ্যের মধ্যে চলে আসছে। মা’থা ঠাণ্ডা বা গরমে তেলের কোন স’ম্পর্ক নেই। তেলের ব্যবহার করলে মা’থা ঠাণ্ডা থাকে এটা একটা বিশ্বা’সের মধ্যে চলে আসছে।

যাদের ন্যাচারাল চুল আছে সেটাই তার জন্য উপযু’ক্ত। অনেকের অনেক ধরণের চুল আছে এটা হয় আবহাওয়ার কারণে। তবে যারা চুলে বিভিন্ন ডিজাইন ধ’রায় সেটা তার জন্য ক্ষতিকর না। তবে যে ক্যামিকেল ব্যবহার করে সেটা মানসম্মত হতে হবে। যদি মানসম্মত না হয় তাহলে মা’থায় ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে।

অনেকেই আবার কলপ ব্যবহার করে। এটা আগে দেখতে হবে এটি মানসম্মত কিনা? দেখা যায় অনেকে কলপ ব্যবহার করলে মা’থায় এলার্জি সমস্যা হয়। তাই এটা আগেই বিবেচনা করতে হবে এটি ব্যবহার করলে তার সমস্যা হবে কিনা?

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মনোরোগ বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. পলা’শ রায়ের মতে, চুলের যত্ন নেওয়া উচিত। চুলের যত্ন না নিলে মা’থায় খুশকি, এলার্জি, স্কিনে সমস্যা বা চুল পড়া হতে পারে। চুল বড় করলে মা’থা ব্যথা হবে বা চুল খাটো করলে মা’থা ব্যথা হবেনা এটা ফ্যাক্টর না। মহিলারাতো অনেক লম্বা চুল রাখে তাদের কোন সমস্যা হয়না।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট