১৬ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৩রা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

মাদকের উৎসকে প্রতিহত করতে হবে : নেছার


সাইফুল্লাহ হাসান, মৌলভীবাজার | PhotoNewsBD

৬ মে, ২০১৯, ৫:২৯ অপরাহ্ণ

“মাদক সেবীদের যেভাবে গ্রেফতার করা হয় তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব¡ দিতে হবে উৎসদের। প্রতিহত করতে হবে মাদকের উৎসকে ” মৌলভীবাজারে ‘মাদক নির্মূল ও মাদক সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ।

 

তিনি আরও বলেন, কোথা থেকে কার মাধ্যমে মাদক আসছে। এবং কারা মৌলভীবাজার শহরে মাদক ব্যাবসায় জড়িত। মাদকের সাথে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে একশো ভাগ কটোর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার আজ অনেক কর্মসংস্থান তৈরি করে দিয়েছে। কিন্তু তারপরও বলা হয় বেকারত্বের কারনে মাদকের সয়লাব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাকেও যদি এসব কর্মকান্ডে জড়িত পান এবং আমি যদি এসবে মদদ দেই তাহলে আমাকেও এরেস্ট করেন।

সোমবার (৬ মে) সকালে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের আয়োজনে ও জেলা পুলিশের সহযোগিতায় মৌলভীবাজার প্রেসক্লাব সভাপতি আব্দুল হামিদ মাহবুব এর সভাপতিত্বে ও সাধরাণ সম্পাদক সালেহ এলাহি কুটির পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি নেছার আহমদ।

 

মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আজিজুর রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল, বিপিএম, পিপিএম, পৌরসভার মেয়র মোঃ ফজলুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান প্রমুখ।

 

সৈয়দা জহুরা আলাউদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন, এখন মাদকের ভয়াবহতা অনেকটা কমে আসছে। ছোটবেলা দেখতাম সবাই সিগারেট খায়। দাদি নানিরা দেখতাম সাদা পাতায় খেতে, তখন যে সাদা পাতা নিষিদ্ধ ছিলো তা তারা জানতেন না। আর যদি জানতেন তাহলে তা করতেন না। সকলের সহযোগিতায় এখন অনেকটা কমে এসেছে। আওয়ামী লীগ যতদিন ক্ষমতায় ছিলো কোন দিন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয় নি।

 

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেশ কয়েকটি বিষয় নিষিদ্ধ করেছিলেন এর মধ্যে একটি হলে জুয়া এবং পরবর্তীতে একি সাথে মাদককে নিষেধ করে দিয়েছিলেন।

 

জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, অপরাধী কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। ২৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে আইনের চোখে সবাই সমান। সুস্থ মস্তিষ্কের লোক জঙ্গিবাদে যেতে পারে না। মাদকাসক্ত লোককে মাদকের লোভ দেখিয়ে তারা জঙ্গিবাদে লিপ্ত করে। উচ্চবিত্ত পরিবারের ছেলেরা বেশি মাদক মাদক ব্যবহার করছে। আলালের ঘরেরে দুলালরাই বেশি মাদক সেবন করছে।

 

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহজালাল তার বক্তব্যে বলেন, কে কোন দলের কোন মতের কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদকসেসবী ও মাদক ব্যবসায়ীদের কেউ শেল্টার দিলে তাদের বিরোদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান। আমরা কোন দল বিবেচনা করব না। এসময় তিনি সকলের কাছে মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের তথ্য দিয়ে সহযোগীতার আহবান জানান। সাথে তথ্যদাতার পরিচয় গোপন থাকবে।

 

পৌর মেয়র ফজলুর রহমান তার বক্তব্যে বলেন, পুলিশের অভিযানে অনেকে পালিয়ে গেছে। সবাই মিলে তাদেরকে নির্মূল করতে হলে পুলিশকে সহযোগীতা করতে হবে। সবাইকে বলেন সোনার স্বপ্নের মৌলভীবাজার যেনো মাদক মুক্ত হয় সেজন্য সবাইগে এগিয়ে আসতে হবে।

 

সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সরওয়ার আহমদ বলেন, চোরকে পেঠানোর ক্ষমতা পাবলিকের ছিলো কিন্তু হিরোইন সেবীদের পেঠানোর ক্ষমতা পাবলিকের নেই। তার পেছনে আছে রাজনৈতিক সমর্থন। তাহলে তাদেরকে কিভাবে জনগন রুখবে।

 

এছাড়াও মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও এনটিভির স্টাফ করসপেন্ডেন্ট এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার জেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক সিরাজুল ইসলাম, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সুবোধ কুমার বিশ্বাস, , মৌলভীবাজার টাউন সিনিয়র কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ শামসুল ইসলাম, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান রাফি উদ্দিন, জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি সৈয়দ শাহাবউদ্দিন, জেলা আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক মিছবাহুর রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক ডা. ছাদিক আহমদ, একাটুনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান, নাট্যকার আব্দুল মতিন, সিনিয়র সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধ গবেষক সরওয়ার আহমদ, দৈনিক বাংলার দিন সম্পাদক বকসি ইকবাল আহমদ ও ইমজা সভাপতি শাহ অলিদুর রহমান।