৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

মিশরের পার্লামেন্টে ব্রাদারহুড মুক্ত করতে আইন পাস


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৪ জুলাই, ২০২১, ১০:৫২ অপরাহ্ণ

মিশরের প্রশাসনকে মুসলিম ব্রাদারহুড মুক্ত করতে দেশটির পার্লামেন্টে নতুন এক আইন পাস করা হয়েছে।

সোমবার (১২ জুলাই) মিসরীয় পার্লামেন্টে সদস্যদের অনুমোদনের মাধ্যমে এই আইন পাস করা হয়।

বুধবার (১৪ জুলাই) সংবাদ সংস্থা ডেইলি সাবাহ’র এক প্রতিবেদনে এ তথ‌্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন আইন অনুযায়ী দেশটির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যদি মুসলিম ব্রাদারহুডসহ যেকোনো ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণিত হয়, তাহলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ১৯৭২ সালে প্রণিত সরকারি কর্মচারীদের পদচ্যুত করার আইনের অধীনে নতুন এই সংশোধনী আনা হয়েছে। তবে চাকরিচ্যুত হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৬০ দিনের মধ্যে প্রশাসনিক আদালতে আপিল করার সুযোগ পাবেন।

আরব বসন্তের প্রভাবে ২০১১ সালে মিশরে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক হোসনি মোবারকের পতন ঘটে। বিপ্লবের পর ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম নির্বাচনে মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনৈতিক শাখা ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস পার্টি (এফজেপি) বিপুল ভোটে জয় লাভ করে। ব্রাদারহুডের পক্ষ থেকে মোহাম্মদ মুরসি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।

তবে এক বছর পরই মোহাম্মদ মুরসির বিপক্ষে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের জেরে মিসরীয় সামরিক বাহিনী ২০১৩ সালের জুলাইয়ে এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করে।

মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রতিবাদে তার সমর্থকরা দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ শুরু করেন। রাজধানী কায়রোর রাবা আল-আদাবিয়া স্কয়ারে অবস্থান নিয়ে মোহাম্মদ মুরসির ক্ষমতা পুনর্বহালের দাবিতে একটানা প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন তারা।

সেই বছরের ১৪ আগস্ট রাবা আল-আদাবিয়ার প্রতিবাদকারীদের দমনে অভিযান চালায় মিসরীয় নিরাপত্তা বাহিনী। এক দিনের অভিযানে আটশ’র বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হন।

তখন থেকে মিসরে মুসলিম ব্রাদারহুডসহ সব বিরোধী দলীয় নেতাদের ওপর দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ওই সময় মুসলিম ব্রাদারহুড ও সংশ্লিষ্ট সব সংগঠনকে বেআইনি ঘোষণা করে মিশরীয় প্রশাসন।