২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

রাত দশটায় রং চা


আশরাফ আলী: | PhotoNewsBD

২৭ মার্চ, ২০২০, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

রাত দশটায় রং চা। রাত সাড়ে ১১টায় আজান দিয়ে নামাজ। একটি বাচ্চা হাসপাতালে জন্ম নিয়ে মারা যাবার আগে বলে গেছে রং চা চিনি ছাড়া আদা দিয়ে খেলে করোনা ভাইরাস ধারে কাছে আসবে না। রাত দু’টায় ভূমিকম্প আসবে তাই গ্রামের মানুষ রাতে না ঘুমিয়ে ভূমিকম্পের অপেক্ষা। রাস্তায় রাস্তায় আল্লাহু আকবার ধ্বনি। যা রীতিমতো ভাইরাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

একদিকে আল্লাহর গজব শুরু হয়েছে পৃথিবীতে। সারা পৃথিবী যখন করোনা ভাইরাসের প্রকোপে কাঁপছে। লকডাউন করে দেয়া হয়েছে দেশগুলো। করোনা ভাইরাসের কারণে ইউরোপের দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী যখন বলেন, এখন আকাশের দিকে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে হাজারো মানুষ। দিনে দিনে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। তখন আমার সোনার বাংলা গুজব নিয়ে ব্যস্ত।

বাংলাদেশে একের পর এক গুজব ছড়াচ্ছে একটি চক্র। করোনা ভাইরাসকে পুঁজি করে ব্যবসায়ীরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে দিল। পরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে দ্রব্যমূল্যের দাম আবারও নাগালে আসে সাধারণ মানুষের। এই কঠোর ব্যবস্থার জন্য প্রশাসন ধন্যবাদ পাবার যোগ্য।

কয়েকদিন আগে একটি গুজব ছড়ায় থানকুনি পাতা খেলে করোনা ভাইরাস সেরে যায়। যার দরুন ১০টাকার থানকুনি পাতা ২শত টাকা হয়ে যায়। যারা এই গুজব ছড়ায় তাদের ধরে পাছায় বাড়ি দিলে ঠিক হবে। তা না হলে তাদের ঠিক করা সম্ভব না।

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পৃথিবীর বাঘা বাঘা বিজ্ঞানীরা যখন হিমশিম খাচ্ছেন আমরা তখন একের পর এক আবিষ্কার করে যাচ্ছি। গুজবের কারণে লজ্জিত করোনা ভাইরাস। সকল সম্ভবের দেশ বাংলাদেশ। এখানে কত কিছুই হয়, যা অন্য কোন দেশে সম্ভব না।

এখানকার মানুষগুলি আজাইরা বসে করোনা ভাইরাস নিয়ে মারামারি করে মরে। এই মারামারিতে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মাস্ক আর মাক্স নিয়ে সংঘর্ষ করে, করোনা ভাইরাসের সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করতে মারামারি, জীবাণুনাশক স্প্রে করা নিয়ে দুই এলাকার মধ্যে সংঘর্ষ। এই হচ্ছে আমাদের দেশের মানুষগুলোর অবস্থা।

ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, দোকানপাট, শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ছুটি পেয়ে সবাই একযোগে বাড়ির পথ ধরেছে। দেখে মনে হয় ঈদের ছুটিতে তারা বাড়ি যাচ্ছে। হায়রে বাংলাদেশের মানুষ। তোমরা সচেতন হবে কখন?

দেশ কার্যত লকডাউন। কিন্তু এর প্রভাব গ্রামাঞ্চলে পড়েনি। গ্রামের মানুষের কাছে করোনা ভাইরাস পরাস্ত। তারা করোনা ভাইরাসকে পাত্তা দিতে চায়না। কেউ একটু সচেতন করলে বলে ঈমান শক্ত থাকলে কিছুই হবেনা। সবাই যার যার মতো দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামে আছেন যে সমস্ত প্রবাসী তারা কোয়ারেন্টাইনের কোন তোয়াক্কা করছেন না। তারা গ্রামের চা স্টলে বসে নিজে চা খাচ্ছেন, অন্যকে চা খাওয়াচ্ছেন। কারো সাথে দেখা হওয়ার পর গলাগলি করছেন, হাত মিলাচ্ছেন। সচেতনতার কোন লেশমাত্র নেই গ্রামাঞ্চলে। অবশ্য কিছু সচেতন ফ্যামেলি ছাড়া।

আসুন করোনা ভাইরাস নিয়ে মানুষকে সচেতন করে তুলি। এটা সেটা খেলে করোনা ভাইরাস ধারে কাছে আসবে না এমন গুজব থেকে বিরত থাকি এবং বিরত রাখি। সরলমনা মানুষগুলোকে কোন গুজবে না ফেলি। সবাই যাতে হোম কোয়ারেন্টিন মেনে চলি। যাতে আল্লাহ আমাদের এই বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। আল্লাহর কাছে সর্বদা সেই দোয়া করি।

সর্বশেষ একটি প্রার্থনা যারা এই গুজব ছড়ায় আল্লাহ তুমি তাদের হেদায়াত দাও।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট।