১৫ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং | ১লা পৌষ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ১৮ই রবিউস-সানি, ১৪৪১ হিজরী

রোযা : আত্মশুদ্ধি অর্জনই মূল উদ্দেশ্য


মোঃ জসীম উদ্দিন, দোহা (কাতার) | PhotoNewsBD

৭ মে, ২০১৯, ৫:০১ অপরাহ্ণ

বর্ষ পরিক্রমায় পবিত্র রমজান মাস আমাদের মাঝে উপস্থিত। রোযা আল্লাহর দেয়া ফরজ ইবাদত গুলোর মধ্যে অন্যতম একটি ফরজ। আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন
“হে ঈমানদাগণ! তোমাদের ওপর রোযা ফরয করে দেয়া হয়েছে যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী নবীদের অনুসারীদের ওপর ফরয করা হয়েছিল ৷ এ থেকে আশা করা যায়, তোমাদের মধ্যে তাকওয়ার গুণাবলী সৃষ্টি হয়ে যাবে ।” (আল বাকারাহ আয়াত ১৮৩)

 

 

উল্লেখিত আয়াতে রোজা রাখার উদ্দেশ্য তাকওয়া বা আল্লাহ ভীতির গুন অর্জনের কথা বলা হয়েছে । তাকওয়া বলতে বাস্তবে কি বুজায় তা একটি হাদিস থেকে স্পষ্ট জানা যায়। হযরত ওমর (রাঃ) উবাই ইবনে কা’ব (রাঃ)কে প্রশ্ন করেছিলেন তাকওয়া কি ? উত্তরে তিনি বলেছিলেন আপনি কি এমন কোন পথ অতিক্রম করেছেন যা খুবই ছোট, আশপাশ কাটায় ভরা, পিচ্ছিল রাস্থা । তিনি বললেন হ্যা আমি এরকম পথ অতিক্রম করেছি । তখন আপনি কী করতেন ? আমি অতিক্রম করতাম এভাবে যে কোন কাটা যেন আমার কাপড় আটকাতে না পারে, পড়ে না যাই এবং খুব দ্রুত আমি এ স্থান ত্যাগ করতাম । উবাই ইবনে কা’ব বললেন এটাই তাকওয়া ।

 

 

তাকওয়া মানে হল যাবতীয় গুনাহের কাজ থেকে দুরে থাকা । মহান আল্লাহ রোজা ফরজ করেছেন একজন মুমিন বান্দা রোজা রাখার মাধ্যমে এমন একটি গুন হাসিল করবে যার মাধ্যমে যাবতীয় পাপের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে পারবে, সব সময় আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ সে মেনে চলবে ।এক জন রোযাদার বান্দা যখন রোজা রাখে তখন সে ঘরের দরজা বন্ধ করে বা নির্জন জঙ্গলে অথবা পানিতে ডুব দিয়েও খাবার তার সামনে থাকার পরও সে খায়না, পানীয় পান করেনা যদিও সেখানে কেউ তাকে দেখছেনা তবুও সে পানাহার করেনা । কেন ? সে বিশ্বাস করে যে এ পৃথিবীর কেউ না দেখলেও মহান আল্লাহর চোখকে সে ফাকি দিতে পারবেনা। যদি এটাই সত্যি হয় তাহলে মহান আল্লাহর শুধু কি একটা আদেশ যে সুবহে সাদিক থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যাবতীয় পানাহার থেকে মুক্ত থাকা ?

 

 

তিনিতো আরো আদেশ দিয়েছেন পাচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে প্রতি দিন পাচবার । যে আল্লাহ রোজা অবস্থায় দিনের বেলা খেলে দেখে ফেলেন সে আল্লাহ পাচ ওয়াক্ত নামাজ না পড়লে কি দেখেন না ? তিনি আদেশ করেছেন সুদ না খেতে, ঘুষ না খেতে, হিংসা- বিদ্বেষ প্রতারনা সহ সকল খারাপ ও গর্হিত কাজ পরিহার করতে। তিনি আরো আদেশ করেছেন মা-বাবা, আত্বীয় স্বজনের হক্ব আদায় করতে, যাকাত আদায় করতে। এগুলোও অমান্য করলে আল্লাহ দেখেন এই অনুভূতি জাগ্রত করতে হবে রোজার মাধ্যমে। আপনার সামনে খাবার, ইফতারের দশ মিনিট বাকী আছে খাওয়া শুরু করবেন ? না, কারন আল্লাহর নিষেধ সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত বলবত, আল্লাহ আদেশ করলেই খাব।এভাবে একটি মাস আল্লাহর আদেশ নিষেধ মানার ট্রেনিং দিলেন এবং স্বীকার করলেন যে আমি আল্লাহর যাবতীয় আদেশ ও নিষেধ মেনে চলব আমার যতই কষ্ট হোকনা কেন ।

 

 

সুতরাং রোযার গুরুত্ব এখানেই যে আপনি এভাবে চিন্তা করে যাবতীয় ইবাদাত করবেন এবং পুজি সংগ্রহ করবেন যাতে বাকি এগারটি মাস মহান আল্লাহর যাবতীয় আদেশ নিষেধ মানতে পারেন আর এ গুনটির নাম তাকওয়া ।

 

(সম্মানিত পাঠক, ফটোনিউজবিডি ডটকমে দোহা (কাতার) থেকে  নিয়মিত কলাম লিখছেন বিশিষ্ট কলামিস্ট মোঃ জসীম উদ্দিন। পড়তে চোখ রাখুন শুধুমাত্র ফটোনিউজবিডি ডটকমে। ধন্যবাদ।)