২৮শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৫শে জমাদিউস সানি, ১৪৪৩ হিজরি

লংলা চা বাগানে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ নিহত ১


ষ্টাফ রিপোর্টারঃ | PhotoNewsBD

১৪ জুলাই, ২০২১, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লংলা চা বাগানে শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে মালিক পক্ষ ও শ্রমিকদের সংঘর্ষে লালটু কর দীপেন দাশ নামে এক শ্রমিক নিহত হয়েছে। এঘটনায় উভয় পক্ষের ২০/২৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন।
বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ১০ জুলাই শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি ও অন্যান্য সুবিধা বাড়ানোর দাবিতে শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করে। দাবি মানা না হলে শ্রমিকরা কাজ না করার হুশিয়ারি দেয়।
মালিক পক্ষ বিভিন্ন চেষ্টা করেও আন্দোলন থামাতে পারেনি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাগানের ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুম শ্রমিকদের একটি গ্রুপের সাথে গোপনে আতাত করে সংঘর্ষে ইন্ধন দেয়। প্রথম ২দিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেন শ্রমিকরা। তৃতীয় দিনে মালিক পক্ষ ও চাশ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালিন সময়ে মালিক
পক্ষের শ্রমিক লালটু কর দীপেন দাশ মারা যান। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা ম্যানেজার আব্দুল কাইয়ুমের ইশারায় শ্রমিক দল নেতা জুনেদ আহমেদ এর ব্যবসায়ীক প্রতিষ্টান
“নিউ কামাল মিষ্টিঘর” দোকানে এবং শ্রমিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বিজয় লালের দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে লালটু কর দীপেন দাশের স্ত্রী জোসনা রানী দাশ বাদী হয়ে ১৩ জুলাই রাতে ২৫ জনের নামে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হলেন, (১) রুপক দাশ (২) নেপাল দাশ ৩, জুনেদ আহমেদ ৪, রতিন্দ বাবু ৫, বিজয় লাল ৬, নান্টু মালাকার ৭, লিটন দাশ ৮,
কৌশিক চন্দ্র ৮, অনুরদা দাশ ৯, ইয়াছিন রহমান ১০, বিকাশ চন্দ্র ১১, গোলাপ চন্দ্র ১২, নাগ দাশ, ১৩, রতন চন্দ্র ১৪, শংকর দাশ ১৫, কিবরিয়া ১৬, হোসাইন আহমদ ১৭, রিয়াজ উদ্দিন ১৮, নজরুল ইসলাম ১৯, আবেদ হোসেন
২০, মঞ্জু বিজয় ২১, অশোক দাশ ২২, পান্না দত্ত ২৩, রিপন দে ২৪ চিনু রঞ্জন ও ২৫, নজরুল ইসলাম। এ বিষয়ে চা বাগানের মালিক এনামুল ইসলাম বলেন জুনেদ
আহমেদ, বিজয় লাল দাশ, নেপাল দাশ চা শ্রমিকের এক অংশকে তাদের নিয়ন্ত্রনে নিয়ে অযুক্তিত আন্দোলন শুরু করেন। তারা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা
ঘটিয়েছেন।
কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বিনয় ভূষণ রায় বলেন, এই হত্যাকান্ডের সাথে সংশি-ষ্টদের গ্রেফতার করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। কিছুদিনের মধ্যেই হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হবে এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওয়াত আনা হবে।