২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সত্য কথা বললে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে চলে যায়


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৩০ আগস্ট, ২০২১, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

‘জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কি না প্রমাণসাপেক্ষ ব্যাপার’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্যের জবাবে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘ঐতিহাসিক সত্যের প্রমাণ লাগে না’।

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আপনারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন কি না, আপনার পরিবার মুক্তিযুদ্ধ করেছে কি না, সেটা এখন প্রমাণসাপেক্ষ ব্যাপার। সত্যিকার অর্থে আপনারা মুক্তিযুদ্ধ চেয়েছিলেন কি না, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিলেন কি না, নাকি বৃহত্তর পাকিস্তানের ক্ষমতা চেয়েছিলেন, এটাও এখন গবেষণার বিষয়।’

বিএফইউজের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর মুক্তির দাবিতে সোমবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘যারা সত্যিকারের রণাঙ্গনের যোদ্ধা বর্তমানে তাদের অপমান করা হচ্ছে। আপনার (শেখ হাসিনা) স্বামীর বইটি কি আপনার কাছে নেই? ওই বইতে তিনি লিখেছেন ‘আমি আর শেখ হাসিনা মালিবাগ থেকে জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছি’। তাহলে আপনি কাকে অনুসরণ করেন? আপনার চারপাশের চামচাদের?’

রিজভী বলেন, ‘রুহুল আমিন গাজী একজন মুক্তিযোদ্ধা তার ওপর নিপীড়ন কেন? কারণ একটাই, তিনি সত্য কথা বলেন। একজন বিবেকবান মানুষ যদি সাংবাদিক হন তাহলে তিনি লিখবেন না? অবশ্যই লিখবেন। আর এই অপরাধে তিনি আজ কারাগারে। আর যারা দুর্নীতি করছে, সন্ত্রাস করছে, তারা ঘুরে বেড়ান, এমপি-মন্ত্রী হন।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, আজ আন্তর্জাতিক গুম দিবস, এই দেশে অনেকেই গুম হচ্ছে বা হয়েছে। আর এসব গুমের মূল হোতা এ সরকার। গুমের মতো একটি বিষয় আজ আমাদের জনগণের মুখেমুখে। কারণ এটিকে জনসংস্কৃতির অবিচ্ছিন্ন অংশ হিসেবে পরিণত করেছে এই সরকার। প্রতিদিন প্রতিটি ঘরে প্রতিটি মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে, কখন তার সন্তানকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

সত্য কথা বললে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে চলে যায় উল্লেখ করে বিএনপির এ নেতা বলেন, রুহুল আমিন গাজী, কবি আল মাহমুদ তারা সবসময় সত্য কথা দেশের পক্ষে বলেছেন। সত্য কথা, দেশের পক্ষে বললে আওয়ামী লীগের বিপক্ষে যায়। সেজন্য এসব বরেণ্য ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেয়নি এ সরকার। যারা টিক্কা খানের চাকরি করেছে, কিন্তু জয় বাংলা স্লোগান দেয়, তারা আওয়ামী লীগের কাছে, তাদের নেত্রীর কাছে প্রিয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, ডিইউজের সভাপতি কাদের গণি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।