২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৮ জুলাই, ২০২১, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ জিতে বাংলাদেশকে সিরিজ জেতালেন সাকিব আল হাসান। লক্ষ্য আহামরি বড় ছিল না, ৩০০ বলে ২৪১ রান। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে লক্ষ্য কঠিন করে ফেলে অতিথিরা।

কিন্তু দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। যাকে জিম্বাবুয়ের কোনো বোলার ভোগাতে পারেননি, মনোবল নাড়াতে পারেননি। তার অপরাজিত ৯৬ রানের নজরকাড়া ইনিংসে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে ৩ উইকেটে। তার সঙ্গে সাইফ উদ্দিন অপরাজিত ছিলেন ২৮ রানে। দুজনের অষ্টম উইকেটে ৬৪ বলে ৬৯ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয় এনে দেয়।

সাকিবের ব্যাটে শেষটাও রাঙায় বাংলাদেশ। শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ৩ রান। মুজারাবানির প্রথম বলে সাকিব হাঁকান বাউন্ডারি। বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমে সিরিজ জয়ের আনন্দ। সাকিব পেলেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। ব্যাটিংয়ের আগে সাকিব বল হাতেও নেন ২ উইকেট।

 

স্কোর: বাংলাদেশ ২৪২/৭

ওভার: ৪৯.১ ওভার

জিম্বাবুয়ে ২৪০/৯

 

সাকিব-সাইফ জুটির ফিফটি

৫৩ বলে সাইফ উদ্দিন ও সাকিবের জুটির রান পঞ্চাশ পেরিয়েছে। বাংলাদেশের ইনিংসের দ্বিতীয় পঞ্চাশ রানের জুটি এটি। এর আগে মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব ৫৫ রান করেছিলেন পঞ্চম উইকেটে।

পারবেন তো সাইফ-সাকিব?

দারুণ ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশের জয়ের আশা বাঁচিয়ে রেখেছেন সাকিব। সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মিছিলে জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে সাকিব দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে রান তুলে যাচ্ছেন। দলের প্রয়োজন মিটিয়ে যেভাবে ব্যাটিং করা দরকার সেভাবেই ব্যাটিং করছেন। শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ৩১ রান। সাকিব ব্যাটিং করছেন ৮৪ রানে। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন সাইফ উদ্দিন।

৮২ বল পর প্রথম বাউন্ডারি

২৯.৩ ওভারে সাকিব সিকান্দার রাজার বল বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ফিফটিতে পৌঁছান। এরপর ৮২ বলে কোনো বাউন্ডারি আসেনি বাংলাদেশের ইনিংসে। সাকিব সেই শেকল ভাঙলেন। ৪৩.২ ওভারে সাকিব লুক জংওয়ীর বল কভার দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান।

সাকিবকে সঙ্গ দিতে পারলেন না আফিফও

সিকান্দার রাজার বল এগিয়ে এসে খেলতে চেয়েছিলেন আফিফ। কিন্তু বল বাড়তি টার্ণ করায় নাগাল পাননি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। চাকাবা স্টাম্পিংয়ের সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেননি। ১৫ রানেই শেষ আফিফের ইনিংস। সাকিবের সঙ্গে তার জুটি ছিল ২৮ রানের। জয়ের পথ সহজ করে তুলতে তার উইকেটে থাকা দরকার ছিল। কিন্তু সাকিবকে সঙ্গ দিতে পারলেন না আফিফ।

সাকিবের ফিফটি, বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

সিকান্দার রাজার ওভারপিচ বল স্লটে পেয়ে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে পাঠালেন সাকিব। ৪৭ রান থেকে সাকিব পৌঁছে গেলেন ফিফটিতে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের যা তার ৪৯তম ফিফটি। ৬টি বাউন্ডারিতে ৫৯ বলে ফিফটি পেয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। চার ম্যাচ পর তার ব্যাট থেকে এলো ফিফটির ইনিংস।

সাকিব মাইলফলকে পৌঁছলেও বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। ৩২ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৬ উইকেটে ১৪৫। জয়ের জন্য ১০৮ বলে প্রয়োজন ৯৬ রান। এখান থেকে দলকে উদ্ধার করতে হলে সাকিবকে আরও বড় ইনিংস খেলতে হবে।

দলকে বিপদে ফেললেন মিরাজ

ডানহাতি অফস্পিনার মাধভেরের বল সুইপ করে সীমানার বাইরে পাঠাতে চেয়েছিলেন মিরাজ। কিন্তু মাঠের সবচেয়ে বড় দিক টার্গেট করে বিপদ ডেকে আনলেন তিনি। তার এলোমেলো শট সোজা যায় ডিয়োন মায়ার্সের হাতে। দলকে বিপদে ফেলে মিরাজ আউট হলেন ৬ রানে। বাংলাদেশ হারাল ষষ্ঠ উইকেট।

ফিরে বাংলাদেশকে বিপদে ফেললেন মুজারাবানি

খাদের কিনারা থেকে দলকে উদ্ধার করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব। এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৫৫ রানের জুটি গড়েন তারা। কিন্তু পেসার মুজারাবানি ফিরে বাংলাদেশকে বিপদে ফেললেন। তার নতুন স্পেলের প্রথম বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ২৫ রান করা মাহমুদউল্লাহ। বাউন্সার বল কাট করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় চাকাবার হাতে।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর ব্যাটে প্রতিরোধ

২৪১ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ৭৫ রান তুলতেই ৪ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। পঞ্চম উইকেটে মাহমুদউল্লাহ ও সাকিব প্রতিরোধ গড়ে দলের রান এগিয়ে নিচ্ছেন। ২৫ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ১০৯। পরের ২৫ ওভারে জয়ের জন্য করতে হবে আরও ১৩২ রান। পারবে তো বাংলাদেশ?

রান আউটে চতুর্থ উইকেট হারাল বাংলাদেশ

কথায় আছে, মিস ফিল্ডিংয়ে কখনো রান নিতে নেই! মোসাদ্দেক কী এ কথা জানেন না? নইলে নিজের বিপদ কিভাবে ডেকে আনেন তিনি! ৫০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর ২৫ রানের জুটি গড়েছিলেন মোসাদ্দেক ও সাকিব। কিন্তু তাদের জুটি বড় হওয়ার আগেই ভেঙে গেল। নিজের ভুলে মোসাদ্দেক রান আউট হয়ে ফিরলেন সাজঘরে। রিচার্ড এনগাবারার বল যায় উইকেটরক্ষক চাকাবার হাতে। বল ঠিকমতো গ্লাভসবন্দী করতে পারেননি চাকাবা। ওই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মোসাদ্দেক ১ রান নেওয়ার জন্য ডাক দিয়েছিলেন। কিন্তু চাকাবা দ্রুত রিকোভার করে সরাসরি থ্রোতে উইকেট ভাঙেন। ৯ বলে ৫ রান করে মোসাদ্দেক ফেরেন সাজঘরে। ৭৫ রানে বাংলাদেশ হারাল চতুর্থ উইকেট।

১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ

৩৯ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ১১ রান যোগ করতে আরও ২ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। শুরুটা হয়েছিল তামিম ইকবালকে দিয়ে। এরপর লিটন ও মিঠুন তার পথ ধরেন। ১৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান ৩ উইকেটে ৫০। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে সাজঘরে ফেরা মিঠুন ৩ বলে করেন ২ রান। লুক জংওয়ের অফস্টাম্পের বাইরের বল চালাতে গিয়ে পয়েন্টে মাধবেরের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন মিঠুন। প্রথম ম্যাচে ১৯ রান করা মিঠুন দ্বিতীয় ম্যাচেও হতাশ করলেন। আর সুযোগ পাবেন কী তিনি?

বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাজঘরে

তামিম ইকবালের পর সাজঘরে ফিরলেন লিটন দাস। বাঁহাতি পেসার রিচার্ড নাগারাবার শর্ট বল পুল করতে গিয়ে টাইমিংয়ে গড়বড় করে মিড অনে ক্যাচ দেন লিটন। প্রথম ওয়ানডেতে ১০২ রান করা লিটন এবার করলেন ২১ রান। এজন্য ৩৩ বল খেলেছেন। বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ৪টি। এর আগে তামিম ৩৪ বলে ২০ রান করে আউট হন। ক্রিজে আছেন সাকিব ও মিঠুন।

পাওয়ার প্লে’তে দারুণ বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে প্রথম ১০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে তুলেছিল ৪৬ রান। বাংলাদেশ সমান ওভারে ৬ রান কম করেছে। কিন্তু উইকেট হারিয়েছে ১টি। দশম ওভারে তামিমের উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ৫ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ছিল ১৫ রান। উইকেটে থিতু হয়ে লিটন ও তামিম আগ্রাসন বাড়ান। এ সময়ে আসে ৫টি বাউন্ডারি। লিটন অষ্টম ওভারে চাতারাকে পরপর তিনটি চার হাঁকিয়ে এলোমেলো করে দেন।

রাজার দুর্দান্ত ক্যাচ, বাংলাদেশ হারাল তামিমের উইকেট

দারুণ কভার ও স্ট্রেইট ড্রাইভে চারটি বাউন্ডারি হাঁকানো তামিম ইকবালকে ফেরালেন লুক জংওয়ে। তবে তামিমের উইকেটের জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে পয়েন্টের ফিল্ডার সিকান্দার রাজাকে। লুক জংওয়ের লেন্থ বল ব্যাকফুটে গিয়ে পাঞ্চ করেছিলেন তামিম। পয়েন্টে থাকা রাজা চোখের পলকে নিজের বামদিকে ঝাপিয়ে দারুণ দক্ষতায় বল তালুবন্দি করেন। ৩৪ বলে ২০ রান করে ফিরলেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

বাংলাদেশের সতর্ক শুরু

২৪১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিং করতে নেমে সতর্ক শুরু করেছে বাংলাদেশ। ৫ ওভারে বাংলাদেশের রান ১৫। দুুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান তামিম ও লিটন কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাটিং করছেন।

লক্ষ্য নাগালেই রাখল বাংলাদেশ

সিরিজ জিততে হলে বাংলাদেশকে ২৪১ রান করতে হবে। হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে আগে ব্যাটিং করে জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৪০ রান তোলে।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৬ রান করেন ওয়েসলি মাধভেরে। এছাড়া ব্রেন্ডন টেইলর ৪৬, ডিয়োন মায়ার্স ৩৪ ও সিকান্দার রাজা ৩০ রান করেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে।

বাংলাদেশের বোলিং ছিল নিয়ন্ত্রিত। শুরু থেকে ধারাবাহিক উইকেট নেওয়ায় চাপে রেখেছিল স্বাগতিকদের। বোলারদের নৈপুণ্যে লক্ষ্য আহামরি বড় হয়নি। শরিফুল ৪ উইকেটে নিয়ে বোলারদের মধ্যে সেরা। সাকিবের পকেটে গেছে ২ উইকেট।

সাইফ উদ্দিনের ‘প্রতিশোধ’

পেসার সাইফ উদ্দিনের ওভারে দুই চার মেরে শেষ দিকে রান বাড়াতে চেয়েছিলেন একাদশে সুযোগ পাওয়া সিকান্দার রাজা। কিন্তু শেষমেশ প্রতিশোধ নিলেন ডানহাতি পেসার। তার শর্ট বল আপারকাট করতে গিয়ে টাইমিং মিস করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন রাজা। ৪৪ বলে ৩০ রানের বেশি করতে পারেননি তিনি।

শরিফুলের জোড়া আঘাত

বাঁহাতি পেসার শরিফুলের ফুলটস বল উড়াতে গিয়ে মিড উইকেটে ক্যাচ দিলেন লুক জংওয়ে। মোসাদ্দেক সহজ ক্যাচ কঠিন করে লুফে নেন। ৪৭তম ওভারের শেষে তার শর্ট বল উড়াতে গিয়ে হাওয়ায় ক্যাচ ভাসান মুজারাবানি। লিটনের গ্লাভসে বল যায় সহজেই। শরিফুল এক ওভারে জিম্বাবুয়ে শিবিরে জোড়া আঘাত করলেন। দ্রুত রান তোলার তাড়ায় বড় শট খেলছেন জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা। কিন্তু টাইমিং মেলাতে পারছেন না তারা। শরিফুলের আগের ওভারেই হাফ সেঞ্চুরিয়ান মাধভেরে লং অফে ক্যাচ দেন। এর আগে হিট উইকেটে ফেরান ব্রেন্ডন টেইলরকে।

তামিমের দারুণ ক্যাচে মাধেভেরে সাজঘরে

লং অফ থেকে দৌড়ে প্রায় মিড অফের কাছাকাছি গিয়ে ডাইভ দিয়ে দারুণ ক্যাচ নিলেন তামিম ইকবাল। ওয়েসলি মাধেভেরে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাজঘরে। হাফ সেঞ্চুরির পর দ্রুত রান তুলতে গিয়ে আক্রমণাত্মক হন মাধেভেরে। কিন্তু শরিফুলের স্লোয়ার বলে টাইমিং মেলাতে পারেননি। কঠিন ক্যাচ খুব সহজে তালুবন্দি করে ভয়ংকর হয়ে উঠার আগেই তাকে ফেরালেন তামিম। আউট হওয়ার আগে ৬৩ বলে ৫৬ রান করেন মাধেভেরে। জিম্বাবুয়ে হারাল ষষ্ঠ উইকেট।

মাধেভেরের হাফ সেঞ্চুরিতে জিম্বাবুয়ের প্রতিরোধ

ডিয়ন মায়ার্সকে সাকিব আল হাসান ফেরানোর পর ওয়েসলি মাধেভেরে ও সিকান্দার রাজার পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটিতে প্রতিরোধ গড়েছে জিম্বাবুয়ে। মাধেভেরে পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। ৫২ বল খেলে ৪২তম ওভারের প্রথম বলে মেহেদী হাসান মিরাজকে চার মেরে তৃতীয় ফিফটি করেন তিনি।

সাকিবের দ্বিতীয়, জিম্বাবুয়ে হারাল পঞ্চম উইকেট

ছোট ছোট স্পেলে বোলিং করা সাকিব বারবার ফিরে এসে পাচ্ছেন উইকেটের স্বাদ। এবার ডিয়ন মায়ার্সকে ফিরিয়ে দ্বিতীয় উইকেট নিলেন বাঁহাতি স্পিনার। সাকিবের শর্ট বল লং অন দিয়ে উড়াতে চেয়েছিলেন মায়ার্স। টাইমিংয়ে গড়বড় করে সীমানার অনেক আগে মাহমুদউল্লাহর সহজ ক্যাচে পরিণত হন ৫৯ বলে ৩৪ রান করা মায়ার্স।

হিট উইকেটে আউট টেইলর!

জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। দারুণ ব্যাটিংয়ে রান তুলছিলেন অনায়েসে। কিন্তু হিট উইকেটে আউট হয়ে টেইলর ফিরলেন সাজঘরে। তাতে হতাশ জিম্বাবুয়ে শিবির। তাকে ফিরিয়ে উল্লসিত অতিথি শিবির।

পেসার শরিফুল ইসলামের লেন্থ বল আপার কাট করতে চেয়েছিলেন টেইলর। ব্যাট-বলের টাইমিং হয়নি। এরপর শটের শ্যাডো প্র্যাকটিস করে ব্যাট নামাতে গিয়ে স্টাম্পে আঘাত করেন। বেলস পরে গেলে বাংলাদেশের ফিল্ডাররা আউটের আবেদন করেন।

দুই অনফিল্ড আম্পায়ার নিজেদের মধ্যে কথা বলে তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য চান। টিভি রিপ্লে দেখে টেইলরকে আউট দেন আম্পায়ার। শরিফুল পেয়ে যান প্রথম উইকেট। জিম্বাবুয়ে হারাল চতুর্থ উইকেট। ৫৭ বলে ৪৬ রান করেন টেইলর।

টেইলর-চাকাবার প্রতিরোধ ভাঙলেন সাকিব

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ৬ ওভারেই দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে হারায় জিম্বাবুয়ে। তৃতীয় উইকেটে ৪৭ রানের জুটি গড়ে টেইলর ও চাকাবা প্রতিরোধ গড়েন। তাতে রান আসে অনায়েসে। তাদের জুটি ভাঙার উত্তর জানা ছিল সাকিবের।

১৬তম ওভারে সাকিব বোল্ড করেন চাকাবাকে। ৩২ বলে ২৬ রান করে ফেরেন জিম্বাবুয়ের উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। সাকিবের আর্ম ডেলিভারী ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে স্টাম্পে আঘাত করে। দুই বল আগে প্রায় একই ডেলিভারীতে বল বেরিয়ে যায় বাউন্ডারিতে। এবার স্টাম্পে আঘাত করিয়ে সাকিব পেলেন প্রথম সাফল্য। জিম্বাবুয়ে হারাল তৃতীয় উইকেট।

শতরান পেরিয়ে জিম্বাুয়ে

২৩তম ওভারের চতুর্থ বল। শরিফুলের অফস্টাম্পের বাইরের বল পয়েন্টে ঠেলে ২ রান নিলে জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। ৯৮ থেকে জিম্বাবুয়ের রান পৌঁছে গেল একশ রানে। দ্রুত উইকেট হারানো এবং বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তুলতে সংগ্রাম করতে হচ্ছে স্বাগতিকদের।

পাওয়ার প্লে’তে জিম্বাবুয়ে ‘আপ টু মার্ক’

প্রথম পাওয়ার প্লে’তে (১০ ওভার) জিম্বাবুয়ে তুলেছে ৪৬ রান। তবে হারিয়েছে দুই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানকে। পাওয়ার প্লে’তে স্বাগতিকদের পারফরম্যান্স আপ টু মার্ক। বাংলাদেশ তাদের চাপে রাখলেও জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানরা ঠিকই রান তুলে নিয়েছে।

মিরাজেরও প্রথম ওভারে উইকেট

ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে মেহেদি হাসান মিরাজের হাতে বল তুলে দেন তামিম ইকবাল। পঞ্চম বলেই পান সাফল্যের দেখা। তাডিওয়ানাশে মারুনামিকে বোল্ড করে ফেরান সাজঘরে। সুইং করে ভেতরে ঢোকা বল তাডিওয়ানাশের উইকেট ভেঙে দেয়। আউট হওয়ার আগে ১৮ বলে ২ চারে ১৩ রান করেন তাডিওয়ানাশে।

প্রথম ওভারেই তাসকিনের সাফল্য

টস হেরে বোলিংয়ে নেমে সাফল্য পেতে সময় নিল না বাংলাদেশ। তাসকিন প্রথম ওভারেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দিলেন। ডানহাতি পেসারের বল কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন একাদশে জায়গা পাওয়া তিনেশে কামুনহুকম্বে। শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করছিলেন তাসকিন। তিন স্লিপ নিয়ে উইকেটের পেছনে আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজান। তাতেই মিলেছে সাফল্য।

সিরিজ জয়ের মিশনে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

হারারেতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও আগে বোলিং করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় দুপুর দেড়টায় ম্যাচটি শুরু হয়। প্রথম ওয়ানডেতে ১৫৫ রানের জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। আজ জিতলে এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ নিশ্চিত করবে বাংলাদেশ।

লিটনকে নিয়ে নামছে বাংলাদেশ

ডান হাতের কব্জির চোটে প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং করলেও ফিল্ডিং করতে পারেননি লিটন। ম্যাচ শেষে জানিয়েছিলেন, চোট গুরুতর নয়। আজ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাকে নিয়েই নামছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের একাদশেও কোনো পরিবর্তন আসেনি।

বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাস, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মেহেদী হাসান মিরাজ, সাইফ উদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

জিম্বাবুয়ের দুই পরিবর্তন

দুটি পরিবর্তনে দ্বিতীয় ওয়ানডের একাদশ সাজিয়েছে জিম্বাবুয়ে। দলে ফিরেছেন সিকান্দার রাজা ও তিনেশে কামুনহুকম্বে। বাদ পড়েছেন রায়ান বার্ল ও টিমিসেন মারুমা।

জিম্বাবুয়ে একাদশ: ব্রেন্ডন টেইলর (অধিনায়ক), সিকান্দার রাজা, রেগিস চাকাবা, টেন্ডাই চাতারা, লুক জংওয়ে, ওয়েসলি মাধেভেরে, তিনেশে কামুনহুকম্বে, তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ব্লেসিং মুজারাবানি, ডিয়ন মায়ার্স, রিচার্ড নাগারাবা।

তৃতীয় সিরিজ জয়ের হাতছানি

জিম্বাবুয়ের মাটিতে এর আগে দুইটি ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। প্রথমটি ২০০৯ সালে। অন্যটি ২০১১ সালে। ১০ বছর পর আরেকটি সিরিজ জয়ের হাতছানি বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে ভুলগুলি শুধরে একই পারফরম্যান্সের পুনরাবৃত্তি চান তামিম। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে টানা ১৭ জয়ের সুখস্মৃতি আছে সাকিব-তামিমদের। আফ্রিকার দক্ষিণের দেশটির বিপক্ষে সিরিজ জয়ের ম্যাচে এই পরিসংখ্যান নিশ্চিতভাবেই উজ্জীবিত করবে বাংলাদেশকে।

ঘুরে দাঁড়াতে পারবে জিম্বাবুয়ে

প্রথম ম্যাচ হারলেও ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ে বেশ শক্তিশালী দল। যেকোনো সময় তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারে। টেইলর, চাকাবাদের ব্যাট থেকে একটি বড় ইনিংস ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারে। আবার বোলিংয়ে মুজারাবানিদের একাই প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দেওয়ার সামর্থ্য আছে। এজন্য বাংলাদেশও বেশ সতর্ক। সিরিজ নিশ্চিত করতে হলে দলীয় পারফরম্যান্সের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।