২৩শে জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১০ই জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ডাক্তারদের ITPFUS এর পিপিই প্রদান


স্টাফ রিপোর্টার: | PhotoNewsBD

২৬ এপ্রিল, ২০২০, ৮:০২ অপরাহ্ণ

করোনার জন্য বিশেষায়িত সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ডাক্তারদের পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইকুইপমেন্ট বা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম (পিপিই) প্রদান করেছে আমেরিকায় মুসলমানদেরকে সহযোগীতার সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম আইটিপিএফইউএস।

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামে ছিল- গাউন, গ্লাভস, মুখের আবরণ (ফেস শিল্ড), চোখ ঢাকার জন্য মুখের সাথে লেগে থাকে এমন চশমা, এবং এন-৯৫মাস্ক।

করোনা যুদ্ধের ১ম শহীদ ডা. মঈন উদ্দীনের স্মরণে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করে আইটিপিএফইউএস।

ডা. মঈন উদ্দীন ছিলেন মানব দরদী চিকিৎসক। সর্বমহলে তিনি ‘গরীবের ডাক্তার’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রতি শুক্রবার সরকারি ছুটির দিনে সিলেট থেকে সুনামগঞ্জের ছাতকের নাদামপুর নিজ এলাকায় বিনামূল্যে গরিব অসহায়দের ব্যবস্থাপত্র দিতেন। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পও করতেন তিনি।

ডা. মঈন উদ্দিন সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে গঠিত সিলেট করোনা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এর আগে তিনি এ হাসপাতালের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কমিটিসহ আরো কয়েকটি কমিটির দায়িত্ব পালন করেন।

২২তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার মাধ্যমে তিনি স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজসহ স্বাস্থ্য ক্যাডারে মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর ২০১৪ সালের ২০ মে তিনি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজে মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পদে যোগ দেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

আইটিপিএফইউএসের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশের কৃতী সন্তান মোস্তাফিজুর চৌধুরী তানভীর ফটোনিউজবিডি’কে জানান, করোনা যুদ্ধের সবচেয়ে বড় কাজ হলো প্রথমে ডাক্তার ও স্বাস্থ্য কর্মীদের নিরাপত্ত্বা। সেই বিষয়টি মাথায় রেখে আইটিপিএফইউএস বাংলাদেশের ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম দিয়েছে। যাতে তারা (ডাক্তার) নিরাপদ থাকেন।

তিনি বলেন, একেকটা ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামের (পিপিই) দাম অনেক। এইগুলো যদি ডাক্তাররা নিজে কিনে তাহলে অনেক টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক ডাক্তার (বেতন) সম্মানী পাচ্ছেননা। তাদেরকে উৎসাহ ও সম্মান দেওয়ার জন্য এগুলো (ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম) দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নিউইয়র্কে কবর দেওয়ার জন্য যে টাকা প্রয়োজন সেখানে আইটিপিএফইউএস অংশগ্রহণ করেছে। লকডাউনে বাংলাদেশের গরীব ও অসহায়দের টাকা প্রদান করা হয় সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

তানভীর চৌধুরী আরও বলেন, আইটিপিএফইউএস সকল সময় কল্যাণমুখী কাজ করতে চায়। গ্রামে কারিগরি শিক্ষার বিস্তারে কাজ করছে সংগঠনটি।
দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে আইটিপিএফইউএস।

উল্লেখ্য, আইটিপিএফইউএস আমেরিকায় ২০১৭ সালে মাত্র ২২ জন প্রফেশনালকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে মুসলিম কমিউনিটির লোকজনকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে গড়ে তুলছে আইটিপিএফইউএস। এখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক প্রফেশনাল সফলও হচ্ছেন। মূলত ‘কোনও মানুষকে একটি চাকুরি দেওয়া যেন আপনি পুরো সম্প্রদায়কে সহায়তা করছেন’ এই স্লোগানে কাজ করে যাচ্ছে আইটিপিএফইউএস। এই প্রতিষ্ঠান১২ হাজারের অধিক সদস্যকে আইটিতে ফ্রি প্রশিক্ষণ দিয়েছে। প্রশিক্ষণগুলো হলো সিকিউরিটি প্লাস, এজাইল, কিউএ অটোমেশন, কিউএ ম্যানুয়াল, জাভা, ক্লাউড, এ ডাব্লিউ এস ও হাদুপ সহ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ।
এছাড়াও সংগঠনটি আরো কয়েকটি সেবা দিয়ে থাকে। সেগুলো হলো- পাত্র-পাত্রী খোঁজতে সাহায্য করা, চাকুরি খোজাঁ, সিনিয়র সিটিজেন সার্ভিস, ফ্রি কোরআন শিক্ষা, পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি, মহিলা বাজার, মিডিয়া নিউজ, ক্যারিয়ার সাপোর্ট বা ক্যারিয়ার কাউন্সিল সহ বিভিন্ন ধরণের সেবা।