১৭ই জানুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জমাদিউস সানি, ১৪৪২ হিজরি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মাস্ক সরবরাহ করবে


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

৯ মার্চ, ২০২০, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ

‘করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং তাদের সংস্পর্শে যারা থাকবেন বা যারা আক্রান্ত ব্যক্তির সেবা করবেন তাদের মাস্ক ব‌্যবহার করা প্রয়োজন। আক্রান্ত ও সংশ্লিষ্ট ব‌্যক্তিদের প্রয়োজন বুঝে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে মাস্ক সরবরাহ করবে।’

সোমবার (৯ মার্চ) আইইডিসিআরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

তবে করোনাভাইরাস আতঙ্কে অপ্রোয়জনীয়ভাবে মাস্ক ব্যবহার না করার জন্য আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেছেন, সবার মাস্ক ব্যবহার করার মতো পরিস্থিতি এখনো আমাদের দেশে তৈরি হয়নি। যারা আক্রান্ত হয়েছেন বা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন, শুধু তারা মাস্ক পরবেন।

করোনা প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সবাই প্রস্তুত আছেন, এ দাবি করে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের চোখ-কান খোলা আছে। প্রশাসনের সব বিভাগ প্রস্তুত আছে। জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন, জনপ্রতিনিধিরা আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আমার মনে হয়, মানুষের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

ড. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘যাদের মাস্ক পরা দরকার, তারা যাতে মাস্ক পান, সে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি। যারা চিকিৎসাসেবায় অংশ নেবেন, তাদের যাতে নিরাপত্তার অভাব না হয়, সেদিকে আমরা নজর দিয়েছি।’

তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তের আগেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের ইকুইপমেন্ট সরবরাহ করেছিল। তবে তা পরিমাণে কম ছিল। তখন তারা আক্রান্ত দেশগুলোতেই বেশি বেশি সরবরাহ করেছে। বাংলাদেশে গতকাল করোনায় আক্রান্ত তিন ব‌্যক্তিকে শনাক্তের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দাতা সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তারা সংশ্লিষ্ট ইকুইপমেন্ট সরবরাহ বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও দাতা সংগঠনগুলো উপকরণ দিলেও তাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে স্থানীয়ভাবে উৎপাদন ও সরবরাহের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ তথ‌্য জানিয়ে স্বাস্থ‌্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, স্থানীয়ভাবে মাক্স, হ্যান্ড স‌্যানিটাইজার যাতে আরো বেশি করে উৎপাদন ও সরবরাহ করা যায়, আমরা সে উদ্যোগ নিয়েছি। উপকরণ আসতে থাকবে, আমরা সরবরাহ করতে থাকব, যাতে কোনো ঘাটতি না হয়।

সোমবার দুপুরে আইইডিসিআর মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেছেন, আমরা এখন পর্যন্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ করার নির্দেশনা দেইনি। কারণ, পরিস্থিতি এখনো সেরকম পর্যায়ে যায়নি। যেহেতু আমাদের ঝুঁকি কম, আপনারা এটা নিয়ে শঙ্কিত হবেন না। আমরা জানি, এটা নিয়ে উদ্বেগ হবে। আমরা দেশের জন্য ভাবি, সেজন্য এ উদ্বেগ। কিন্তু আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো হয়নি।

এদিকে, গতকাল বাংলাদেশে তিন ব‌্যক্তির শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা বাজারে মাস্কের দাম হু হু করে বাড়ছে।

খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাস্কের চাহিদা বেড়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বেশি দামে মাস্ক বিক্রি করছেন। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।