২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ | ১৪ই রজব, ১৪৪২ হিজরি

হাওরপারের শিশুরা পেল জামাতে নামাজ পড়ার উপহার


স্টাফ রিপোর্টার: | PhotoNewsBD

২০ জানুয়ারি, ২০২১, ৯:২২ পূর্বাহ্ণ

প্রতিদিন শিশুরা মসজিদে জামাতে নামাজ পড়তে আসে। সাথে করে ছোট কাগজে তাদের নাম লিখে আনে। সেই কাগজটি একটি বাক্সে রেখে দেয়া হয়। ৪০ দিন পর বাক্সটি খুলে যারা সবচেয়ে বেশী জামাতে নামাজে আসে তাদের পুরষ্কিত করা হয়।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের উজিরপুর গ্রাম। হাকালুকি হাওরপারের প্রত্যান্ত এলাকা এটি। এলাকার শিশুদের ভালো কাজে উৎসাহিত করতে কি করা যায় তা নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে চিন্তা মাহমুদ হাসানের। সেই চিন্তা থেকেই মাহমুদ হাসান শিশুদের জন্য নামাজ পড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ করলেন।
শিশুদের ভালো কাজে উৎসাহের জন্য টানা ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করলে পুরষ্কার ঘোষণা করলেন তিনি। প্রথম দিকে এলাকার মুরব্বী ও সাধারণ মানুষের প্রচণ্ড বাধার সম্মুখীন হন। এ কাজে তাকে সহযোগীতা করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। পরে অবশ্য তাদের এই কার্যক্রমে এগিয়ে আসে স্থানীয় স্যোসাল ফাউন্ডেশন নামের একটি সংগঠন।
প্রথমদিকে ৪০ দিন পার হবার পর মাহমুদ হাসান ও চাচা হাসান মাহমুদ এবং স্থানীয় সংগঠনের আয়োজনে ২৩ জন শিশুকে পুরষ্কার হিসেবে পাঞ্জাবী, পায়জামা সহ কিছু কাঁপড় দেন। এসময় বিশেষ বিবেচনায় আরও ৭ জন সহ মোট ২৯ জনকে পুরষ্কিত করা হয়।
এভাবে চলার পর রবিবার (১৭ জানুয়ারী) দ্বিতীয় ধাপে ৪০ দিন জামাতে নামাজ আদায় করায় আরও ৩০ জন শিশুকে পুরষ্কিত করা হয়। দ্বিতীয় ধাপের এই পুরষ্কারে শিশুদের টি-শার্ট উপহার দেন তারা।
স্থানীয় ফাউন্ডেশনের সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন, মাহমুদ হাসান প্রথমে এককভাবে এই উদ্যোগটি গ্রহণ করেন। তার এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে এগিয়ে আসে স্যোসাল ফাউন্ডেশন।
তিনি বলেন, ছোট বেলা থেকে শিশুদের নামাজ পড়তে উৎসাহিত করার জন্য এই পরিকল্পনা হবে দীর্ঘ মেয়াদী।
মাহমুদ হাসান জাগো নিউজকে বলেন, প্রথম দিকে বাধার সম্মুখীন হলেও এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করায় এলাকাবাসী এগিয়ে আসেন আমাদের কার্যক্রমে। এলাকার মুরব্বী সহ সাধারণ মানুষ কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে এই প্রতিযোগীতা চালিয়ে নেয়ার ঘোষণাও দেন।