৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪২ হিজরি

১১৫৪ জনকে নিয়োগ দেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

২৫ মে, ২০২১, ৬:০৮ অপরাহ্ণ

করোনা মহামারি মোকাবিলায় আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদে জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউএনএফপিএ’র মাধ্যমে ১ হাজার ১৫৪ জনকে নিয়োগ ও পরিবহন সেবা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ। এতে ব্যয় হবে ১৩৩ কোটি ৭৫ লাখ ৪২ হাজার ৪১৬ টাকা।

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের আওতায় সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশে করোনা মোকাবিলার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ শীর্ষক প্রকল্পটি ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য হলো—কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় দেশের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, জরুরি চিকিৎসা উপকরণ ক্রয় ও বিতরণ এবং দেশব্যাপী কোভিড-১৯ পরীক্ষা সহজ করা।

দেশব্যাপী করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (এআইআইবি) মূল প্রকল্প তথা বিশ্বব্যাংকের আগের অর্থায়নের সঙ্গে অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার যৌথ অর্থায়ন করে। অপরদিকে, বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (আইডিএ) এর প্রকল্পটিতে অতিরিক্ত ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অন্তর্ভুক্ত করে ভ্যাকসিন কেনা এবং মাঠ পর্যায়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে জনবল ও পরিবহন ব্যয় সন্নিবেশিত করে প্রকল্প দলিল সংশোধন করা হয়, যা চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি একনেক সভায় অনুমোদিত হয়।

করোনার কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের প্যানডেমিক ইমার্জেন্সি ফাইন্যান্সিং ফ্যাসিলিটির (পিইএফ) অর্থায়নের আওতায় স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং ইউএনএফপিএ’র মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ইউএনএফপিএ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা, ল্যাব পরিচালনা ও অন্যান্য সেবা বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ ও পারদর্শী জনবল নিয়োগ এবং পরিবহন সেবা দেয়।

সূত্র জানায়, ওই সেবার কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে প্রকল্পের সংশোধিত দলিলে জনবল ও পরিবহন সেবা অন্তর্ভুক্ত করে পর্যাপ্ত অর্থের সংস্থান রাখাসহ প্রকিউরমেন্ট পরিকল্পনায় একটি সারসংক্ষেপ প্যাকেজ সন্নিবেশ করা হয়। অধিকন্তু, প্রকল্প দলিলের সংযোজনীতে জনবলের সংখ্যা উল্লেখসহ প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারিত আছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত ঋণ চুক্তি অনুযায়ী প্রকল্পের সব ক্রয় কার্যক্রম বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশন এবং পিপিএ-২০০৬/পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ করার বাধ্যবাধকতা আছে। পিপিএ-২০০৬ এর ৩(২) (ঘ) অনুযায়ী, ‘কোনো উন্নয়ন সহযোগী বিদেশি রাষ্ট্র বা সংস্থার সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত কোনো ঋণ, অনুদান বা অন্য কোনো চুক্তির অধীন কোনো পণ্য, কার্য বা সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত প্রাধান‌্য পাবে’। এ ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সম্পাদিত ঋণ চুক্তি অনুযায়ী ক্রয় কার্যক্রমে বিশ্বব্যাংকের প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশনের প্রাধান্য আছে। সম্পাদিত ঋণচুক্তি অনুযায়ী সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের প্রয়োজন নেই বলে প্রস্তাবটির সারসংক্ষেপে উল্লেখ করা হয়েছে।

সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্বল্প সময়ে অধিকতর সুবিধার জন‌্য বিশ্বব্যাংকের প্রকিউরমেন্ট রেগুলেশনের আর্টিকেল ৬.৪৭, ৬.৪৮, ৭.২৭ এবং ৭.২৮-এ বর্ণিত নির্দেশনাগুলো অনুসরণ করে ইউএনএফপিএ কর্তৃক আউটসোর্সিং পদ্ধতিতে সেবাগুলো ক্রয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা চলমান কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব পরবর্তী সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।