২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৩ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

৪০৬১ জন নার্স প্রণোদনা পাবেন


ফটোনিউজবিডি ডেস্ক: | PhotoNewsBD

১৮ জুন, ২০২১, ১:৫৮ অপরাহ্ণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে করোনা আক্রান্তদের সেবায় নিয়োজিত ৪০৬১ জন নার্স প্রণোদনা পাবেন। তাদের দুই মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ প্রণোদনা হিসেবে দেওয়া হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে ১৬ কোটি ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪১ টাকা।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, করোনাকালে স্বাস্থ্যকর্মীসহ প্রথম সারির যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়াতে সরকার ঘোষিত পদক্ষেপের অংশ হিসাবে যে ১৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে সেখান থেকে এই অর্থ দেওয়া হবে।

এদিকে বুধবার জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘গত বছর করোনভাইরাস মহামারি চলাকালীন সাহসী কাজের জন্য ৪,০৬১ নার্সের দুই মাসের বুনিয়াদি বেতনের জন্য সরকার ১৬ কোটি ৯৪ লাখ ৭৯ হাজার ৫৪১ টাকা অবমুক্ত করেছে।’

সরকার ঘোষিত এবারের প্রণোদনা সারা দেশে ১৯টি সরকারি হাসপাতালের নার্সরা পাবেন।

প্রণোদনা প্রাপ্ত হাসপাতালের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতাল-১,বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি উইনিট (ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল), মাদারীপুর সদর হাসপাতাল, নরসিংদী সদর হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ফুলবাড়িয়া সরকারি কর্মচারী হাসপাতাল, ১০০ শয্যা মানিকগঞ্জ হাসপাতাল, ১০০ শয্যা শরীয়তপুর হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, নেত্রকোনা জেলা সদর হাসপাতাল, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল, ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল টাঙ্গাইল, নওগাঁ জেলা সদর হাসপাতাল, যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, কক্সবাজার ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল (হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল ইউনিট-১), এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল।

এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৩১৮ জন চিকিৎসক এবং ৪৮ জন স্বাস্থ্যকর্মী দুই মাসের জন্য প্রণোদনা ভাতা পাবেন। এজন্য আরও ২ কোটি ৮২ লাখ ৮৮ হাজার ৩১০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ৮০২ জন চিকিৎসক, ৪৪৫ জন নার্স এবং ৫২৬ জন স্বাস্থ্যকর্মী ২ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ প্রণোদনা পান। তখন মোট খরচ হয়েছিল ৯ কোটি ২০ লাখ টাকা।

গত বছরের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা মোকাবেলায় নিয়োজিত ফ্রন্টলাইনের কর্মীদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ এবং ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন যারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা আক্রান্তদের সেবা করছেন তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সরকারি প্রত্যেক স্বাস্থ্য কর্মীদের বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হবে। তারই আলোকে গঠিত তহবিল থেকে এই প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।

তবে এ বিষয়ে কয়েকটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্তের মধ্যে রয়েছে,শুধুমাত্র সরকারি ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী এ সম্মানি পাবেন। আউটসোর্সিং বা অন্য কোন ভাবে নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এ সম্মানি দেওয়া যাবে না। এটা এককালীন প্রদেয়।